ঢাকা, মঙ্গলবার 11 March 2017, ২৮ চৈত্র ১৪২৩, ১৩ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঐশীর মানসিক সুস্থতা যাচাইয়ে তার কথা শুনলেন বিচারকরা

 

স্টাফ রিপোর্টার : পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তাদের মেয়ে ঐশী রহমানের সাথে কথা বলেছেন হাইকোর্ট। তার মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে বিচারপতিদের খাস কামরায় নিয়ে ১৫ মিনিট তার বক্তব্য শুনেছেন আদালত। 

গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে হাজির করা হয় ঐশী রহমানকে। এরপর ঐশীর সঙ্গে একান্তে কথা বলার জন্য তাকে খাস কামরায় নেয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

সকাল ১০টা ৪০ মিনিট থেকে প্রায় ১৫ মিনিট ঐশীর সঙ্গে দুই বিচারপতি কথা বলেন। এ সময় ঐশী ও সরকার পক্ষের দুই আইনজীবী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে তাকে কারাগারে হলে মামলার শুনানি শুরু হয়। 

গত ৩ এপ্রিল ঐশী রহমানকে হাজিরের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ওইদিন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তার (ঐশী) বিরুদ্ধে হত্যা মামলা চলছে, এ বিষয়ে সে জানে কিনা এবং তার মানসিক অবস্থা খতিয়ে দেখতে আদালত তাকে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন।

গত ১২ মার্চ পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যদণ্ডপ্রাপ্ত ঐশী রহমানের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হয়।

২০১৫ সালের ১২ নবেম্বর ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহমেদ রায়ে ঐশীকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন। রায়ের এক সপ্তাহ পর বিচারিক আদালত থেকে রায়ের কপি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছে। পরে ৭ ডিসেম্বর মৃত্যুদন্ডের রায়ের বিরুদ্ধে ঐশী রহমানের করা আপিল গ্রহণ করে বিচারিক আদালতের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন হাইকোর্ট।

বিচারিক আদালতের রায়ে ঐশীর মৃত্যদন্ডের পাশাপাশি তাকে আশ্রয় দেয়ায় তার বন্ধু মিজানুর রহমান রনিকে দুই বছর সশ্রম কারাদন্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আর হত্যাকান্ডে সহযোগিতার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস পান ঐশীর আরেক বন্ধু আসাদুজ্জামান জনি। এ মামলায় ঐশীদের বাসার শিশু গৃহকর্মী খাদিজা আক্তার সুমি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার বিচার চলছে শিশু আদালতে।

২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। স্ত্রী, দুই সন্তান ও শিশু গৃহকর্মীকে নিয়ে মালিবাগের চামেলীবাগের এক ফ্ল্যাটে থাকতেন পুলিশের বিশেষ শাখার (রাজনৈতিক) পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, আগের রাতে কোনো এক সময়ে কফির সঙ্গে ঘুমের বড়ি খাইয়ে বাবা-মাকে কুপিয়ে হত্যা করেন ঐশী। পরদিন সকালে সাত বছর বয়সী ছোট ভাইকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় ঐশী। পরে ভাইকে এক প্রতিবেশীর বাসায় পাঠিয়ে একদিন পর গৃহকর্মী সুমিকে নিয়ে রমনা থানায় আত্মসমর্পণ করেন এই কিশোরী। পরে তার বক্তব্যের সূত্র ধরেই রনি ও জনিকে গ্রেফতার করা হয়।

২০১৪ সালের ৯ মার্চ গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. আবুল খায়ের মাতুব্বর আদালতে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তাতে বলা হয়, বাবা-মাকে ঐশীই হত্যা করে; আর অন্যরা তাকে সহযোগিতা করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ