ঢাকা, মঙ্গলবার 11 March 2017, ২৮ চৈত্র ১৪২৩, ১৩ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মাশরাফির অবসরের নেপথ্যে

স্পোর্টস রিপোর্টার : ওয়ানডের মতো টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও আরো বছর দুয়েক খেলার ইচ্ছা ছিল মাশরাফির। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে শ্রীলঙ্কা সফর চলার সময় তাকে হুট করেই টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দিতে হয়েছে। মাশরাফির এই অকাল অবসর মেনে নিতে পারছেন না সমর্থকরা। মাশরাফির অধীনে টানা আট টি-টোয়েন্টি হারতে হয় বাংলাদেশকে। ওয়ানডেতে দারুণ সাফল্য আসলেও এই ফরম্যাটে দলকে উজ্জ্বীবিত করতে পারছেন না- কোচ হাথুরাসিংহের অভিযোগ ছিল এমনটাই। মাশরাফিকে সরিয়ে নতুন কাউকে অধিনায়ক করার প্রস্তাবটা হাতুরাসিংহের কাছ থেকেই আসে। বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রথমে আলোচনা করেন ম্যানেজার খালেন মাহমুদ সুজনের সঙ্গে। সুজন হাথুরাসিংহের প্রস্তাব সমর্থন করেন। জানা গেছে, সুজন এ নিয়ে কথা বলেন ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান, প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল অবেদীন নান্নুর সঙ্গে। এরপরই বোর্ড প্রেসিডেন্টের কাছে প্রস্তাবটি দেওয়া হয়। ঐ সময় শ্রীলঙ্কাতেই ছিলেন নাজমুল হাসান পাপন। কোচ ও ম্যানেজারের প্রস্তাবটিতে পুরো সমর্থন দেন তিনি। মাশরাফিকে সিদ্ধান্তটা জানানোর দায়িত্ব বর্তায় কোচ হাথুরাসিংহের উপর। সে সময় অবশ্য ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনও উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, টিম ম্যানেজমেন্ট এবং বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত শোনার পর মাশরাফি বিমর্ষ হয়ে পড়েন। কোচ ম্যানজোরের কাছ থেকে এমন সংবাদ পাওয়ার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না মাশরাফি। বিষয়টাকে অপমান হিসেবে নেন তিনি। এবং দল থেকেই অবসরের ঘোষণা দিয়ে দেন। মাশরাফির এই সরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে খালেদ মাহমুদ সুজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। হাথুরার প্রস্তাবে যদি সুজন সায় না দিতেন তাহলে বোর্ড প্রেসিডেন্টও রাজি হতে না বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ বোর্ড প্রেসিডেন্ট ম্যানেজার সুজনের কথা বেশ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। হাথুরার প্রস্তাবটা যদি সুজন না করে দিতেন তাহলে বোর্ড প্রেসিডেন্টের কানে পর্যন্তই হয়তো আসতো না। আর আসলেও বোর্ড প্রেসিডেন্ট তখন দ্বিধায় পড়ে যেতেন। তখন ‘জনপ্রিয়’ অধিনায়ককে অপসারনের পথে হয়তো হাঁটতেন না নাজমুল হাসান পাপন। মাশরাফিকে অধিনায়কত্ব থেকে সরানোর ক্ষেত্রে যে পুরোপুরি সমর্থন ছিল সুজনের, সেটা তো তার কথাতেই পরিস্কার। তিনি বলেছেন, টিম ম্যানেজমেন্ট অনেক ভেবে চিন্তে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বেকাপ নিয়ে চিন্তা করেছি। আমাদের আসলে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। তাই নতুন একজন নেতার কথাই চিন্তা করা হয়েছে। চিন্তাটা মূলত কোচ হাথুরাসিংহের কাছ থেকে এসেছে। এরপর আমর আলোচনা করে এই সিদ্ধান্তে আমি। আর সেটা মাশরাফিকে জানিয়ে দেয়া। আমার মনে হয় যা করা হয়েছে তা ভালোর জন্যই। সবার এটা স্বাভাবিকভাবেই মেনে নেয়া উচিৎ। যা করা হয়েছে তা দলের ভালোর জন্যই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ