ঢাকা, শনিবার 08 March 2017, ২৫ চৈত্র ১৪২৩, ১০ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দক্ষিণাঞ্চলে মাসে ১৪শ’ শিশু আক্রান্ত হচ্ছে ছয়টি রোগে

খুলনা অফিস : দক্ষিণাঞ্চলের আট জেলায় প্রতিমাসে গড়ে ১৪শ’ শিশু ছয়টি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। একদিন বয়স থেকে শুরু করে ৯ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে। অপুষ্টি, অপরিচ্ছন্নতা, ওজনে কম, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং কবিরাজি ওষুধ পান করা রোগাক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ। মাসে মৃত্যুর সংখ্যা গড়ে ৫০ জন।
শিশু হাসপাতালের সূত্র জানায়, নড়াইল, যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, পিরোজপুর এবং খুলনার বিভিন্ন উপজেলা থেকে রোগাক্রান্ত শিশুরা স্থানীয় শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
সূত্রের দেয়া তথ্যানুযায়ী, এ বছর জানুয়ারি মাসে এক হাজার ৪৫১ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে এক হাজার ৪১০ জন, মার্চ মাসে এক হাজার ৪৯৪ জন শিশু খুলনা শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়।
হাসপাতালের রেকর্ড অনুযায়ী, গেল বছরের জানুয়ারি মাসে এক হাজার ৪৭৪ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে এক হাজার ৪৩৯ জন, মার্চ মাসে এক হাজার ৪৮৫ জন, এপ্রিল মাসে এক হাজার ৪৭২ জন, মে মাসে এক হাজার ৪৬২ জন, জুন মাসে এক হাজার ৩২৫ জন, জুলাই মাসে এক হাজার ৪শ’, আগস্ট মাসে এক হাজার ৪৭৩ জন, সেপ্টেম্বর মাসে এক হাজার ২০৬ জন, অক্টোবর মাসে এক হাজার ২৩৮ জন, নবেম্বর মাসে এক হাজার ১৮০ জন, ডিসেম্বর মাসে এক হাজার ৩৪৮ জন শিশু রোগান্ত হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করে। শিশুরা নিউমোনিয়া, পেটের ব্যথা, ডায়রিয়া, থ্যালাসেমিয়া, এ্যান্টারফিবার, জ্বর এবং কিডনিতে আক্রান্ত হচ্ছে।
অপরাপর সূত্রগুলো জানায়, গর্ভবতী মা অপুষ্টিতে থাকার জন্য শিশুদের ওজন কম হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে শিশু জন্ম নেয়ার পর আবহাওয়া পরিবর্তন জনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে কবিরাজের স্মরণাপন্ন হয়। তেলপড়া ও পানি পড়াতে নিরাময় না হয়ে শিশু আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. মোজাম্মেল হক বলেন, উপকূল এলাকায় একশ’ শতাংশ বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব। সে কারণে উপকূল অঞ্চলে শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। সুষম খাদ্যের অভাবে অপুষ্টিতে ভোগায় শিশুরা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।
রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাসুম ইকবাল বলেন, বাবা-মায়ের অসচেতনতার কারণে শিশুদের রোগের পরিমাণ বাড়ছে। কমিউনিটি ক্লিনিক এবং স্বাস্থ্য সহকারিরা জনগণের দোড়গোড়ায় স্বাস্থ্য বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। রামপাল ও মংলা এলাকায় শিশুদের ডায়রিয়ার পরিমাণ কমেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ