ঢাকা, শনিবার 08 March 2017, ২৫ চৈত্র ১৪২৩, ১০ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঝালকাঠির একাধিক স্থানে চলছে সরকারি জমি দখল করে যানবাহন তৈরীর কাজ

ঝালকাঠি সংবাদদাতা: ঝালকাঠি জেলার বিভিন্ন স্থানে সরকারি জমি দখল করে চলছে যানবাহন তৈরীর কাজ। যাতে ধর্মীয় ইবাদতে ব্যাঘাতসহ শব্দ দূষণে অতিষ্ট হচ্ছে এলাকাবাসী।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার ষাটপাকিয়া বাজারের কাছে বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সরকারি জমি দখল করে ২ টি ওয়ার্কশপ গড়ে উঠেছে। যে জমি ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে। ষাটপাকিয়া বাজার সংলগ্ন পশ্চিম পাশে মেসার্স মা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ রয়েছে।
যেখানে নতুন গাড়ির বডি তৈরী ও পুরাতন গাড়ির মেরামতের কাজ করা হয়ে থাকে। ওয়ার্কশপ সংলগ্ন পূর্ব পাশে রয়েছে ষাটপাকিয়া বাজার জামে মসজিদ। গাড়ির কাজের সময় শ্রমিকদের হাতুড়ি পেটার ঝন ঝন শব্দ মুসল্লিদের ইবাদতে বাধাগ্রস্ত বলে অভিযোগ করেছেন তারা। এছাড়াও শব্দ দূষণে নাকাল হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। ষাটপাকিয়া বাজার থেকে ৫০ গজ পশ্চিমে রয়েছে আরেকটি ওয়ার্কশপ। সেখানেও নতুন গাড়ির বডি তৈরী ও পুরাতন গাড়ির মেরামতের কাজ করা হয়ে থাকে। ঝালকাঠি শহরের কৃষ্ণকাঠি গুরুধাম এলাকার কবিরাজবাড়ি রোডে (খামার বাড়ি) প্রবেশের পশ্চিম পাশে আরেকটি নতুন গাড়ির বডি তৈরী করা হচ্ছে।
এ সকল গাড়ি তৈরী ও সংস্কার কাজে ব্যবহৃত সকল জমির মালিক সড়ক ও জনপথ বিভাগ। যা কর্তৃপক্ষের কোন অনুমতি না নিয়ে এ জমি ব্যবহার করা হচ্ছে। অপরদিকে মালিকরা নতুন গাড়ি তৈরী করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এর নিয়মানুযায়ী সকল শর্ত পূরণ করে অনুমতি নিচ্ছে। অনুমতি পাবার পরে গাড়ি সংস্কারের নামে গাড়ির মধ্যে আসনবিন্যাস মালিকের ইচ্ছেমত করা হয়ে থাকে। যার ফলে গাড়ির আসনে চাপাচাপি করে যাত্রীদের বসতে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। গাড়ির দু’আসনের মাঝের স্থান এতটাই সঙ্কুচিত করে রাখে তাতে স্বাভাবিকভাবে যাত্রীরা বসতে পারছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে যাত্রীদের।
মেসার্স মা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের সত্ত্বাধিকারী মোঃ জাহাঙ্গির হোসেন জানান, ওয়ার্কশপের জমি আমার না। ওটা সড়ক ও জনপথ বিভাগের। ওর পিছনের জমি আমার। অন্যান্য লোকজন যেভাবে রাস্তার পাশে দোকান বসিয়ে ব্যবসা করে আমিও সেভাবে ব্যবসা করছি।
ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ নাবিল হোসেন জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের বেদখল হওয়া জমিগুলো উদ্ধারের জন্য প্রক্রিয়া আছে। শিঘ্রই উদ্ধার প্রক্রিয়া তরান্বিত করার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রেরণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ