ঢাকা, শনিবার 08 March 2017, ২৫ চৈত্র ১৪২৩, ১০ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চিৎকার করিয়া কাঁদিতে চাহিয়া.....

জিবলু রহমান : [ তিন ]
রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে অপহরণ মামলা হয়েছে ১৭টি, ফেব্রুয়ারিতে ১৮টি ও মার্চে ১৫টি। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে অপহরণসংক্রান্ত মামলা ছিল চারটি, নভেম্বরে ১৫টি, অক্টোবরে ১২টি, সেপ্টেম্বরে ২৩টি, আগস্টে ১৮টি, জুলাইয়ে ১৪টি, জুনে ১২টি, মে মাসে আটটি, এপ্রিলে ১৪টি, মার্চে ১৫টি, ফেব্রুয়ারিতে ১৪টি ও জানুয়ারিতে ১৭টি। বছর ও মাসের ব্যবধানে এ সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা নেই। তবে মামলার বাইরে অপহরণের ঘটনা রয়েছে কয়েক গুণ বেশি। বেশির ভাগই থানায় সাধারণ ডায়েরি হিসেবে নথিভুক্ত। অপহরণ অথবা নিখোঁজের বেশির ভাগ ঘটনা নানাভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে। (সূত্রঃ দৈনিক কালের কন্ঠ ২৮ এপ্রিল ২০১৪)
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার (বিএমবিএস) তথ্যানুসারে, ২০১৪ সালে দেশে ৫০৪ নারী-পুরুষ অপহৃত হন। ওই বছর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় অজ্ঞাতপরিচয় চার শতাধিক লাশ। এদের বেশির ভাগই নিখোঁজ ছিলেন। আর চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাওয়া গেছে ৭৬ জন অজ্ঞাতপরিচয়ের লাশ।
৮ মে ২০১৪ গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের  বৈঠক শেষে গুম-খুনের ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি সংকট হচ্ছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, গুম বলে কোনো শব্দ নেই, শব্দটি হবে নিখোঁজ। বাংলাদেশে প্রতিদিনই মানুষ নিখোঁজ হচ্ছে। আগে গুম শব্দটা ছিল না। তিনি বলেন, ‘গুম সারা পৃথিবীতেই হয়। মানুষ নিখোঁজ হয় সারা পৃথিবীতে। এতো বড় প্লেন (মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমান) আড়াইশ’ যাত্রী নিয়ে এতো দিন ধরে নিখোঁজ!’
সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘এদেশে মানুষ নিখোঁজ হয়, তাদের সন্ধানও পাওয়া যায়। বাংলাদেশ কোনো ব্যতিক্রমী দেশ না, এখানেও অপরাধ ঘটে। অপরাধের তদন্ত করা হয়, আসামিদের শনাক্ত করা হয় এবং আদালতের রায় বাস্তবায়ন করা হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের ঘটনা তদন্তে যাদের নামই বেরিয়ে আসুক, চলমান আইন অনুযায়ী তাদের বিচার করা হবে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
দেশে আইনের শাসন আছে দাবি করে আওয়ামী লীগ মুখপাত্র বলেন, ‘অপরাধীদের আইনের মুখোমুখি হতেই হবে। এ ধরনের ঘটনা যারা ঘটাবে, তাদের আইনের মুখোমুখি করতে সরকার সচেষ্ট ছিল, আছে এবং থাকবে।’ (সূত্রঃ দৈনিক আমার দেশ ৯ মে ২০১৪)
অনেক গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তির স্বজনরা মামলা দায়েরের সুযোগও পাননি। তাদের কান্না আর ফরিয়াদও যেন গুম হয়ে গেছে। লাকসাম বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা সাইফুল ইসলাম হিরু এবং হুমায়ূন কবির। নিখোঁজের পরপরই তাদের স্বজনরা থানায় গিয়েছিলেন র‌্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার জন্য। কিন্তু তাদের সে অভিযোগ গ্রহণ করেনি থানা। (সূত্রঃ দৈনিক মানব জমিন ১৪ মে ২০১৪)
বাংলাদেশে অপহরণের জন্য নিরাপত্তা বাহিনী দায়ী বলে মন্তব্য করা হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক ভিডিও চিত্রে। এতে একই সঙ্গে বাংলাদেশে অপহরণ বাড়ছে উল্লেখ করে ২০১৪ সালেই অর্ধশতাধিক রাজনৈতিক কর্মী অপহরণের শিকার হয় বলে জানানো হয়।
১৩ মে ২০১৪ আলজাজিরার ওয়েবসাইটে ভিডিও চিত্রটি প্রকাশ করা হয়। অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বিরোধী দলের কিংবা ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী অংশের সদস্য বলেও ভিডিও চিত্রে উল্লেখ করা হয়।
অপহরণের শিকার গ্রুপগুলোর নেতা ও কর্মীরা জানিয়েছেন, তারা এখন নিরাপত্তার জন্য দল বেঁধে চলাফেরা করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, মানবাধিকার গ্রুপগুলো গুমের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে দায়ী করছে। আলজাজিরার মাহের সাত্তার নারায়ণগঞ্জ থেকে ভিডিও চিত্রটি তৈরি করেন। (সূত্রঃ দৈনিক আমার দেশ ১৪ মে ২০১৪)
বাসা থেকে ধরে নিয়ে অস্বীকার করা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। পরে এসব মানুষের লাশ পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ এসব ঘটনাকে চালিয়ে দিচ্ছে বন্দুকযুদ্ধ বলে। এমনই ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের ক্ষেত্রে। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তার পরিবারের সদস্যরা। রংপুরে পুলিশের গুলীতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ইউনিয়ন সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ছাত্রশিবির সেক্রেটারি নাজমুল হুদা লাভলু (৩০) নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নির্যাতনে মারাত্মক আহত আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদুল আলম সবুজ। তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে পুলিশ তাকে সাজানো মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি গুম-খুন এবং নির্যাতনে অংশ নিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এক্ষেত্রে বিরোধী মতের লোকজনের সঙ্গে ভয়াবহ অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। কাউকে গুলী করে হত্যা করে বন্দুক যুদ্ধের নাটক সাজাচ্ছে। আবার কাউকে কাউকে ধরে নিয়ে অস্বীকার করে পরিবারকে লাশ উপহার দিচ্ছে। আবার কারো কারো ক্ষেত্রে অমানুষিক নির্যাতন করে পুলিশের কাছে সমর্পণ করছে। আগে কেবল আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী করলেও সাম্প্রতিক সময়ে গুম খুন এবং অমানবিক নির্যাতনে অংশ নিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এসব করে যেন তারা বিরোধী মতের মানুষের রক্ত নিয়ে হলি খেলায় মেতে উঠেছে। এসব ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন নির্যাতনের শিকার পরিবার এবং দেশের সাধারণ মানুষ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন হলেও আইন কারো কাছ থেকেই ন্যূনতম সহায়তাটুকু পাচ্ছে না। উল্টো তাদের বিরুদ্ধে দেয়া হচ্ছে ভয়াবহতম অপবাদ। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন সকল জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে চলে গেছে। ভাবখানা এমন যে তাদের আর কোনদিন জবাব দিতে হবে না। তারা সব সময় ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাবেন। আইন আদালত ভবিষ্যতে তাদের টিকিটিও ধরতে পারবে না। চিরদিন ক্ষমতায়  থেকে যাবেন তারা।
৯ মার্চ ২০১৫ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনকে গ্রেফতারের পর আদালতে উপস্থাপন না করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তার পরিবারের সদস্যরা।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের পরিবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের আশংকা খোকনকে গ্রেফতারের পর অস্বীকার করায় যে কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা মনে করি, দেশে যেভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে গ্রেফতারের পর অস্বীকারের এবং পরবর্তীতে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ মিথ্যা গল্প ফেঁদে হত্যা করার যে রেওয়াজ চালু হয়েছে তাতে এখন রাষ্ট্রেও কোন নাগরিকেরই জানমালের নিরাপত্তা নেই।
আমাদের বক্তব্য-ছাত্রনেতা আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন-এর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হোক। অন্যথায় আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের কোনো ক্ষতি হলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারকে সম্পূর্ণরূপে এর দায়-দায়িত্ব বহন করতে হবে। আমরা অবিলম্বে আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের অবস্থান তার পরিবারের নিকট ফিরিয়ে দেয়া অথবা তাকে আদালতে উপস্থাপনের জোর দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে খোকনকে ৬ মার্চ ২০১৫ রাজধানীর শুক্রাবাদ এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতারের পর আইন-শৃংখলা বাহিনী তা স্বীকার না করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) আলতাফ হোসেন চৌধুরী। তিনি অবিলম্বে তাকে আদালতে উপস্থাপনের দাবি জানান। ৮ মার্চ রাতে এক বিবৃতিতে আলতাফ হোসেন চৌধুরী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, খোকনকে আটক এবং পরে তা অস্বীকার করায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
রংপুর জেলার মিঠাপুকুরের বলদিপুকুরে পুলিশের গুলীতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ইউনিয়ন সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ছাত্রশিবির সেক্রেটারি নাজমুল হুদা লাভলু (৩০) নিহত হয়েছেন। নিহতের পরিবারের দাবি তাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে পুলিশ গুলী করে হত্যা করেছে। এ ঘটনার বিচার দাবি করেছে জামায়াত ও শিবির নেতৃবৃন্দ।
নিহত লাবলু শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মিঠাপুকুর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের সভাপতি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক উপজেলা সেক্রেটারি। তিনি উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের নুরুন্নবী শাহ-এর পুত্র।
নিহতের বড় দুলাভাই মাসুদ জানান, ‘৮ মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাটের কালানুর শাহপুর গ্রামে আমার বাড়ি থেকে সাদা পোশাকের আইন-শৃংখলা বাহিনী আমার ভাই নাজমুল হুদা লাবলুকে অস্ত্রের মুখে ধরে নিয়ে যায়। পরে রাত সাড়ে ৩টায় মিঠাপুকুরের বলদিপুকুরে নিয়ে গিয়ে তাকে পুলিশ গুলী করে হত্যা করে। পরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার লাশ রাখে। তারা জানান, তার ডান চোখে গুলী করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা নুরুন্নবী শাহ জানিয়েছেন, পুলিশ আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে হত্যা করে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়েছে। এ ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা রাশেদুল আলম সবুজ।  ৯ মার্চ ২০১৫ দুপুরে নতুনহাট এলাকায় রাস্তা থেকে উঠিয়ে নিয়ে বেদম মারপিট করে আহত করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। এ সময় তার মোটরসাইকেল, মোবাইল ও টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয় তারা। পুলিশ তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দিলেও ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
রাশেদুল আলম জানান-আক্কেলপুরে একটি জানাযা শেষে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইন-শৃংখলা কমিটির সভায় যোগদানের উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলযোগে জয়পুরহাটের পথে রওনা দেন। তিনি জয়পুরহাট-আক্কেলপুর সড়কের পাকারমাথা নামক স্থানে পৌছলে ওঁতপেতে থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসীরা তার পথরোধ করে তাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। জয়পুরহাট পৌরসভার নতুনহাট এলাকায় নিয়ে তাকে লোহার রড, লাঠি, হকিস্টিক ও ইট দিয়ে বেদম মারপিট করে জখম করে। মারাত্মকভাবে আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পুলিশ তাকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসাপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের (রেফার্ড) পরামর্শ দিলেও স্থানান্তর না করে তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করে। কোর্ট তাকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে বলে আক্কেপুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা জানিয়েছেন। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ায় পাঠানো হয়।
আদালতে দাখিলকৃত পুলিশ রিপোর্টে জানা গেছে- হরতালের সমর্থনে মিছিলকালে জনগণ রাশেদুল আলম সবুজকে ধরে মারপিট করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। জয়পুরহাট সদর থানার ওসি (তদন্ত) সিরাজুল ইসলাম জানান-জনগণ রাশেদুল আলম সবুজকে গণধোলাই দিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে লোকজন সরে পড়ে। পুলিশ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। (সূত্রঃ দৈনিক সংগ্রাম ১০ মার্চ ২০১৫)
২০১৫ সালের জানুয়ারির মধ্যভাগ থেকে মার্চে শেষ পর্যন্ত আড়াই মাসে ৩৬ নেতা-কর্মী নিখোঁজ হন বলে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। এর মধ্যে চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। আদালতে তোলা হয়েছে ১৪ জনকে। এখনো খোঁজ মেলেনি অন্যদের। এই নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবার অভিযোগ করে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তাদের স্বজনদের তুলে নেওয়া হয়েছে।  (সূত্রঃ দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ৪ এপ্রিল ২০১৫)
বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত ৫ জানুয়ারি প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনে বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালনে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, র‌্যাব, পুলিশসহ সাদা পোশাকে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের হাতে গত তিন মাসে ৭৮ জন প্রাণ হারিয়েছে, যার মধ্যে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীর সংখ্যা ৪৩ জন। এসব হত্যাকান্ডের মধ্যে রংপুর, কুড়িগ্রাম, রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী, বরিশালে উজিরপুর, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলার নেতা-কর্মী ও জনসাধারণ রয়েছে।
এছাড়া ২০১৫  সালের জানুয়ারি-মার্চ, তিন মাসে ২০ হাজার ৭৮৯ জন নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ গ্রেফতার হয়েছেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে ১০ লাখের অধিক নেতা-কর্মী। এর বাইরে মামলায় অজ্ঞাতসংখ্যক লোককে আসামি তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। [চলবে]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ