ঢাকা, সোমবার 10 March 2017, ২৭ চৈত্র ১৪২৩, ১২ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

গ্রীষ্মের সোনারগাঁ

ইকবাল মজুমদার তৌহিদ ( সোনারগাঁ)ঃ বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী প্রথম দুই মাস বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ জুড়ে গ্রীষ্মকাল। গ্রীষ্ম হল বছরের অন্যতম কাল যা পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে সাধারণত জুন,জুলাই এবং আগস্ট মাস জুড়ে অবস্থান করে। আর সেই হিসাবকে কেন্দ্র করে বলা যায় আর মাত্র কয়েক দিন পরে গ্রীষ্মকে উপভোগ করবে সকল বাঙালী হৃদয়জুড়ে। পৃথিবীর সর্বত্রই গ্রীষ্ম হল কর্মোদ্যমের সময়। বিশেষ করে শীত প্রদান দেশগুলোতে গ্রীষ্ম খুবই আরধ্য,কারণ সেসকল দেশে শীতকালে কোন ফসল উৎপাদিত হয়না, গ্রীষ্মকালেই সব ফসল উৎপাদন করে রাখতে হয়। এসময় সূর্যের প্রচন্ড তাপে উত্তপ্ত হয়ে উঠে ভূমি, পানি শুকিয়ে যায়, অনেক নদীই নাব্যতা হারায়, জলশূন্য মাটিতে ধরে ফাটল। গ্রীষ্মকালের শেষার্ধের সন্ধ্যাসমাগত সময় ধেয়ে আসে কালবৈশাখী ঝড়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এসময় গাছে গাছে বিভিন্ন মৌসুমী ফল দেখা যায়। যেমন আম, কাঠাল, লিচু ইত্যাদি। গ্রীষ্মের এসময় বাংলার পুরাতন রাজধানী নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলাটিও সাজে যেন আম, কাঠাল ও লিচুর অপরূপ সাজে। গ্রীষ্মকালে সোনারগাঁয়ে উৎপাদিত কদমী ও চায়না লিচু সাড়া দেশেই বাণিজ্যিকভাবে প্রসিদ্ধ। উপজেলার প্রতিটি গ্রামেই যেন লিচু গাছ ও বাগানের সমাহার। এই বাগানগুলো বাগান মালিককে যেমন সৌন্দর্যের আত্মতৃপ্তি দেয় ঠিক তেমনি অর্থ উপার্জনের আনন্দ প্রদান করে। বাগান মালিক ছাড়াও এলাকার প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় এসব লিচু গাছ দেখা যায়। এসব লিচু গাছকে গাছ মালিক যতœ সহকারে বড় করে তুলে এর অমৃত স্বাদ লাভ করার জন্য। লিচুর পাশাপাশি গ্রীষ্মকালে সোনারগাঁয়ের সর্বত্র দেখা যায় ব্যপক আম। যেন প্রতিটি ঘরের সামনেই একাধিক আম গাছের সমারোহ। লিচু ও আমের মত সোনারগাঁয়ের কাঁঠাল বাণিজ্যিক ভাবে প্রসিদ্ধ নাহলেও উপজেলার কয়েকটি গ্রামে এসময় ব্যাপক কাঠাল উৎপাদিত হয়। গ্রীষ্মের ফল যে প্রকৃতিকে কতটা সুন্দর করে তুলে তার দেখা মেলে ঐতিহাসিক সোনারগাঁয়ে আসলে। গ্রীষ্মের সময় সোনারগাঁয়ে আসা পর্যটকরা ঐতিহ্যের সাথে গ্রীষ্মের অপরূপ সৌন্দর্য দেখেতে পায় একদম ফ্রি। তাই ঐতিহ্যের সাথে এবারের গ্রীষ্মের সৌন্দর্য উপভোগের জন্য সকল পর্যটককে সোনারগাঁয়ে লেখকের আমন্ত্রণ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ