ঢাকা, মঙ্গলবার 11 March 2017, ২৮ চৈত্র ১৪২৩, ১৩ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নারীর প্রতি সহিংসতা ও জঙ্গিবাদ রোধে বাংলাদেশে কাজ করবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ -তারানা হালিম

স্টাফ রিপোর্টার : সংসদ সদস্যদের (এমপি) ফেসবুক পেজ ভেরিফাইড করবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ, জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ভুয়া আইডি বন্ধ করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। একইভাবে নারীর প্রতি সহিংসতা ও জঙ্গিবাদ রোধ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি নিতে যাচ্ছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক বৈঠক থেকে ফিরে গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। এ সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার উপস্থিত ছিলেন।
গত ৩০ মার্চ সিঙ্গাপুরে ফেসবুকের ম্যানেজার ট্রাস্ট অ্যান্ড সেইফটি (সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়া) এর সঙ্গে বৈঠক করেন টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী। সেখানে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন পাবলিক পলিসি ডিরেক্টর (ইন্ডিয়া, সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়া)। এর আগে গত ২৩ মার্চ লন্ডনে ফেসবুকের ম্যানেজার (গ্লোবাল পাবলিক পলিসি ডেভেপমেন্ট) সংক্ষিপ্ত আলোচনায় উত্থাপন করা হয় বলেও জানান তারানা হালিম।
সাংবাদিক সম্মেলনে তারানা বলেন, জাতীয় সংসদের সব সদস্যের ফেসবুক পেজ ভেরিফাইড করে দেবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে চিঠি লিখছি, সংসদ সদস্যদের যে পেজটি ভেরিফাইড হবে তার ইউআরএলটি আমাদের জানাবার জন্য।
নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে পোস্ট বা ভিডিও সরানো হবে জানিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট বা ভিডিও’র মাধ্যমে যে সহিংসতা হয়, এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ফেসবুক, ডাক ও টেলিযোযোগ বিভাগ এবং বিভিন্ন নারী সংগঠনের সঙ্গে একটি দৃশ্যমান কর্মসূচি গ্রহণ করবে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ যে সচেতনতার আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছে সেটি খুব দৃশ্যমান হবে।
ফেসবুক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) বুস্ট করার জন্য বাংলাদেশে একটি কর্মসূচি গ্রহণ করবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে সমস্ত এসএমই আছে সেগুলো কিভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে আরও প্রসার ঘটানো যায়, এ বিষয়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে।
ফেসবুকের মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধের মামলার তদন্ত ও অপরাধীদের শনাক্তে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ফোকাল পয়েন্টদের নাম ফেসবুকের কাছে পাঠানো হচ্ছে বলেও জানিয়ে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ হেড কোয়ার্টার, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ডিবি পুলিশ, সিআইডি, র‌্যাব, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন থেকে ফোকাল পয়েন্ট পাঠাবেন; যা ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবো।
তারানা হালিম বলেন, যে পোস্টগুলোর বিষয়ে আপত্তি থাকে সেখানে অনেকগুলো ঘর আছে। কোনোটিতে বলা হয় এটি মানহানিকর কিনা। আমরা প্রস্তাব রেখেছি এই ঘরের মধ্যে একটি ছক যুক্ত হবে, যেখানে ভিকটিমকে জিজ্ঞাস করা হবে আপনার এই পোস্ট বা ভিডিও সম্পর্কে আপনার মানসিক অবস্থা কি? এই ঘরটি যখন একজন ভিকটিম পূরণ করবেন তখন ফেসবুক কর্তৃপক্ষের জন্য বুঝতে সহজ হবে যে ওই পোস্টটির কারণে তার মানসিক অবস্থাটা কি রকম। সেটি যদি এমন হয় যে আমার আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা করছে, তখন সেটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সাড়া দিয়ে পোস্ট বা ভিডিওটি যেন অপসারণ করে।
পোস্ট বা ভিডিও অপসারণে তারা সম্মত হয়েছেন। ছকটি যুক্ত করার বিষয়ে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ইতিবাচকভাবে দেখবেন বলে জানিয়েছেন, কারণ এটি নীতি নির্ধারণী বিষয়।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তারানা হালিম জানান, তারা আন্তরিক। কোনো রকমভাবে জঙ্গিবাদকে সমর্থন করেন না। জঙ্গিবাদকে উৎসাহ প্রদান করে এমন কনটেন্ট নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক। শুধু বাংলাদেশের না, সমস্ত বিশ্বে জঙ্গিবাদি ও ধর্মীয় উগ্রবাদী বিভিন্ন পোস্টের বিষয়ে তারা বলেন, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অপসারণ করবেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের অঞ্চলের সংস্কৃতি যেহেতু একই রকম, তোমাদের বুঝতে সাহায্য করার জন্য কিছু করা যায় কিনা- তখন তারা বললেন, মোটামুটিভাবে এখন তারা আলাদা ডেস্কের মতোই কাজ করছেন। এশিয়ার অনেক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যারা বাংলা ভাষা এবং হিন্দি ও অন্যান্য ভাষায় পারদর্শী, তারা কনটেন্টগুলো বুঝতে পারেন। আমরা অনুরোধ করেছি, যেগুলো একেবারেই বুলিং পর্যায়ে পড়ে, যেগুলো চূড়ান্ত মানহানিকর, সেগুলোর ব্যাপারে তাদের বলেছি দ্রুত সাড়া দিতে। এগুলো এত দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় যে ওই ব্যক্তির মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হয়। তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেবেন। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৬৩-৬৫ শতাংশ অভিযোগের সাড়া এসেছে বলে জানান তারানা হালিম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ