ঢাকা, মঙ্গলবার 11 March 2017, ২৮ চৈত্র ১৪২৩, ১৩ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সাভারে চামড়া শিল্পনগরীতে গ্যাস বিদ্যুৎ পানি সংযোগ না দিলে বিসিক ভবন ঘেরাও

বিপন্ন চামড়া সেক্টরের অস্তিত্ব রক্ষার দাবিতে গতকাল সোমবার চামড়া শিল্প রক্ষা ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে হাজারীবাগ ট্যানারি মোড়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত -সংগ্রাম

# হাজারিবাগে কালো পতাকা মিছিল কাল

স্টাফ রিপোর্টার : আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে সাভারে চামড়া শিল্পনগরীতে নতুন বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ না দিলে বিসিক ভবন ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচির হুমকি দিয়েছেন ট্যানারি মালিক ও শ্রমিকরা। ২০০৩ সালের সম্পাদিত স্মারক অনুযায়ী শিল্পনগরীর প্লটের মালিকানা দলিল দ্রুত রেজিস্ট্রেশন করাসহ মোট নয়টি দাবি উত্থাপন করেছে চামড়া শিল্প রক্ষা ঐক্য পরিষদ।

গতকাল সোমবার হাজারীবাগে ঢাকা ট্যানারির মোড়ে গ্যাস-বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার প্রতিবাদে চামড়া শিল্প ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই হুমকি দেন তারা। চামড়া শিল্প রক্ষা ঐক্য পরিষদের ব্যানারে গতকালের মহাসমাবেশে অংশ নেন ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন, লেদার কেমিক্যাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি, বাংলাদেশ লেদার এন্ড লেদার গুডস ম্যানুফ্যাকচারিং কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড, লেদার ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড টেকনোলোজি সোসাইটি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইমপোর্টার্স এন্ড মার্চেন্ট এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ চামড়া রপ্তানিকারক সমিতি, স্পিলিট চামড়া ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি, বাংলাদেশ হাইড এন্ড স্কিন মার্চেন্টস এ সোসিয়েশন, সমাজতান্ত্রিক চামড়া শিল্প শ্রমিক জোট, বাংলাদেশ লেদার সিলেক্টর এসোসিয়েশন, হাজারীবাগ ঠেলাগাড়ি লেবার বহুমুখী সমবায় সমিতিসহ বহু শ্রমিক-জনতা।

অন্য দাবিগুলো হলো শিল্পনগরীতে আন্তর্জাতিক মানের সিইটিপি, ক্রোম রিকভারি ইউনিট ও ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণ নিশ্চিত করা, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে শিল্পনগরীতে গ্যাস-বিদ্যুতের সংযোগ প্রদান, শ্রমিকদের আবাসন, সেক্টর সংশ্লিষ্ট সংগঠনসমূহের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বরাদ্দসহ প্লট না পাওয়া উদ্যোক্তাগণকে প্লট প্রদান, কারখানা বন্ধ থাকার সময়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য মালিকদের সরকারের পক্ষ থেকে এককালীন অর্থ বরাদ্দ, কারখানা উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় যেসব রপ্তানি আদেশ বাতিল হবে এবং ক্রেতাগণ ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন সেই অর্থ সরকারকে পরিশোধ করতে হবে, বিসিকের অব্যবস্থাপনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত, শিল্পোদ্যোক্তাদের বিদ্যমান ঋণ ব্লক করতে হবে এবং সুদ মওকুফ, হাজারীবাগের জমিতে ডিজাইন প্ল্যান পাসের ওপর রাজউক কর্তৃক আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

মহাসমাবেশে গ্যাস-বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দেয়াকে চামড়াশিল্প ধ্বংসের ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন বক্তারা। তাদের দাবি, সাভারের চামড়াশিল্প নগরী এখনো প্রস্তুত নয়। আদালতকে ভুল বোঝানো হয়েছে। ওই স্থান প্রস্তত হওয়ার আগেই ভুল তথ্য দিয়ে সব সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

বক্তারা বলেন, হাজারীবাগের ট্যানারি ভবনগুলোতে যেসব শ্রমিক বসবাস করেন, তাদের ঘরে এখন পানি নেই, গ্যাস নেই, তাই রান্না হচ্ছে না। বিদ্যুৎ না থাকায় এই গরমে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।

 কাল বুধবার ঢাকা ট্যানারি মোড় থেকে হাজারীবাগে কালো পতাকাসহ মৌন মিছিল করা হবে। এরপর আগামী শনিবার চামড়া সেক্টর সংশ্লিষ্ট সব সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ১৫ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন না হলে বিসিক অফিস ঘেরাও কর্মসূচি দিয়েছে তারা।

 আগামী ১৫ এপ্রিল বাংলাদেশ লেদার টেকনলোজি অডিটোরিয়ামে চামড়া সংক্রান্ত সকল সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের বৈঠকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এর আগে ৮ এপ্রিল রাজধানীর হাজারীবাগের সব ট্যানারির বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কাজ শেষ করে পরিবেশ অধিদপ্তর। তারা ২২৪টি বিদ্যুৎ-সংযোগ, ৫৪টি গ্যাসের সংযোগ ও ১৯৩টি পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও নবগঠিত ঐক্য পরিষদের কো-চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ দেয়া না হলে আমরা বিসিক ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি দেব।

ঐক্য পরিষদের সদস্য ও ট্যানারি ওয়ার্কার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক বলেন, আমরা সরকারের কাছে ৯ দফা দাবি জানিয়েছি। এ দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি দিতেই থাকব।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার পর হাজারীবাগের ট্যানারি ভবনগুলোতে যেসব শ্রমিক বসবাস করছেন তাদের ঘরে এখন গ্যাস ও পানি নেই। তাই রান্নাও হচ্ছে না, পাশাপাশি বিদ্যুৎও না থাকায় এই গরমে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। এদিকে সাভারে নতুন ট্যানারি নগরীতে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় সেখানে শ্রমিকদের থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই অবিলম্বে সেখানে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগসহ শ্রমিকদের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা।

এছাড়া যারা সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে প্লট পাননি অবিলম্বে তাদের প্লট বরাদ্দের দাবি জানান তারা।

প্রসঙ্গত, এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০১ সালে ট্যানারি শিল্প হাজারীবাগ থেকে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওই আদেশ বাস্তবায়িত না হওয়ায় ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্প অন্যত্র সরিয়ে নিতে ২০০৯ সালের ২৩ জুন হাইকোর্ট ফের নির্দেশ দেন। সরকারপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরে ওই সময়সীমা কয়েক দফা বাড়িয়ে ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। এরপরও ওই এলাকা থেকে ট্যানারি সরিয়ে নেয়া হয়নি।

নতুন করে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, ২০১৭ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাজারীবাগ থেকে যেসব ট্যানারি স্থানান্তর করা হবে না, ১ মার্চ থেকে ওই সব ট্যানারির গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে। তবে ১ মার্চের ওই সময় বাড়াতে আবার আদালতে আবেদন করেন ট্যানারি মালিকরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ