ঢাকা, রোববার 09 March 2017, ২৬ চৈত্র ১৪২৩, ১১ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ছড়া/কবিতা

ঋতু ও পাখি
শামীম খান যুবরাজ

গ্রীষ্ম
চাতক পাখি আকাশ পানে
তাকিয়ে যখন থাকে,
গ্রীষ্মে খরা-রৌদ্র দাহে
কা-কা ডাকে কাকে।

বর্ষা
দীঘির জলে পাতিহাঁসের
ডুবোডুবি খেলা,
বৃষ্টি ভিজে মাছের খোঁজে
বক-সারসের মেলা।

শরৎ
কাশবনের ঐ পাশে যখন
ঘুঘু পাখি গায়,
শুভ্র মেঘের দোলায় দুলে
শরৎ এসে যায়।

হেমন্ত
হলুদরঙা ধানের ক্ষেতে
ফিঙে পাখি নাচে,
ভাতশালিকের মেলা বসে
পাশের মাদার গাছে।

শীত
দোয়েল পাখি শিস দিয়ে যায়
ফুরফুরে শীত হাওয়ায়,
মাছরাঙ্গাদের দিন কেটে যায়
কাছকী-পুঁটি খাওয়ায়।

বসন্ত
বউ কথা কও বউকে ডাকে
বসন্তেরই কালে,
কোকিল ডাকে কুহু-কুহু
কৃষ্ণচূড়ার ডালে।


বোশেখ এলো
এইচ এস সরোয়ারদী

বোশেখ এলো তাইতো গাঁয়ে
এতো খুশির ধুম,
 খোকা খুকু কারও চোখে
নেইতো কোন ঘুম।

বোশেখ এলো তাইতো গাঁয়ে
পড়ে গেছে সাড়া,
ঢোলের তালে নাগর দোলায়
মেতেছে আজ পাড়া।


বোশেখ মাস
বাতেন বাহার

চৈতী রোদে শুকনো হাওর শুকনো নদী নালা
চাতক পাখির তৃষ্ণা বুকে কণ্ঠে তৃষ্ণার জ্বালা।
পানির খোঁজে উড়ছে ঘুঘু, উড়ছে কালো কাক
রৌদ্রে পুড়ে ক্লান্ত পথিক, উদাসনদীর বাঁক!

ক্লান্ত মহিষ গাড়ী টেনে-শ্রান্ত ঘোড়া গরু
খা খা রোদে শুকনো সবই দেশটা যেন মরু।
মরুর দেশে ডানপিটেরা ঘুরছে আমের বনে
কাঁচা মিঠে আমের খুশি-শিশু-কিশোর মনে।

বনে বনে ঘুরছে কিশোর খাচ্ছে কাঁচা আম
শরীর থেকে ঝরছে ওদের টুপটুপা ঘাম!
তবু ওদের মনটা উড়ো-আসবে বোশেখ মাস
বাগ-বাগানে মৌ মৌ মৌ ছড়বে মিষ্টি বাস।

আম মৌ মৌ জাম মৌ মৌ কদমী লিচুর দিন
মিষ্টি রসে খোকা-খুকুর মুখ হবে রঙিন!
নেচে গেয়ে করবে বরণ সবাই নতুন সাল
 সেই স্বপনে শিশু-কিশোর মনটা বেসামাল।


কোন সকালে?
মুহাম্মাদ আলী মজুমদার

কোন সকালে শিশির ঝরে
রোদের আলো মিষ্টি খুব?
কোন সকালে হল্লা করে
পুকুর-জলে দিইনা ডুব?
কোন সকালে ঘরে-ঘরে
পিঠাপুলির উৎসব হয়?
কোন সকালে সারা-বাগান
সূর্যমুখী-গোলাপময়?
কোন সকালে লেপের তলে
মিষ্টি-মধুর আরাম পাই?
কোন সকালে আগুন পোহাই
একটুখানি গরম চাই?
কোন সকালে প্রকৃতিতে
ঠাণ্ডা-শীতল বাতাস বয়?
কোন সকালে পাখপাখালী
আপন নীড়ে চুপটি রয়?


রূপের দেশ
মোস্তফা কামাল সোহাগ

রূপের দেশ বাংলাদেশ
রূপ লাবণ্যে মাখা
মাঠে মাঠে পাটের ফসল
চাষীর স্বপ্ন আঁকা।
সারি সারি গাছ-গাছালি
পুকুর ভরা মাছে
এমন সুন্দর দেশটিরে ভাই
কোথায় বলো আছে।
জোয়ার ভাটায় খেলা করে
পদ্মা মেঘনার জল
সন্ধ্যা হলে আপন নীড়ে
যায় পাখির দল।
ফুল ফলাদি বন-বনানী
প্রজাপতির খেলা
ক্ষেত-খামারে কাজ করে
চাষীর কাটে বেলা।


বৈশাখের গান
জয়নাল আবেদীন বিল্লাল

ঐ এলো, এলোরে ঝড়
মাঠ থেকে সরে পর
আয় আয় আয় ঘর
ত্বরা করে আয় ঘর-
রাখাল রে তোর গাভিটারে
পায়না যেন ঝড়ে
ঈশান কোণে কালো মেঘ
গুরুম গুরুম করে॥
আয় ছুটে আয় ঘর
ত্বরা করে আয় ঘর-
ঘাটের মাঝি নৌকা ছেড়ে
আয় ফিরে আয় ঘরে
আকাশ পানে চেয়ে কৃষক
কেমন কেমন করে॥
বুক কাঁপে থর থর
এলো বৈশাখী ঝড়॥

বোশেখ তুমি

বোশেখ তুমি আসবে বলে
বড়দি ফেলে কাজ
নতুন বছর নতুন সাজে
করবে বরণ আজ।
খেলনা পাতি পুতুল নিয়ে
আরো মাটির ঘোড়া
বোশেখ তোমার জন্য রাখা
ফুল পাখি এক জোড়া।
পুরানো সব চলে গেছে
নতুনের আহ্বানে
বড়দির বর্ষবরণ
চলছে গানে গানে।

বোশেখ আসে

বোশেখ আসে বোশেখ যায়
রেখে যায় ভালোমন্দ
আমের বোলে ভরে যায় বাগ
ভেসে আসে মৌ মৌ গন্ধ।
বজ্র বাতাসে বৃষ্টি এলে
ধুয়ে যায় সব ধুলো,
কচি কাঁচারা আনন্দে কুড়ায়
ঝরে যাওয়া আমগুলো।
বৈশাখী মেলায় নাগর দোলা
আরো কত সাজ
মাটির পসরা চলে বেচাকেনা
অদ্ভুত কারুকাজ।
পুরানো সব পিছনে ফেলে
নতুনেরে দেয় ডাক
এইভাবে চলে বোশেখের দিন
আশা ভরসার বাঁক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ