ঢাকা, রোববার 09 March 2017, ২৬ চৈত্র ১৪২৩, ১১ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চিরিরবন্দরে টিকতে পারছে না বাঁশ শিল্পীর ৪০ পরিবার

 

চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা : দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে প্রতিযোগিতায় কুলাতে পারছে না বাঁশ শিল্পীর ৪০ পরিবার। হারিয়ে যেতে বসেছে উপজেলার আলোকডিহি ইউনিয়নের মালিপাড়ায় ৯০ বছরের পুরোনো এই বাঁশ শিল্প। এক সময় শহর ও গ্রাম সবখানে বাঁশের তৈরি আসবাবপত্রের ব্যবহার ছিলো। বাড়িতে মেহমান আসলে মোড়ায় বসতে দেয়ার দৃশ্য এখন আর দেখা যায় না। এখনকার মানুষ এগুলোকে সেকেলে ভাবে। তবুও পূর্ব পুরুষের শেখানো এ কাজ এখনও করে যাচ্ছে তারা,তবে বাণিজ্যিকভাবে নয়, নিজেদের ব্যবহারের জন্য ও খুচরা দু’একটি বিক্রির উদ্দেশ্যে।

আগেরদিনে শহর-গ্রামে প্রতিটি বাড়িতে বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র ছাড়া যেন কল্পনাও করা যেত না। কিন্তু কালের আর্বতনে আমাদের বাঁশ শিল্প এখন মৃত প্রায়। বর্তমানে প্লাস্টিকের চেয়ার দখল করেছে মোড়ার স্থান। রান্নাঘরেও ঢুকেছে বাঁশের পরিবর্তে লোহার পাত দ্বারা তৈরি মিটসেফ। চিরিরবন্দরের অনেক মালি পরিবার পূর্ব পুরুষের পেশা ছেড়ে চলে গেছে অন্য পেশায়। কিন্তু এখনও এ শিল্পকে আঁকড়ে স্বল্প সংখ্যক শিল্পী যারা পূর্ব পুরুষের শেখানো কাজের ওপর মেধা ও শ্রম দিয়ে দিয়ে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন মৃতপ্রায় এ শিল্পটিকে। চিরিরবন্দরের কুটির পাড়ার দুলাল দাস, বেনু বালা, বাবু, পরিমল, ভানু দাস তাদের কয়েক জন।

উপজেলার মালি পাড়ার বাঁশ শিল্পী দুলাল মালি জানান, বর্ষাকালে আগের মতো পানি না হওয়ায় এবং কৃষিতে কীটনাশকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে খাল বিলে মাছ না থাকায় মাছ ধরার ফাঁদ তৈরি করা বাদ দিয়েছেন অনেক আগে। এদিকে কৃষক আর গোলা ভরে ধানও রাখতে পারেনা কারণ ধান ওঠার সাথে সাথে বিক্রি করে উৎপাদন ব্যয় পরিশোধ করতে হয়। কাজেই ব্যবহার কমেছে গোলা আর ডোলের। তাই এখন ঝুড়ি, টেলি, কাঁচা ও চাটাই এর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে চিরিরবন্দরের বাঁশ শিল্প।

বাঁশ শিল্পী বাবু জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তিনি এ পেশায় আছেন। লাভ কম হলেও মাঠে কৃষি জমি না থাকায় এখনও এ পেশায় জড়িত থাকতে হচ্ছে তাকে। মালি পাড়ার বেরেন রায় ও ববিতা রায় জানান, তারা স্বামী স্ত্রী ২ জনে মিলে দিনে ৫/৬টি কাঁচা তৈরি করে। প্রত্যেকটি কাঁচা ৬০ টাকা দরে বিক্রি করে। এতে কাঁচা প্রতি ২৫ টাকা করে লাভ থাকে। এদিয়েই কোন রকমে চলছে তাদের সংসার। তবে এ শিল্পের চাহিদা কমতে থাকায় অনেক পরিবার বর্তমানে পূর্ব পুরুষের পেশা ছেড়ে এখন অন্য পেশায় গেছেন। কুটির পাড়ার ভানু দাস ও আলতা দাস জানান, তাদের ছেলেরা এখন রাজমিস্তির কাজ করেন। পূর্ব পুরুষের পেশা ছাড়তে কষ্ট হয় তাই তারা দু’জন বাড়িতে বসে কুলা ও ডেলি তৈরি করেন। বাঁশ শিল্পীরা চায় তাদের তৈরিকৃত জিনিসপত্রে শৈল্পিক রূপ দিতে। এজন্য চিরিরবন্দরের বাঁশ শিল্পীরা সরকারি বা বেসরকারিভাবে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং সুদমুক্ত ঋণ দিতে সরকারের কাছে জোর দাবী জানান। অন্যদিকে শিল্পপ্রেমীরা চান কোনভাবেই যাতে দেশের ঐতিহ্যবাহী এই বাঁশ শিল্প কালের আবর্তে হারিয়ে না যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ