ঢাকা, শনিবার 08 March 2017, ২৫ চৈত্র ১৪২৩, ১০ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কালিয়াকৈরে চার শতাধিক গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা

কালিয়াকৈর সংবাদদাতা : গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার গাছবাড়ী এলাকায় বৃহস্পতিবার চোর সন্দেহে গণপিটুনীতে একজন নিহতের ঘটনায় কালিয়াকৈর থানায় চার শতাধিক অজ্ঞাত গ্রামবাসীকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে নিহত হওয়ার ঘটনায় গাছবাড়ী এলাকার অজ্ঞাত পরিচয় চার থেকে সাড়ে চার শতাধিক গ্রামবাসীকে আসামী করে কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
অপর দিকে একই দিন পুলিশকে মারধর ও পুলিশের কাজে বাধা দেয়া এবং গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একই এলাকার তিন থেকে সাড়ে তিন শতাধিক গ্রামবাসীকে আসামী করে কালিয়াকৈর থানাধীন ফুলবাড়ীয় পুলিশ ক্যাম্পের সদ্য প্রত্যাহার হওয়া ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক(এসআই) মোঃ বকুল হোসেন অপর মামলাটি করেছেন।
প্রসঙ্গত,বেশ কিছু দিন ধরে কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন ফুলবাড়িয়া, খলিসাজানি, পাবুরিয়াচালা, চাবাগান, রামচন্দ্রপুর, বোয়ালী, নয়াপাড়া, কাচিঘাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় নিয়মিত গরু চুরি করে যাচ্ছে একটি চোরচক্র। গত বুধবার রাতে উপজেলার গাছবাড়ি এলাকার আব্দুল মালেকের একটি গরু চুরি করে একটি কভারভ্যানে উঠায় একদল চোর। পরে তারা আশপাশের আরো কয়েকটি বাড়ির গরু চুরির চেষ্টা চালায়। বৃহস্পতিবার ভোর ৩টার দিকে উপজেলার গাজবাড়ি এলাকার রাজিব মিয়ার একটি মৎস খামারে মাছ ধরতে যাচ্ছিল ১০-১২ জন লোক। এ সময় পাশের একটি গজারি বনে কয়েকজন লোকের ঘুরাঘুরি করতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরে তারা আশপাশের লোকজনকে ঘুম থেকে ডেকে তোলে বিষয়টি অবগত করে। এসময় স্থানীয় মসজিদের মাইকে এলাকায় চোর পড়েছে এমন মাইকিং করা হলে এলাকার লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে জড়ো হয়। পরে তারা ধাওয়া দিয়ে চোর সন্দেহে চারজনকে আটক করে গণপিটুনি দেয় এবং একটি গরু উদ্ধার করে। এসময় উত্তেজিত জনতা চোরদের বহনকরা একটি কভারভ্যান আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এঘটনায় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার লক্ষীরচর গ্রামের রিপন মিয়ার ছেলে মোজাম্মেল হক (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়।
চাঁদপুর সদর উপজেলার চর মাথুরা গ্রামে আব্দুর রউফ মিয়ার ছেলে সাগর মিয়া (৩৫), ঢাকার দোহার খালপাড় এলাকার তোতা মিয়ার ছেলে মানিক মিয়া(৩৫) এবং ভূলা সদর উপজেলার ইলিশা গ্রামের সিদ্দিক মিয়ার ছেলে আশিক হোসেন (২০) আহত হয়।
পুলিশ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে লাশ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় এবং আহতদের কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
খবর পেয়ে ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শ (এসআই) বকুল হোসেন দুইজন কনস্টেবল নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই এলাকাবাসীর উপর লাঠি চার্জ করে এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়। এতে এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে উঠে এবং পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে এলাকাবাসী ওই এসআই বকুল হোসেনকে গণপিটুনি দিয়ে পাবুরিয়াচালা উজ্জল যুব সংঘ ক্লাবের ভিতরে আটকে অবরোধ করে রাখে।
সকাল ১০ টার দিকে কালিয়াকৈর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল মোতালেব মিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ফুলবাড়িয়া ক্যাম্পের ইনচার্জকে প্রত্যাহার করলে এলাকাবাসী অবরোধ ওই এস আইকে ছেড়ে দেয় ।
কালিয়াকৈর থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, এসআই মনিরুল ইসলাম ও এসআই বকুল হোসেন চার থেকে সাড়ে চারশত অজ্ঞাত পরিচয় গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। তদন্ত হচ্ছে প্রয়োজনে আরও মামলা হতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ