ঢাকা, মঙ্গলবার 11 March 2017, ২৮ চৈত্র ১৪২৩, ১৩ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আমরা দেশ বেচে দিলাম নাকি কিছু অর্জন করে ফিরছি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সোমবার নয়াদিল্লীতে হোটেল তাজ প্যালেসে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য ফোরামে বক্তব্য রাখেন -পিআইডি

# যারা দেশ বিক্রির কথা বলে তারা অর্বাচিন

# জনগণের কল্যাণে ভারতের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে

# আমরা পানি দাবি করে বিদ্যুৎ পেয়েছি 

স্টাফ রিপোর্টার : ভারতের সঙ্গে চুক্তিস্বাক্ষর করে সরকার দেশ বিক্রি করে দিয়েছে, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দু’দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিগুলো জনগণ ও আঞ্চলিক কল্যাণে স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বলছেন ভারতের সঙ্গে চুক্তি করে দেশ বিক্রি করে দেয়া হয়েছে প্রকৃতপক্ষে তারা অর্বাচিন। কারণ আমরা সামগ্রিকভাবে জনগণ ও আঞ্চলিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে চুক্তি করেছি।

গতকাল সোমবার বিকেলে ভারত সফরের শেষদিনে হোটেল তাজমহলে ব্যবসায়ীদের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন বলে বাসস জানায়। এতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের বলেন, আপনারা বলুন, আমরা দেশ বেচে দিলাম নাকি কিছু অর্জন করে ফিরছি।

ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে অন্যানের‌্য মধ্যে- ভারতের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী ড. ধর্মেন্দ্র প্রধান, ভারতের সাবেক চেম্বার প্রধান আদি গোদরেজ এবং বর্তমান চেম্বার সভাপতি স্বন্দীপ জাইওদিয়া, এফবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ এবং ভারতীয় ফেডারেশন অব চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সাবেক সভাপতি হর্ষ মরিয়ালা বক্তৃতা করেন।

শেখ হাসিনা এই অঞ্চলের জনগণের জীবন ও জীবনমানের উন্নয়নে বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগ করার জন্য ভারতের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি উদ্ভাবনী ও বাস্তবভিত্তিক অর্থনীতি বিনির্মাণ করা, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। আমি নিশ্চিত আমরা একত্রে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবনমানের পরিবর্তন আনতে পারবো।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল দেশ। এ দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং একসাথে উন্নয়নের লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশের চমৎকার সম্পর্ক। তিনি বলেন, আপনারা ধনী। এ জন্য আমি বাংলাদেশে আপনাদের ব্যবসা ও বিনিয়োগ করার আহ্বান জানাই। ভারতের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বেশি মুনাফা সাশ্রয়ী ব্যয় ও বিপুলসংখ্যক ভোক্তার সুযোগ নিতে পারে। আপনাদের বিনিয়োগের সুরক্ষায় আমাদের রয়েছে ইন্দো-বাংলা বিনিয়োগ চুক্তি। এতে রয়েছে শতভাগ মুনাফা ও পুঁজি ফেরত নেয়ার আকর্ষণীয় প্যাকেজ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ইইউ, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাসহ বিশ্বের ৩৮টি দেশ থেকে জিএসপি সুবিধা পায়।

শেখ হাসিনা ভারতের ব্যবসায়ীদের বলেন, আপনারাও চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও চিলির মতো দেশগুলো থেকে বাংলাদেশকে দেয়া শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধার সুযোগ নিতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিল্পায়ন ও বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশ ১শ’ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে। এর মধ্যে মংলা, ভেড়ামারা ও মীরসরাই বিশেষভাবে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হাই টেক পার্ক গড়ে তুলছে এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কতৃর্পক্ষ (বিআইডিএ) গঠন করেছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ জোন কর্তৃর্পক্ষ (বিইপিজেডএ)ও গড়ে তুলেছে। তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য আরো সহজীকরণ করতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর বিষয়টিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের একটি অন্যতম দিক। বর্তমানে আমাদের দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ১৫ হাজার ৭২৬ মেগাওয়াট এবং আমরা ২০২১ সাল নাগাদ ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছি। বাংলাদেশ এখন অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ করে পদ্মা বহুমুখী সেতু এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে বিনিয়োগ করছে বলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন। তিনি ভারতের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বলানি খাতে, যন্ত্রাংশ তৈরি এবং সড়ক পরিবহন খাতে বিনিয়োগেও উৎসাহিত করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে আমরা বড় রকমের অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যদিয়ে সময় অতিবাহিত করছি। একইসঙ্গে আমরা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর উন্নতি এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও দেখতে পাচ্ছি। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অর্জনের পথে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের ডিজিটাল দেশ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার পথে রয়েছি। ‘প্রাইস ওয়াটার হাউজ কুপারস’ (পিডব্লিউসি) তার সম্প্রতি প্রকাশিত ‘২০৫০ সালের বিশ্ব’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত এক রিপোর্টে অনুমান করেছে- ২০৩০ সালে ভারতের অর্থনীতি হবে বিশ্বের তৃতীয় সর্ববৃহৎ এবং বাংলাদেশ হবে ২৯তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।

বাংলাদেশ গেল অর্থবছরে ৭ শতাংশ হারে জিডিপি অর্জন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আশাবাদী আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ২০২০ সাল নাগাদ ৮ শতাংশ হবে। বর্তমানেই আমাদের মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১৪শ’ ৬৬ ডলার। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে। আমরা ইতোমধ্যেই আমাদের দেশে ২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) আনতে সক্ষম হয়েছি এবং আমাদের লক্ষ্য এই বিনিয়োগের পরিমাণ ২০২০ সাল নাগাদ অন্তত ৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের রফতানি আয়ের পরিমাণ ছিলো ৩৪ বিলিয়ন ডলার উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের রফতানি খাতকে বহুমুখীকরণের মাধ্যমে ২০২০ সাল নাগাদ আমরা আমাদের রফতানির পরিমাণ ৫৪ বিলিয়ন ডলারে বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি এবং ২০২১ সাল নাগাদ কেবল তথ্যপ্রযুক্তি খাতেই ৫ বিলিয়ন ডলার রফতানির লক্ষ্য ধার্য করেছি।

‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ তাঁর সরকারের পররাষ্ট্র নীতি- উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নীতির ওপর ভিত্তি করেই তাঁর সরকার দেশকে উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে চায়।

ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের সংবর্ধনা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে দারিদ্র্যমুক্ত করে জনগণের উন্নত জীবন নিশ্চিত করার জন্য এই অঞ্চলের দেশগুলোর পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুতারোপ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সবসময়ই জনকল্যাণের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে... এখানে কোন দেশটি বড় আর কোনটি ছোট -এটি কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়। 

আমরা একটি সার্বভৌম দেশ। কাজেই আমরা সবসময় একে অপরকে সম্মান করি এবং বন্ধুত্বকে গুরুত্ব দেই, কারণ বন্ধুত্ব ছাড়া বিবাদপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকলে কিছুই অর্জন সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন’র উদ্যোগে তাঁর সম্মানে আয়োজিত এক সংবর্ধনার জবাবে তিনি একথা বলেন। ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুগান্তকারী পদক্ষেপ এবং তাঁর নেতৃত্বে এই অঞ্চলের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রীকে এই সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপি’র উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান এল কে আদভানি এবং ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী এবং ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের পরিচালক নির্মলা সীতারমন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই এল কে আদভানি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শাল এবং ক্রেস্ট উপহার হিসেবে প্রদান করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, দুই দেশের যে কমন জলজসম্পদ রয়েছে সেগুলোকে একীভূতভাবে ব্যবহার করা উচিত এবং দু’দেশের মধ্যে কমন নদীগুলোর পানি বন্টনের ওপরই আমাদের উভয়ের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

তিস্তা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আরো একবার এই ইস্যু সমাধানে তাঁর সরকারের দৃঢ় আকাক্সক্ষার কথা পুনর্ব্যক্ত করে শীঘ্রই এটি সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে উল্লেখ করেছেন। আর এটি হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় প্রচ- করতালির মধ্যে তিস্তা প্রসঙ্গে তাঁর শংকার কথা ব্যক্ত করে বলেন, দিদি মনি (মমতা ব্যানার্জি) তিস্তা ইস্যুতে আর কি করবেন তিনিই জানেন এবং আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলার পর তিনি আরো নতুন কিছু বিষয় আলোচনায় এনেছেন। যদিও মোদি জি (নরেন্দ্র মোদী) আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, আমরা এখানে আছি এবং দেখছি তিনি কি করেন।

প্রধানমন্ত্রী অবশ্য বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ প্রদানে রাজী হওয়ার জন্য মমতা ব্যানার্জিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা পানির জন্য দাবি করে বিদ্যুৎ পেয়েছি। যা হোক, কিছু তো একটা পাওয়া হলো।

ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত সেই দেশ, যারা আমাদের স্বাধীনতায় সহযোগিতা করেছে। আমাদের যে কোনো দুর্দিনে সবসময় আমাদের পাশে থেকেছে। আমরা একই মর্যাদা এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধণে আবদ্ধ হয়ে আমাদের জনগণের, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি।

দারিদ্র্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সাধারণ শত্রু উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজেই আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে এই দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে এটি আমাদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এবং ভারত সম্পর্ক পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ভিত্তির ওপর এবং একই ধরনের সাধারণ আকাক্সক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত। যার মূলে রয়েছে স্বাধীনতার সামগ্রিক মূল্যবোধ, গণতন্ত্র এবং মৌলিক মানবাধিকার ও আইনের শাসন।

তিনি বলেন, এই সম্পর্কের ভিত্তি রচনা হয় বাংলাদেশ সৃষ্টির প্রারম্ভে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে। এরপর থেকে যতোই দিন গেছে এই সম্পর্ক আরো গতিশীল, পরিপূর্ণ এবং কৌশলগত পূর্ণতা লাভ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত সহযোগিতার প্রায় সকল ক্ষেত্রেই উন্নতির ছোঁয়া লেগেছে, বিশেষ করে যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, ব্যবসা-বাণিজ্য, স্বাস্থ্য এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রগুলোতে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের রূপকল্প ঠিক করেছি এবং আশা করছি, ভারতও আমাদের এই উন্নয়নের যাত্রার সারথি হবে। সীমান্ত চুক্তিটি ভারতের লোকসভা এবং রাজ্যসভায় সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত হওয়ায় ভারতের সকল রাজনৈতিক দলের সদস্যদের প্রতি সন্তোষ জ্ঞাপন করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এটি ঐতিহাসিক ১৯৭১ সালের মতোই বিষয়, যখন ভারতের প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল, সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং ভারতের জনগণ বাংলাদেশকে দ্ব্যর্থহীনভাবে সহযোগিতা প্রদান করেছিলো। বাংলাদেশ ও ভারতের সহযোগিতার বিষয়টি, বিশেষ করে বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার উল্লেখ করে ‘মাল্টি মডেল কানেকটিভিটি’ এবং বাংলাদেশে ভারতের বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার জন্যই এটি জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ভারত থেকে আরো বিনিয়োগ, বিশেষ করে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগ আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছি এবং ইতোমধ্যেই ভারতের বড় বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর এ বিষয়ে আগ্রহ দেখতে পেয়েছি। ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালনে জাতিসংঘের স্বীকৃতি আদায়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩০ লাখ প্রাণের আত্মাহুতি এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর এই গণহত্যার ইতিহাসকে মুছে ফেলার প্রচেষ্টা চলছে।

পাকিস্তানী বাহিনীর গণহত্যা স্মরণে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সম্প্রতি ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস ঘোষণা করে সর্বসম্মতভাবে একটি বিল পাস করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই এই গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকৃতি প্রদান করুক। তিনি বলেন, ‘আমরা এটি ক্ষমা করতে পারলেও কোনোদিন ভুলতে পারবো না।’

অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে এল কে আদভানি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের জনগণ নিশ্চিতভাবেই তাঁর নেতৃত্বে উন্নয়নের পথ ও পাথেয় খুঁজে পাবে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে শেখ হাসিনাকে দায়িত্ব গ্রহণের আহবান জানিয়ে আদভানি বলেন, আমরা আমাদের প্রতিবেশিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী, বিশেষ করে আমাদের স্বাধীনতার পূর্বে যেমনটা ছিলো।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়শী প্রশংসা করে নির্মলা সীতারমন বলেন, তিনি তাঁর (শেখ হাসিনা) জীবনের ওপর উপর্যুপরি প্রাণঘাতী হামলার পরেও অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছেন। তাঁর নেতৃত্বের গুণেই ভারত তাঁর মধ্যেই তাঁদের প্রকৃত বন্ধুকে খুঁজে পেয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ