ঢাকা, মঙ্গলবার 11 March 2017, ২৮ চৈত্র ১৪২৩, ১৩ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সিংড়ায় বিদ্যুতের লোডশেডিং দুর্ভোগে পরীক্ষার্থী ও কৃষকরা

সিংড়া (নাটোর) সংবাদদাতা : নাটোরের সিংড়ায় গত কয়েকদিন যাবৎ বিদ্যুৎ নেই বললেই চলে। চলছে এইচ এস সি ও সমমানের পরিক্ষা। কিন্তু ঠিকমত বিদ্যুৎ পাচ্ছে না পরিক্ষার্থীরা। পৌর শহরের সরকারপাড়া গ্রামের রায়হান নামের এক পরিক্ষার্থী জানান, সারাদিন চরম গরম এরই মধ্যে চলছে পরিক্ষা, সন্ধ্যার পরে পড়তে বসলে বিদ্যুৎ থাকেই না। রাত ১০ টার মধ্যে ৮/১০ বার বিদ্যুৎ যায় আর আসে। পরিক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য বিদ্যুতের প্রয়োজন অতুলনীয়। এদিকে চলনবিল জুড়ে চলছে বোরো ধানের আবাদ। কিন্তু জমিতে সেচ দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাচ্ছেনা কৃষকরা। এর কারণ অযৌক্তিক লোডশেডিং। সাঁতপুকুরিয়া গ্রামের কৃষক মজিবর রহমান সাংবাদিকদের বলেন বিদ্যুতের কারণে আমাদের চরম ক্ষতি হচ্ছে।  আমরা এই সমস্যা থেকে দ্রুত পরিত্রাণ চাই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ-১ এর সিংড়া জোনাল এর ডি জি এম জাকির হোসেন বলেন, আমাদের চাহিদা ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কিন্তু আমরা পাচ্ছি ৫/৬ মেগাওয়াট। তাছাড়াও ঢাকা অফিস থেকে ২৪ ঘন্টায় ৩/৪ বার কেডা অপারেশন হয়।

সিংড়ায় ৪ দাঙ্গাবাজের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি
সরকারি জায়গা থেকে উচ্ছেদের দাবিতে ইউএনও অফিস ঘেড়াও!
নাটোরের সিংড়া উপজেলার বড়চৌগ্রাম পুকুরপাড় এলাকার একই পরিবারের ৪ দাঙ্গাবাজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ও তাদেরকে সরকারি খাস জায়গা থেকে উচ্ছেদের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেড়াও করেছে এলাকাবাসী। গতকাল সোমবার দুপুরে বড় চৌগ্রাম এলাকার প্রায় ৪শ নারী-পুরুষ ঘন্টাব্যাপী ইউএনও অফিস ঘেড়াও করে রাখে। এ সময় তারা তাদের দাবি সম্বলিত একটি কপি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে হস্তান্তর করে। সম্প্রতি পুকুরপাড় এলাকায় নির্মিয়মান একটি মসজিদের মাটি ভরাটকে কেন্দ্র করে ওই চারজন মসজিদ কমিটির বর্তমান সহ সভাপতির ছোট ভাই ও ভাস্তেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহতদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হেলাল হোসেন ও সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ শেখ জানান, ২০১০ সালে ১৪ শতক সরকারি খাস জায়গা পত্তন নিয়ে তাতে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। এলাকাবাসী ওই মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি। প্রায় একই সময়ে পার্শ্ববর্তি গ্রামের মকবুল হোসেন তার সন্তান রনি, গোলাম ও স্ত্রী রমিছা বেগমসহ মসজিদের জায়গার পার্শ্ববর্তি প্রায় ২৫ শতক খাস জায়গার দখল নিয়ে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে বসবাস করতে থাকে। মুসল্লিদের মতামত ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মসজিদটির পাকাঘর নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে মসজিদ কমিটি। সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নের অংশ ইউনিয়ন ভূমি সার্ভেয়ারের মাধ্যমে মসজিদের জায়গার সীমানা নির্ধারণ করা হলেও মকবুল ও তার পরিবারের সদস্যরা তা প্রকাশ্যে তুলে ফেলে দেয়। এছাড়া গত ৭ এপ্রিল মসজিদের জায়গায় মাটি ফেলতে গেলে গাড়ির ড্রাইভারকে মারতে উদ্যত হয় মকবুলরা। এ সময় বাধা দিতে গেলে মকবুল ও তার পরিবারের অপর তিন সদস্য আব্দুল হামিদের ছোট ভাই হালিম ও ভাস্তে শামিমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হালিমের মেরুদন্ডের পাশে জখম হয়ে যায়। তাদের দুইজনকেই বর্তমানে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় ৮ এপ্রিল আব্দুল হামিদ শেখ বাদি হয়ে উল্লেখিত চারজনের বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ রমিছা বেগম ছাড়া তিনজনকে গ্রেফতার করে। সকল আসামীদের গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও মুসল্লিদের ইবাদত এবং সাধারণ গ্রামবাসীদের শান্তিপূর্ণ বসবাসের স্বার্থে সরকারি খাস জায়গা থেকে তাদেরকে উচ্ছেদের দাবিতে রবিবার দুপুরে ইউএনও অফিস ঘেড়াও করে গ্রামবাসীরা।
বিষয়টি সম্পর্কে যোগাযোগ করা হলে সিংড়া থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং মামলার আইও এসআই শাহআলম জানান, রবিবার বিকেলে তিন আসামীকে কোর্টে চালান দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ইউএনও (ভারপ্রাপ্ত) মুশফিকুর রহমান গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ ও দাবি সম্বলিত কাগজ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আসামীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ