ঢাকা, রোববার 09 March 2017, ২৬ চৈত্র ১৪২৩, ১১ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পাইকগাছা জেলখানার জন্য নির্মিত উচ্চ প্রাচীরবেষ্টিত ভবনসহ সম্পদ-সম্পত্তি যথেচ্ছা ব্যবহার হচ্ছে!

 

খুলনা অফিস : খুলনার পাইকগাছায় আদালতের পাশে বিশাল আয়তনের জেলখানার জন্য নির্মিত উচ্চ প্রাচীরবেষ্টিত ভবনসহ সম্পদ-সম্পত্তি যথেচ্ছা ব্যবহার হচ্ছে বলে জানা গেছে। সরকার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নিলেও ৩৪ বছরের মধ্যে কোনটিও বাস্তবায়ন হয়নি। বিভিন্ন আয়ের খাত থাকলেও রাজস্ব খাতে জমা পড়েনি কোন অর্থ। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খুলনা জেলা সদর থেকে পাইকগাছার দূরত্ব ও গুরুত্ব ভেবে সরকার পাইকগাছায় জেলখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৮৪ সালের ২৯ মে বাতিখালী মৌজায় এর জন্য ২ দশমিক ২৫ একর জমি অধিগ্রহণ করে। অধিগ্রহণের ১৩ বছর পর্যন্ত জেলখানার জন্য ও চারিদিকে প্রাচীর নির্মাণ করলেও তা যথেচ্ছা ব্যবহার হয়েছে। ২০০৩ সালে ১০ মে সরকার শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র কিশোর অপরাধীর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২১১ স্মারকে মহাপরিচালক, সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাছে জায়গাটি হস্তান্তর করে। যা উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর ২০০৫ সালের ৫ জানুয়ারি ২৩৬/৫৬/০৫ স্মারকে দায়িত্ব গ্রহণ করে। তাও বাস্তবে রূপ নেয়নি। পরবর্তীতে সরকার ২০১৩ সালের ৬ মে শেখ রাসেল ট্রেনিং এ- রিহেবিলিটেশান সেন্টার ফর দ্যা ডেস্টিটিউট চিল্ড্রেন প্রকল্প প্রণয়নের জন্য পরিচালক প্রশাসন ও অর্থ প্রস্তাব চেয়ে পাঠান।

সরকারের কোন পদক্ষেপ বাস্তবে রূপ না নেয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ২০১২ সালের ২২ জুলাই ৮২৮ স্মারকে সিনিয়র সহকারী কমিশনার জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট, খুলনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পত্র পাঠায়। যার জবাবে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর ৮৩৪ স্মারকে সাব-জেল চালু করার জন্য পত্র প্রেরণ করেন। অদ্যাবধি সেটাও আলোর মুখ দেখেনি। বার বার সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিলেও কোন পদক্ষেপ অদ্যাবধি কার্যকর হয়নি। বরং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন স্মারকে পত্র চালাচালী হয়েছে বার বার।

এদিকে উক্ত সম্পত্তি ও ভবন সহ সবকিছুই ২০০৪ সাল থেকে দেখভাল করে চলেছে সরল গ্রামের নৈমুদ্দীন গাজীর ছেলে আবুল শেখ। সেখান থেকে উৎপাদিত ফসল সহ সব কিছু তিনি ভোগজাত করছেন। জেলখানার জন্য নির্মিত ৩টি কোয়ার্টার, ৪টি বড় কক্ষ বিনা ভাড়ায় স্থানীয় জজ কোর্টের কর্মচারী ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের ১০/১২ জন কর্মচারী বসবাস করছে। যেখান থেকে সরকারের বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা আয়ের সম্ভাবনা থাকলেও রাজস্ব খাতে জমা হয়নি একটি টাকাও।

এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট স.ম. বাবর আলী ক্ষোভ করে বলেন, বাস্তবতায় এটা দেখার কেউ নেই। সরকার কেন এবং কি জন্য এটা দেখাশুনা করছেন না সে টা আমার বোধগম্য নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ