ঢাকা, মঙ্গলবার 11 March 2017, ২৮ চৈত্র ১৪২৩, ১৩ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কেন মঙ্গল শোভাযাত্রা বাধ্যতামূলক?

সুমাইয়্যা সিদ্দীকা : পহেলা বৈশাখের উৎসবের একটি গুরুত্ব অঙ্গ হলো মঙ্গল শোভাযাত্রা। এই দিনে সনাতন বা হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পশু, পাখি, দানব, জানোয়ারের প্রতিকৃতি নিয়ে মিছিল করে। তারা মনে করে, এতে সমস্ত অশুভ নিপাত যাবে। তাদের মঙ্গল সাধন হবে।
সংবাদ মাধ্যম থেকে আমরা জেনেছি যে, বাংলাদেশ সরকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ ১লা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ পালন করার নির্দেশ প্রদান করেছেন।
* অথচ মুসলমানদের মঙ্গল বা কল্যাণের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা সূরা আন-নাজমের ২৫ নং আয়াতে বলেছেন- “পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সব মঙ্গলই আল্লাহর হাতে।”
* এছাড়াও রমযানের শেষ দশকে লাইলাতুল ক্বদ্বরের রাতগুলোতে আল্লাহ মুসলমানদেরকে কল্যাণ বা মঙ্গলের জন্য দুআ করতে বলেছেন। নামায আদায় করতে বলেছেন। যা কুরআন ও হাদীস কর্তৃক প্রমাণিত।
* ইসলাম যেখানে জীবজন্তুর ছবি আঁকাকে নিষিদ্ধ করেছে সেখানে জীজন্তুর মূর্তি বানিয়ে কোনো উৎসব পালন করা কিভাবে একজন মুসলমানের জন্য বাধ্যতামূলক হতে পারে?
* নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশাকে ইসলাম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। মঙ্গল শোভাযাত্রার নামে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার বৈধতা দিয়ে সরকার পর্দার বিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছে।
* এ উৎসব তরুণ প্রজন্মের চরিত্র বিধ্বংসী উৎসব ছাড়া আর কিছুই নয়।
* পুলিশের উপস্থিতি ও সিসি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও ২০১৫ সালের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে প্রকাশ্য দিবালোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় ২০ নারীর শ্লীলতাহানির ঘটনা কি দেশবাসী ভুলে গেছেন?
* প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা থেকে আরো জানা গিয়েছিলো ঐ দিন সারাটা দিন জুড়ে বিভিন্ন বয়সের সংখ্যা নারী নির্যাতিতা হয়েছে। (সূত্র : http://www.kalerkhobor.com/1131)
* এই তো কদিন পূর্বে ১৩ মার্চ ২০১৭ হোলি উৎসবে বা দোলযাত্রায় নারীর নিগৃহীত হওয়ার কথাও কি ভুলে গেছেন আপনারা?
* জাতি জানতে চায়, সরকার কর্তৃক দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের উপর কার মঙ্গল সাধনের জন্য হিন্দুয়ানী মঙ্গল শোভাযাত্রাকে আইন করে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে?
* সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের পক্ষ থেকে এখন যদি দাবি করা হয় আইন করে নামায পড়া বাধ্যতামূলক করুন তাহলে কি সরকার দেশের সকল জনগণকে জঙ্গি ট্যাগে নিকেশ করবেন? যেমন জঙ্গি ট্যাগে লাশ হয়েছে মৌলভীবাজারে ২ মাস থেকে ১২ বছরের শিশুরা।
* কই ইউনেস্কো যখন ইসলামকে বিশ্বের সবচেয়ে শান্তি ধর্ম বলে স্বীকৃতি দিয়েছিল তখন তো কোন সাড়া-শব্দ ছিল না (!) আর এখন মঙ্গলশোভা যাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান দিলো ইউনেস্কো তখন কুরআন-হাদীসের বিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করা হলো (!) সত্যি সেলুকাস।
* সার্বজনীন উৎসব বলতে আমি আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে যা বুঝি তা হলো- সার্বজনীন উৎসব হলো এমন উৎসব যা কারো ধর্মীয় মূল্যবোধ বা শ্বিাসকে ন্যূনতম আঘাত করা হবে না। অথচ এ মঙ্গলশোভা যাত্রা মূলত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মের অংশ। আর যা বাংলাদেশের ৯০% মুসলমানদের বিশ্বাসের পরিপন্থী। এ ধরনের উৎসব কিভাবে সবার জন্য বাধ্যতামূলক হতে পারে?
ইসলামী সংস্কৃতির বিরোধী মঙ্গলশোভা যাত্রায় অংশগ্রহণ করা সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলক করা এহেন দুঃসাহস দেখিয়ে সরকার ও তার দোসররা যে এদেশের সরল-সোজা মানুষকে বোকা বানিয়ে ইসলাম ও মুসলিম বিরোধীদের তাঁবেদার রাষ্ট্র বানাতে উঠে পড়ে লেগেছে তা আজ দেশবাসীর কাছে দিবালোকের মত সুস্পষ্ট।
আলেম-ওলামাসহ দেশের সকল মুসলিমকে সরকারের এ হেন ইসলাম বিরোধী কাজের মোকাবিলায় সোচ্চার হওয়া আজ সময়ের অনিবার্য দাবি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ