ঢাকা, মঙ্গলবার 11 March 2017, ২৮ চৈত্র ১৪২৩, ১৩ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিটির উদ্বেগ সত্ত্বেও বাংলাদেশে কমছে না বিচার বহির্ভূত হত্যা

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশের উদ্যোগে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মৃত্যুদণ্ড, কারাগার পরিস্থিতি, মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালীকরণ, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ, লিঙ্গ, ধর্ম, বর্ণ-জাতি ও গোষ্ঠিগত বৈষম্য বাল্যবিবাহ ও ক্ষতিকর  সামাজিক প্রথা শরণার্থী ও রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীদের অধিকার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিটি। এরপরও বাংলাদেশে এসব ঘটনা কমছে না বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিটির সমাপনী পর্যবেক্ষণে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে  হিউম্যান রাইটস ফোরাম। গতকাল  সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এই উপলক্ষ্যে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা  হয়। এতে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন।
প্রসঙ্গত, গত ৬ ও ৭ মার্চ ২০১৭ সালে জেনেভায় ১১৯তম অধিবেশনে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক ধারাসমূহ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছে। বাংলাদেশের পক্ষে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হকের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি দল এতে অংশ নেয়।
ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত ১৯৬৬ সালের সনদটি বাংলাদেশ অনুমোদন করে ২০০০ সালে। অনুমোদনের এক বছর এর অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দেয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রিপোর্ট জমা দেয়া হয় ১৪ বছর পর অথাৎ ২০১৫ সালে।
তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিনিয়ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, র‌্যাব বা অন্যান্য নিরাপত্তাবাহিনী দ্বারা বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-, গুম, অতিরিক্ত বল প্রয়োগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছি। এসব ঘটনায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিটি উদ্বিগ্ন। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার তা অস্বীকার করার প্রবণতায় এবং জাতীয় আইনে কার্যকরভাবে এ ধরণের ঘটনাগুলো তদন্ত সাপেক্ষে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও কোনো সরকারী উদ্যোগ সম্পর্কে তারা তথ্য পায়নি বলে জানিয়েছে। এছাড়া হেফাজতে স্বীকারোক্তি আদায় বা তথ্য বের করার জন্য আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী বা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও রাষ্ট্রীয় প্রতিবেদনে এ ধরণের ঘটনার তদন্ত চলছে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতায় নানা প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করে সারা হোসেন বলেন, এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের বিরাগভাজন হওয়ার সাথে সাথে চরামপন্থীদের সহিংস হামলা একটি ভীতিকর আর আত্মনিয়ন্ত্রণমূলক পরিবেশ তৈরি করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিটি বাংলাদেশে ব্লগারহত্যা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ, বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়ন্ত্রণমূলক ধারা অন্তর্র্ভূক্তির কারণে সাংবাদিক ব্লগার সাধারণ নাগরিক, মানবাধিকার কর্মী এবং নাগরিক সংগঠনগুলোর মত প্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্র সীমিত হয়ে গেছে। 
বাংলাদেশের মানবাধিকার রক্ষায় ১৬ দফা সুপারিশ করা হয় কমিটির পক্ষ থেকে। এতে গুমকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে সুষ্ঠু তদন্ত বিচার করে অপরাধীকে শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করাসহ আন্তর্জাতিক মানদ- আইন শৃঙ্খলাবাহিনী কর্তৃক বল প্রয়োগ ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের সাধারণ মূলনীতির আলোকে বিশেষ বাহিনীর দ্বারা বল প্রয়োগের মাত্রা নির্ধারণ করতে আইনি কাঠামোর পর্যালোচনা করার আহ্বান জানানো হয় কমিটির পক্ষ থেকে।
এসময় অন্যদের  মধ্যে আইন ও সালিশ কেন্দ্রসহ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ