ঢাকা, মঙ্গলবার 11 March 2017, ২৮ চৈত্র ১৪২৩, ১৩ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঝালকাঠির  পিপি হায়দার হত্যায় দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ৫ জনের ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবি পরিবারের

ঝালকাঠি সংবাদদাতা : ঝালকাঠির পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট হায়দার হোসাইন হত্যার ১০ম বার্ষিকী আজ মঙ্গলবার। ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বুধবার অভিযুক্ত ৫ জনের ফাঁসির আদেশ প্রদান করেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোঃ আব্দুল হালিম। রায় ঘোষণার পরে ২ বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও কার্যকর হয়নি এখনও। হত্যা ঘটনায় রায়ের দিন আদালতে আসামী তানভীর, মুরাদ, আমীর উপস্থিত ছিলেন এবং বেল্লাল ও সগির পলাতক রয়েছে। 

২০০৫ সালের ১৪ নবেম্বর  জেএমবির বোমায় ঝালকাঠির দু’বিচারক সোহেল আহম্মেদ ও জগন্নাথ পাড়ে নিহতের ঘটনায় রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনাকারী পিপি হায়দার হোসাইনকে ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল গুলী করে হত্যা করে জেএমবি সদস্যরা। দীর্ঘ সূত্রতা এবং আইনী প্রক্রিয়া শেষে গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি উল্লেখিত ৫ জনকে ফাঁসির আদেশ দেয় আদালত। ফাঁসির আদেশ দ্রুত কার্যকরের দাবী জানিয়েছেন নিহত পিপি হায়দার হোসাইনের পরিবারের সদস্যরা।

তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, ২০০৫ সালের ১৪ নবেম্বর  জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর বোমায় ঝালকাঠি আদালতের সহকারী বিচারক সোহেল আহমেদ ও জগন্নাথ পাড়ে নিহত হয়। এরপর জেএমবির শীর্ষ নেতারা পর্যায়ক্রমে আটক হন। জঙ্গিদের ঝালকাঠিতে এনে জেলা জজ আদালতে চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিচার কাজ চলে। রাষ্ট্রপক্ষের সরকারী কৌসূলী হিসেবে মামলা পরিচালনা করেন তৎকালীন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট হায়দার হোসাইন।  কোরআন ও হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে আদালতে জেএমবির বক্তব্যকে ভিত্তিহীন প্রমাণ করতে সক্ষম হয় পিপি হায়দার হোসাইন।  যার প্রেক্ষিতে আদালত ২০০৬ সালের ২৯ মে ৭ জনকে ফাঁসির আদেশ দেন। দেশের বিভিন্ন কারাগারে ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ ৬ জন জঙ্গির ফাঁসির আদেশ কার্যকর করা হয়। দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমান, সেকেন্ড ইন কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলাভাই, সামরিক শাখা প্রধান আতাউর রহমান সানি, উত্তরাঞ্চলীয় সমন্বয়কারী আবদুল আউয়াল, দক্ষিণাঞ্চলীয় সমন্বয়কারী খালিদ সাইফুল্ল¬াহ ও বোমা হামলাকারী ইফতেখার হাসান মামুন। অন্য দন্ডপ্রাপ্ত আসাদুল ইসলাম আরিফ প্রথম থেকেই পলাতক থাকায় তার ফাঁসি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি আজও।  এর ২০ দিন পর বিচারক দ্বয়ের হত্যা মামলা পরিচালনাকারী পিপি অ্যাডভোকেট হায়দার হোসেনকে এরই জের ধরে ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল গোরস্থান মসজিদে থেকে এশার নামাজ পড়ে বের হ্বার সময় গুলী করে হত্যা করে জেএমবি সদস্যরা। এ ঘটনার পরের দিন নিহত’র একমাত্র ছেলে তারিক বিন হায়দার বাদী হয়ে ঝালকাঠি থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-৭, তারিখ-১২ এপ্রিল ২০০৭) দায়ের করেন। মামলার এজাহারে কারো নাম উল্লে¬খ করা না হলেও শীর্ষ জঙ্গিদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার কথা উল্লে¬খ করা হয়।

 পিঁপি হত্যা মামলা শুরু থেকে তদন্ত করেছেন ঝালকাঠি থানার উপ-পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা, সিআইডি পিরোজপুর ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক আমির হোসেন, পরিদর্শক শাহজাহান খান, তোফাজ্জেল হোসেন। চার্জশিটের আগ পর্যন্ত এ চারজন তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়। সর্বশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়ে সিআইডি পিরোজপুর ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক মোশারেফ হোসেন। তিনি তদন্ত সম্পন্ন করে জেএমবির পাঁচ জঙ্গির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (নং-৫)  দাখিল করেন। মামলা দায়েরের ৩৩ মাস পর ২০১০ সলের ১৭ জানুয়ারি রবিবার বিকেলে ঝালকাঠির সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করা হয়। চার্জশীটভূক্ত পাঁচ জঙ্গির মধ্যে বরগুনার তালতলী উপজেলার আমিনুল ওরফে আমির হোসেন (৩৭), খুলনার মুরাদ হোসেন (২০) ও বরগুনার আবু শাহাদাত মোহাম্মদ তানভীর (৩১), পলাতক রয়েছেন ঝালকাঠির বিকনা গাজী বাড়ি মসজিদের ইমাম ও বরগুনার তালতলী উপজেলার বেল¬াল হোসেন (২৭) ও ঢাকার উত্তরখানের সগির হোসেন ভূঁইয়া (৩৮)। 

নিহত পিপি’র ছেলে ও মামলার বাদী তারিখ বিন হায়দার বলেন, মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। ন্যায় বিচারের জন্য সরকারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, ফাঁসির দন্ডাদেশ প্রাপ্ত জেএমবি ৫ সদস্যের ফাঁসির রায় এখনো কার্যকর করা হচ্ছে না। তারপরে হত্যাকারীদের মধ্যে ২ জন এখনো পলাতক। তারা পুনরায় আরো কোন দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে বলেও আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানান তিনি। আশঙ্কা নিহত পিপি’র সহধর্মিনী কহিনুর বেগম বলেন, যতদ্রুত সম্ভব রায় কার্যকর করা না হলে উচ্চ আদালত থেকে আসামীরা ছাড়া পাবার আশংকা প্রকাশ করেন তিনি। অ্যাডভোকেট হায়দার হোসাইনের নামে স্মৃতি ফলক নির্মাণের দাবিও জানান তিনি।  রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী অতিরিক্ত পিপি এম আলম খান কামাল বলেন, ৫ জনের ফাঁসির রায়ের মধ্য দিয়ে জঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশ এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আসামীদের নথিপত্র উচ্চ আদালতে গেলেও এর পরে কি হয়েছে এ ব্যাপারে আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই। তবে উচ্চ আদালতের আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রায় কার্যকর করতে সময় লাগে। জেলা জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান বলেন, মামলার রায় হ্বার পর আসামীরা উচ্চ আদালতে না গেলেও রাষ্ট্র পক্ষ দিয়ে নথিপত্র উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে শুনানীর জন্য অপেক্ষায় আছে। উল্লেখ্য, বিচারকদ্বয়ের হত্যা ঘটনার ২ বছরের মধ্যে ফাঁসির আদেশ কার্যকর এবং পিপি হত্যার ৮ বছরের মধ্যে গত ১১ ফেব্রুয়ারী ৫ জনের ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। অপরদিকে অ্যাডভোকেট হায়দার হোসাইনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে  মঙ্গলবার (আজ) পারিবারের পক্ষ থেকে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ