ঢাকা, মঙ্গলবার 11 March 2017, ২৮ চৈত্র ১৪২৩, ১৩ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আন্তর্জাতিক ফোরামে যাবে বিএনপি

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ গতকাল সোমবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন -সংগ্রাম

 

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে বাংলাদেশের অর্জন শূন্য মন্তব্য করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে উজাড় করে দেয়ার বিনিময়ে বাংলাদেশের প্রাপ্তির খাতা শূন্য। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ‘তিস্তার পানি ছিনিয়ে নিতে দেব না’ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এ ধরনের বক্তব্যে এটি পরিষ্কার যে তিস্তা চুক্তি আলোর মুখ দেখছে না। তাহলে কি প্রধানমন্ত্রী শুধু বাংলাদেশকে ভারতের কাছে উজাড় করে দিতেই দিল্লী গেছেন? এ জন্যই কি ভারতের প্রধানমন্ত্রী প্রটোকল ভেঙে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে দিল্লী বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন? তিনি বলেন, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবি নিয়ে আন্তর্জাতিক ফোরামে যাবে বিএনপি। দাবি আদায়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। 

সাংবাদিক সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতা তৈমুর আলম খন্দকার, আতাউর রহমান ঢালী, শাহ মো. আবু জাফর, শামা ওবায়েদ, শাহিন শওকত, মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

রিজভী বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, উনি উনার কথা বলেছেন। এটা কখনও যুক্তিসঙ্গত নয়, এটা শুভঙ্করের ফাঁকি। উনি নানা ধরনের হাওয়াই মিঠাই দেখাবেন, আমরা তো একেবারে ইয়ে করে থাকি না, আমরা তো বুঝি। এটা চলবে না। আমরা বলতে চাই, আমাদের সীমান্ত থেকে তিস্তা নদীর যে সমগ্র বেসিন বা সমগ্র অববাহিকায় যে পানির প্রবাহ তার ন্যায্য হিস্যা আমাদের দিতে হবে। পাহাড় থেকে যে পানিটা নামে সেই পানির আমরা পাওনা চাই, এখান থেকে এক বালতি পানি, এক ছটাক পানি প্রত্যাহার করা যাবে না। টোটালটা হিসাব করে আমাদের হিস্যা দিতে হবে।

ছয় বছর ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা সমস্যার সমাধান হয়নি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের ভারত সফরেও। শুষ্ক মওসুমে শুকিয়ে যায় বলে তিস্তার পানি বন্টন সম্ভব নয়- এমন যুক্তিতে এখনও অনড় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর পরিবর্তে ছোট ছোট চারটি নদীর পানি ভাগাভাগির বিকল্প একটি প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে। শনিবার সন্ধ্যায় নয়া দিল্লীর রাষ্ট্রপতি ভবনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর বেরিয়ে এসে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি তিনি শেখ হাসিনাকে ‘বুঝিয়ে বলেছেন’। 

বিএনপি তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবি নিয়ে আন্তর্জাতিক ফোরামে যাবে জানিয়ে রিজভী বলেন, তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার জন্য আন্দোলন যেভাবেই করা দরকার আমরা সেটি করবে। আন্তর্জাতিক ফোরাম থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি জায়গা আমরা সোচ্চার হব। আমরা সংগ্রাম করব, আন্তর্জাতিক দরবারে আমরা এটা তুলে নিয়ে যাব। আমাদের কূটনৈতিক সংগ্রাম সেটাও চলবে, আমরা সামগ্রিকভাবে আমাদের এই দাবি সোচ্চার রাখব।

প্রতিরক্ষা বিষয়ক সমঝোতার বিষয়ে রিজভী বলেন, সরকার কোনো কিছু না জানিয়ে, জনগণকে অন্ধকারে রেখে এই সমঝোতা স্মারক করেছে। নিশ্চয়ই এটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অবজ্ঞা করেই তিনি করেছেন। প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্মারকে শুভঙ্করের ফাঁক রেখেছেন। পাঁচ বছর মেয়াদী সমঝোতা স্মারক করেছেন, কিন্তু এটা নবায়ন করা যাবে। উনারা এরকম একটা মনোভাব পোষণ করেন যেহেতু তাদের (ভারত) সমর্থিত সরকার, তারাই টিকিয়ে রাখবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা নিশ্চয়ই- বন্ধুত্বের জন্য যে উপটোকন দেয়া দরকার, আপনি ইলিশ মাছ নিয়ে গেছেন, ধুতি নিয়ে গেছেন- আমরা তার বিরুদ্ধে নই। কিন্তু আমার স্বাধীনতা দিয়ে দেব, আমার সীমান্ত দিয়ে দেব, আমরা পানি দিয়ে দেব, এটা আমরা ছাড়ব না। এর ব্যাপারে আমরা সোচ্চার থাকব।

রিজভী বলেন, জনগণকে না জানিয়ে অন্যদেশের সাথে চুক্তি নিশ্চয়ই অশুভ উদ্দেশ্যেই করা হয়। এধরণের চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্বকে অবজ্ঞা করা হয়। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জনগণ এখন চিন্তিত। গ্রাম থেকে শহর সর্বত্রই এখন মানুষের মুখে একটিই আলোচনা-নিজের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কী আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল করে দিলেন? সকল মানুষের প্রশ্ন-কি আছে এই চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলিতে? দেশের মানুষ প্রতিরক্ষা বিষয়ক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরকে দেশবিনাশী স্বাক্ষর হিসেবেই সন্দেহ করছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব ও দেশের নিরাপত্তা নিয়ে উৎকন্ঠিত হয়ে পড়ছেন। সংবিধানে পরিস্কার বলা আছে-অন্য দেশের সাথে কোন চুক্তি করতে হলে জাতীয় সংসদে তা উপস্থাপন করতে হয়। অথচ ভারতের সাথে বর্তমান আওয়ামী সরকার এ পর্যন্ত অসংখ্য চুক্তি করেছে, কিন্তু কোন চুক্তিই জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হয়নি। এটা সুস্পষ্টভাবে সংবিধান লঙ্ঘন। 

রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে জনমত উপেক্ষা করে প্রতিরক্ষাসহ ৩৬টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই করেছেন। এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের বিষয়ে জনগণ কিছুই জানে না। না জানিয়ে অন্য দেশের সঙ্গে চুক্তি নিশ্চয়ই অশুভ উদ্দেশ্যে করা হয়। তিনি মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দূর করতে অবিলম্বে ভারতের সঙ্গে করা সব চুক্তি জনসম্মুখে প্রকাশের জোর দাবি জানান।

আগামী ১৬ এপ্রিল ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার চারটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন উপলক্ষে ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীরা ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, সেখানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি পুলিশের ওসিও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। আর এসব ঘটছে নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সহযোগিতায়। সিইসি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে যতগুলি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো সবগুলোতেই আগের সেই ভোট ডাকাতি ও রক্তাক্ত সন্ত্রাসের প্রতিচ্ছবি চোখে পড়েছে। সরকারী সন্ত্রাস মোকাবেলা করে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে ব্যর্থ হলে বর্তমান সিইসি ঠুটো জগন্নাথ হিসেবেই গণ্য হবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ