ঢাকা, শনিবার 08 March 2017, ২৫ চৈত্র ১৪২৩, ১০ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রাজশাহী মেডিকেলে ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষে আহত ২ ॥ আটক ৫

রাজশাহী অফিস : জোরপূর্বক র‌্যাগ ডে-র চাঁদা আদায়ের জের ধরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হোস্টেলে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের উপর ছাত্রলীগের হামলায় ২ জন আহত হয়। পরে পুলিশ ৫ জনকে আটক করে। বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, শিবির কর্মী হাবিবুর রহমান ও হেলাল উদ্দীন। আহতাবস্থায় তাদেরকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের আটক করে পুলিশ। আটক অপর তিনজন হলেন, শিবির কর্মী ফয়সাল রাহাত, মিজানুর রহমান ও গোলাম রাব্বী। রামেক হোস্টেলে তল্লাশি চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
রামেকের ইণ্টার্নি হোস্টেল সূত্র জানায়, র‌্যাগ ডে পালন উপলক্ষে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছিলেন ছাত্রলীগ কর্মীরা। কিন্তু ছাত্রশিবিরের কর্মীরা ও সাধারণ অনেক শিক্ষার্থী এ চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ নিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের সাথে শিবির কর্মীদের তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে দুই শিবির কর্মী আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাজপাড়া থানার পুলিশ জানায়, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। পুলিশ পাঁচজনকে আটক করেছে।
শিবিরের প্রতিবাদ : এদিকে, ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী মহানগরী সভাপতি আব্দুল্লাাহ জোবায়ের ও সেক্রেটারি মনিরুল ইসলাম এক বিবৃতিতে দাবি করেন, রামেক ছাত্রলীগ সভাপতি শফিকুল ইসলাম অপু, সহ-সভাপতি রায়হান শরিফ ও সেক্রেটারি মির্জা কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ইন্টার্নি হোস্টেলের শিবির কর্মী ও সাধারণ ছাত্রদের উপর হামলা করা হয়। তারা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা মেডিকেল ইন্টার্নি হোস্টেলে চাঁদা তুলতে যায়। সাধারণ ছাত্ররা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা ইন্টার্নি হোস্টেলের শিবির কর্মী ও সাধারণ ছাত্রদের উপর হামলা চালায়। এ সময় তিন শিবির কর্মী গুরুতর আহত হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। তারা সাধারণ ছাত্রদের প্রায় ১০-১৫ টি রুম ভাংচুর করে এবং সাধারণ ছাত্রদের কাছ থেকে মোবাইল ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। এ সময় খবর পেয়ে পুলিশ আসে। কিন্তু আর্শ্চযজনকভাবে পুলিশ সাধারণ ছাত্রদের পক্ষ না নিয়ে ছাত্রলীগের পক্ষ নিয়ে শিবির কর্মী ও সাধারণসহ ৫ জন ছাত্রকে গ্রেফতার করে। শিবির নেতৃবৃন্দ ছাত্রলীগের ছাত্রসমাজবিরোধী বর্বর কর্মকা-ের ও প্রশাসনের নিরব ভূমিকার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে নিয়ে আসার আহবান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ