ঢাকা, মঙ্গলবার 11 March 2017, ২৮ চৈত্র ১৪২৩, ১৩ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পাইকগাছার ইটভাটা মালিকরা অবাধে কেটে নিচ্ছে কপোতাক্ষ বাঁধের মাটি

খুলনা অফিস : খুলনার পাইকগাছার কাশিমনগরস্থ আরবিএস ইটভাটা ইট তৈরীতে কপোতাক্ষের ওয়াপদা রাস্তা ও পার্শ্ববর্তী নাছিরপুর খালের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে ২০/২৫ টি ট্রলি ও প্রায় অর্ধ শতাধিক ভ্যানযোগে তারা ঐ মাটি নিয়ে যাচ্ছে ভাটায়। এতে নদী এলাকায় আসন্ন বর্ষা মওসুমে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে বন্যার আশংকা ও ট্রলিযোগে মাটি বহন করায় জাইকার অর্থায়নে সদ্য নির্মিত তালতলা-কাশিম নগর পীচের রাস্তাটির বিভিন্ন অংশে ধস ও সেখানকার ৩টি খালের একমাত্র সংযোগ কালভার্টটি ভেঙ্গে ইতোমধ্যে বেশ কিছু অংশ দেবে গেছে। এছাড়া কপোতাক্ষের ওয়াপদা’র রাস্তার উপর রাখা খননকৃত মাটি কেটে নেয়ার পর ইতোমধ্যে তারা রাস্তাটি ২/৩ ফুট গর্ত করে কেটে নিয়েছে। ফলে রাস্তাটি এলাকাবাসী জানায়, ৮০’র দশকে সাতক্ষীরার মৃত আতিয়ার রহমান পাইকগাছার কপিলমুনির কাশিমনগর কপোতাক্ষ নদীর তীরবর্তী পাইকগাছা-খুলনা প্রধান সড়কের পাশে জনবসতি এলাকায় গড়ে তোলেন আরবিএস ইটের ভাটা। সেই প্রথম থেকে তারা সরকারী কোন নীতিমালা না মেনে প্রথমত টিনের চিমনি ও পরে নীচু ইটের চিমনি ব্যবহার করে অবৈধ ভাবে কাঠ দিয়ে ইট পুড়িয়ে যাচ্ছে। এতে এলাকার পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি ইতোমধ্যে এলাকায় মারাত্মকভাবে ফসলহানির ঘটনা ঘটেছে। ফলদ বৃক্ষরাজিতে এখন আর কোন ফল ধরছেনা। অনেক এলাকার বিভিন্ন গাছপালা মরে মরুভুমিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে তাদের ইটের তৈরী চিমনিটির অবস্থা খুবই খারাপ,কোনমতে তার দিয়ে জড়িযে রেখেছে। যেকোন সময় সেটা ধসে ঘটে যেতে পারে কোন প্রাণঘাতি দুর্ঘটনা। সর্বশেষ ভাটার প্রধান কাঁচামাল মাটির তীব্র সংকটে তারা ইতোমধ্যে ২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে কপোতাক্ষ খননের উচ্ছিষ্ট মাটি কেটে নিয়েছে। শুধু এখানেই শেষ নয়। তারা এবার ঠিকাদারদের ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের কর্মসৃজন কর্মসূচী প্রকল্পের আওতায় নির্মাণকৃত রাস্তাটির প্রায় ২/৩ ফুট মাটি কেটে নিয়েছে। প্রসংগত রাস্তাটি তীরবর্তী এলাকার মানুষের বন্যা নিয়ন্ত্রণের একমাত্র বাঁধ হিসেবে কাজ করে কিন্তু এবার সেই রাস্তার মাটি কেটে ইট নির্মাণ করায় আসন্ন বর্ষা মওসুমে এলাকাবাসী ব্যাপকভাবে বন্যার আশংকা করছেন। এছাড়া তারা জাইকার অর্থায়নে সদ্য নির্মিত তালতলা-কাশিমনগর পীচের রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন বিরামহীন ট্রলি ও ভ্যান যোগে মাটি বহন করায় একদিকে যেমন রাস্তাটি মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে নষ্ট হয়ে গেছে অন্যদিকে সড়কটিতে প্রতিদিন ছোট-খাট দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ