ঢাকা, সোমবার 10 March 2017, ২৭ চৈত্র ১৪২৩, ১২ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বগুড়ার নবাব প্যালেসের আড়াই শতাব্দীর সাক্ষী ‘জয়তুন গাছ’ কেটে ফেলা হলো গোপনে

বগুড়া অফিসঃ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে রাষ্ট্রিয় ভাবে সংরক্ষিত বগুড়ার ঐতিহাসিক নবাব প্যালেসের ভিতরে অবস্থিত আড়াইশ’ বছরের পুরনো দুর্লভ প্রজাতির জয়তুন গাছটি কেটে ফেলা হল প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অজান্তেই। বগুড়ার বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরও বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেনা। ঘটনাটি জানাজানির পর বগুড়ার ঐতিহ্য সচেতন মানুষের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভ। প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বহীন আচরণ নিয়ে।
অনুসন্ধানে জানাযায়, কয়েকদিন আগে দমকা হাওয়ায় গাছটির ছোট্ট একটি ডাল ভেঙ্গে যায়। সেটি সরাতে গিয়ে কেটে ফেলা হলো পুরো গাছটিই। আবার সেটি যেনোতেনো কোন গাছ নয়। আড়াই শতাব্দির প্রাচীন ‘জয়তুন গাছ’। যে গাছটি সারা দেশে হাতে গোনা কয়েকটি রয়েছে।  রোববার দিনব্যাপী বগুড়ার সংরক্ষিত এলাকা নবাব প্যালেসের ভেতর থেকে কালের সাক্ষী এই গাছটি কেটে নিয়ে যায় ঠিকাদারের লোকজন। এলাকাটি সংরক্ষিত দাবি করে প্রতœতত্ত্ব বিভাগ থেকে সাইনবোর্ড টানানো হলেও সেখানে গাছ কাটতে বাধা দেয়া কিংবা নজরদারি করার জন্য ঐ বিভাগের কোন লোকজনকে দেখা যায়নি। এর আগে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে বিক্রি হয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী নবাববাড়ি (নবাব প্যালেস) রক্ষা পায়। অবিভক্ত পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব থাকায় সরকার বাড়িটি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। স্বাভাবিক কারণেই এই বাড়ির সীমানার মধ্যে যা কিছু রয়েছে তার সবই সংরক্ষিত। সরকারি ভাবে গেজেট প্রকাশের পর প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর থেকে নবাব প্যালেসে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। সাথে এটির যে কোন রকমের পরিবর্তন পরিবর্ধন দন্ডনীয় অপরাধ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ আড়াই শতাব্দীর প্রাচীন গাছ কেটে নেয়া হলো নির্বিঘ্নে।
বগুড়া নবাববাড়ির মধ্যেই রয়েছে প্যালেজ মিউজিয়াম। এই মিউজিয়ামের ম্যানেজার জাহিদুল ইসলাম খান লজে বলেন, সম্প্রতি দমকা বাতাসে তাদের মিউজিয়ামের সামনে দন্ডায়মান জয়তুন গাছের একটি ডাল ভেঙ্গে পড়ে। এরপর তিনি ডালটি কাটার অনুমতি চেয়ে প্রতœতত্ত্ব বিভাগের রাজশাহী অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাহিদ সুলতানাকে ফোন করেন। তিনি ডাল কাটার অনুমতি দেন। পরে পুরো গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হবার কারণে সেটি কেটে ফেলা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সংরক্ষিত এই এলাকার ভেতরে গত বৃহস্পতিবার থেকে বিশাল আকৃতির এই প্রাচীন গাছটি কাটা শুরু হয়। শহরের ফুলবাড়ি এলাকার কাঠ ব্যবসায়ি রোকন শেখ মাত্র ২৮ হাজার টাকায় গাছটি কিনে নেন। এরপর তার লোকজন গাছের ডাল কেটে নিয়ে যায়।  রোববার কাটা হয় গাছের মূল কান্ডটি। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের রাজশাহী অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাহিদ সুলতানা বলেন, গাছ কাটার কোন অনুমতি দেয়া হয়নি। বাতাসে ভেঙ্গে পড়া ডালটি সরাতে বলা হয়েছিলো। এখন দেখা যাচ্ছে পুরো গাছটিই কেটে ফেলা হয়েছে। এটি আইনত দন্ডনীয়। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ