ঢাকা, মঙ্গলবার 11 March 2017, ২৮ চৈত্র ১৪২৩, ১৩ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাড়ছে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা

খুলনা অফিস : চৈত্রের তাপদাহ ও বৈরী আবহাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। গত কয়েকদিনের তাপদাহে বড়দের পাশাপাশি শিশুদেরও নাজেহাল অবস্থা। তীব্র গরমে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে শিশুরা। হাসপাতালে বাড়ছে শিশুরোগীর সংখ্যা। গত দশ দিনে খুলনা শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে পাঁচশতাধিক শিশু। প্রতিদিনই ৫০ জন শিশুকে ভর্তি করা হচ্ছে এ হাসপাতালে।

খুলনা শিশু হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, বহি:র্বিভাগে শত শত অভিভাবক তার শিশুকে নিয়ে অপেক্ষা করছেন চিকিৎসার জন্য। এর অধিকাংশ শিশুই সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, জ্বর, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। এসব শিশুদের মধ্যে যাদের অবস্থা গুরুতর তাদেরকে তাৎক্ষণিক ভর্তি করে নেয়া হচ্ছে হাসপাতালে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে তীব্র তাপদাহের কারণে এখানে অসুস্থ রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। গত ১-৭ এপ্রিল পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৪৮ জন শিশু। যা দৈনিক গড়ে প্রায় ৫০ জনের মত। এক্ষেত্রে গত নয়দিনে এ হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছে প্রায় ৪৪৭ জন শিশু। আর গত ১-৭ এপ্রিল বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে ৩ হাজার ২২৪ জন শিশু। যা দৈনিক গড়ে ৪৬০ জনেরও বেশি শিশু। এক্ষেত্রে গত নয় দিনে হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে ৪ হাজার ১৪৫ জন শিশু। এর মধ্যে রোববার বেলা ১২টা পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ১৮ জন শিশু।

হাসপাতালে ভর্তিরত শিশু আশিকুজ্জামানের মা লাভলী বেগম জানান, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থেকে এখানে নিয়ে এসেছেন ছেলেকে সুস্থ করতে। দুই মাস তেরদিন বয়সের ছেলে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন। হাসপাতালে পাঁচদিন চিকিৎসা নেয়ার পর এখন তার ছেলে মোটামুটি সুস্থ হয়ে উঠেছেন। হাসপাতালের ব্লক-এ ভবনের চারতলায় ডায়রিয়া বিভাগের বারান্দায় ছেলেকে নিয়ে পড়ে আছেন মা ঝুমুর বেগম। তিনি বলেন, আমার ছেলেটার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। আজই ফকিরহাট থেকে এসেছি ডাক্তার দেখাতে। ডাক্তার বলেছে নিউমোনিয়া হয়েছে। এখানে ভর্তি করেছি কিন্তু এখনও বেড পাইনি তাই বারান্দায় ওর চিকিৎসা হচ্ছে।

একই বিভাগে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বেডে শুয়ে আছে আড়াই বছরের মেয়ে ময়মুন নাহার। কয়রার বাগাদী ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসার জন্য মেয়েকে নিয়ে গত নয়দিন যাবৎ মেয়ের সাথে পড়ে আছে মা আমিরুন্নেছা। তিনি জানান, প্রায় ১০/১২ দিন ধরে মেয়ের এই অবস্থা। প্রথমে শুধু পায়খানা আর বমি হচ্ছিল। গ্রামের ডাক্তার দেখিয়ে কিছু না হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। কিন্তু এখনও মেয়ে সুস্থ নন।

মূলত অতিরিক্ত গরম আর শিশুদের প্রতি অসচেতনতার কারণেই এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন বলে জানান চিকিৎসকেরা। চিকিৎসকদের মতে, গরমে শিশুর বিশেষ যতেœর প্রয়োজন। এ সময় শিশুর খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে গোসল ও পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে মায়েদের বিশেষ যতœবান হতে হবে। গরমে শিশুরা বড়দের তুলনায় অনেক বেশি ঘেমে যায়। আর গরমে শিশু দু’ধরনের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। এর মধ্যে এআরআই (একুইড রেসপাইরেটনি ইনফেকশন) হলে শিশুর নাক দিয়ে পানি পড়ে, টনসিল ফুলে যায় ও শ্বাস কষ্ট হয়। এলআরটিআই ( লোয়ার রেসপাইরেটরি ইনফেকশন) হলে দীর্ঘকালীন অসুস্থতায় শিশু শ্বাস কষ্টে খিচুনিতে ভুগতে পারে।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. মনিরুজ্জামান খান জানান, প্রচন্ড গরমে হিটস্ট্রোক ও ভাইরাসজনিত কারণে শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। মূলত অতিরিক্ত গরমে শিশুদের ঘাম বেশি হওয়ায় ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আর ঘাম বসে যেয়ে এসব ভাইরাস সহজেই এ্যাটাক করতে পারে। তিনি আরও বলেন, তাই এসব ক্ষেত্রে শিশুদের বিশেষ যতœ নেয়া প্রয়োজন। শিশুদের বাইরের খাবার না খাওয়ানোই ভাল। বাসি বা ঢেকে না রাখা খাবারও খাওয়ানো যাবে না। গরমে শিশুকে দিতে হবে প্রচুর পানীয় খাবার। ঘরে তৈরি নানারকম ফলের জুস, লেবুর সরবত, ডাবের পানি শিশুর জন্য খুবই উপকারী। এতে করে ঘেমে গিয়ে যে পরিমাণ পানি শরীর থেকে বের হয়ে যায় তার ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়, এরই সঙ্গে দিতে হবে শিশুর স্বাভাবিক খাবার। অত্যাধিক গরমেও অনেক সময় শিশুরা খেতে চায় না। ঘেমে গেলে শিশুর কাপড় পাল্টে দিতে হবে। ঘেমে যাওয়া শরীর পাতলা নরম কাপড় দিয়ে মুছে দিন। এ সময় শিশুকে নিয়মিত গোসল করান, গরমকালে অত্যাধিক সাবান ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। আর আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত চিকিৎসা দেয়ার পরামর্শও দেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ