ঢাকা, মঙ্গলবার 11 March 2017, ২৮ চৈত্র ১৪২৩, ১৩ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অশান্তির কারিগররাই শান্তির প্রচারক!

এ কোন্ বিশ্বে আমাদের বসবাস? চারদিকে শান্তি, সৌহার্দ্য আর মানবতার কথা। অথচ বাস্তবে হিংসা-বিদ্বেষ-উগ্রতা ও সহিংসতার পরিবেশ। জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতি তো কম হলো না। প্রতিদিনই মুদ্রিত হচ্ছে বস্তা বস্তা গ্রন্থরাজি। চারদিকে এত জ্ঞান কিনতু জ্ঞানের আলো কোথায়? চারদিকে আজ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কত প্রচারণা। আর পরাশক্তিগুলোর বক্তৃতা-বিবৃতি দেখলে মনে হয় ওদের মতো ভালো আর কেউ নেই। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কত পরিশ্রমই না ওরা করে যাচ্ছে। তবে তথ্যভিত্তিক পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ওরা যেন বিশ্ব রঙ্গমঞ্চের চতুর অভিনেতা। বাস্তবতা হলো ওদের কারণে আজ পৃথিবীতে এত অশান্তি, এত সন্ত্রাস।
আমাদের এই উপমহাদেশের চিত্রও আলাদা কিছু নয়। এখানেও অভিনয় চলছে। শক্তিমানরা পাশ্চাত্যের পান্ডুলিপিতে পার্শ্ব-চরিত্রের ভূমিকায় অভিনয় করছেন, আবার নিজেদের রচিত পাণ্ডুলিপিতে মূল চরিত্রে অভিনয় করছেন। আমাদের উপমহাদেশে সবচেয়ে বড় দেশ ভারত। ভারতের শাসকরা নিজেদের পরিচয় দিয়েছে গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে। এমন পরিচয়ে নিষ্ঠাবান থাকলে তো প্রতিবেশী ছোট ছোট রাষ্ট্রগুলোর শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে তেমনটি লক্ষ্য করা যায় না। বাংলাদেশ একটি শান্তিপ্রিয় ও গণতান্ত্রিক দেশ। সব ধর্মের মানুষ এখানে সম্প্রীতির বাতাবরণে দীর্ঘকাল ধরে বসবাস করে আসছে। অথচ এই দেশটির বিরুদ্ধে উগ্রতা ও সাম্প্রদায়িকতার প্রোপাগাণ্ডা চালাচ্ছে একটি মহল। এমন প্রোপাগাণ্ডার পেছনে রয়েছে কুৎসিত ষড়যন্ত্র। এরপরও বাংলাদেশের জনগণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পথেই চলছে। এর পেছনে বড় অবদান রেখেছে বাংলাদেশের জনগণের ধর্মীয় চেতনা ও সামাজিক মূল্যবোধ।
বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় উচ্চকণ্ঠে বলা প্রয়োজন যে, পরিকল্পিত প্রোপাগাণ্ডায় কখনও সত্যকে মিথ্যায় পরিণত করা যায় না। সত্য আপন গুণেই উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। অবশ্য সত্যকে দেখার জন্য চোখ খোলা রাখতে হয়। কেউ চোখ বন্ধ রাখলে কিংবা দলকানা হলে তার পক্ষে সত্য খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর আরএসএসসহ উগ্র হিন্দুরা ভারতে যে অমানবিক ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে তাতে কোন বিবেকবান মানুষ এখন ভারতকে ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করতে পারে না। গরুর গোস্ত খাওয়া নিয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে হত্যাকাণ্ডসহ যেসব হিংসাত্মক ঘটনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে তাতে ভারতের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সুস্থতা নিয়ে বড় প্রশ্ন জাগে। ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর জুলুম-নির্যাতনের কর্মকাণ্ডে এখন যুক্ত হয়েছে উড়িষ্যাও। উড়িষ্যায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় মুসলমানদের ৮০টি ঘর ও দোকানে অগ্নিসংযোগ করেছে উগ্র হিন্দুরা। দাঙ্গাকারীরা মুসলমানদের বাড়িঘর ও দোকানপাটে লুটপাটও চালিয়েছে। সেখানকার স্কুল-কলেজগুলোও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। প্রতিবেশী বড় দেশের এসব কর্মকা- নিয়ে আমরা কোন প্রোপাগান্ডা কিংবা বিদ্বেষ ছড়াতে চাই না। শুধু নেতাদের কাছে আবেদন রাখতে চাই, এসবের পরিবর্তে কি শান্তির পথে চলা যায় না?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ