ঢাকা, মঙ্গলবার 11 March 2017, ২৮ চৈত্র ১৪২৩, ১৩ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনার বাজুয়ায় এবার তরমুজের ফলন ভালো

খুলনা: দাকোপে তরমুজের ক্ষেত।

খুলনা অফিস: খুলনার দাকোপ উপজেলায় শস্য ভা-ার নামে খ্যাত বাজুয়া অঞ্চলে এবার ব্যাপক তরমুজের চাষ হয়েছে। বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনায় দিন গুনছে চাষীরা। মাত্র দুই মাস সময়ের ব্যবধানে তরমুজ চাষে ভালো মুনাফা অর্জনে সক্ষম হবে বলে কৃষকরা ধারণা করছে। গত বছর তরমুজ চাষ করে বাজুয়া অঞ্চলের চাষীরা প্রায় ৩০ কোটি টাকা নগদ অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম হয়েছিল।
কৃষকরা জানান, এবার এখনও পর্যন্ত প্রাকৃতিক আবহাওয়া কৃষকদের তরমুজ চাষের উপযোগী রয়েছে এবং মাঝে মাঝে বৃষ্টি হওয়ায় তরমুজের চারার গঠন ভাল অবস্থায় আছে। এখন কৃষকদের দাবি তারা যাতে তরমুজ দ্রুত বাজারজাত করতে পারে তার জন্য এলাকার গাড়ী চলার অনুপযোগী রাস্তা-ঘাটগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য যথাযথ কর্তৃপরে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। কেননা যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে চাষীদের উৎপাদিত ফসল সঠিকভাবে পরিবহন করতে পারলে তারা দাম যেমন ভালো পাবে তেমনি চাহিদাও বহুলাংশে বেড়ে যাবে।
চাষীদের তথ্য মতে, বাজুয়ার তরমুজ বাংলাদেশের সকল অঞ্চলের তরমুজের চেয়ে সুস্বাদু। তাই প্রতি বছর বাজুয়ার তরমুজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, বেনাপোল, চাঁদপুর, যশোর, কুয়াকাটা, খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল, রায়েন্দা, বটিয়াঘাটা, গোপালগঞ্জসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রয় করা হয়।
এলাকার কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় কৃষকরা তরমুজ চাষে আরো বেশি বিনিয়োগ বাড়িয়েছে এবং এ বছর অনুপাতে ৪ গুণ বেশি তরমুজ উৎপাদনের আশা রাখছে।
এলাকার বাজুয়া, লাউডোব, কৈলাশগঞ্জ ও দাকোপ ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, যাতায়াত ও মালামাল পরিবহনের রাস্তা-ঘাট খারাপ থাকায় বড় গাড়িগুলি এক দিকে কষ্টে যেতে পারলেও ঘোরার মতো অবস্থা থাকে না। অপরদিকে মুখোমুখি অন্যদিক থেকে আসা কোন গাড়ী পৌঁছালে তা কোন ভাবেই পাশ কাটিয়ে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় দু’টি গাড়ীরই একটি করে চাকা রাস্তার নিচে নামিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়।
অপরদিকে পোদ্দারগঞ্জ ঘাট, বাজুয়া কোম্পানী ঘাট, বাজুয়া চড়ারবাঁধের ঘাট, বাজুয়া যজ্ঞবাড়ীর ঘাট, খুটাখালী কালীমন্দির গেটের ঘাটের দুই পাশ দিয়ে উঠানামার সিঁড়ি করার জন্য ঘাটের কুলিরা জোর দাবী জিোনয়ছে। এ ব্যাপারে তারা ঘাটগুলির দ্রুত সংস্কারের জন্য এমপি ও উপজেলা দপ্তরে স্মারক লিপি দিয়েছে বলে ঘাটের লেবার সর্দার যাদব ম-ল জানান।
দকোপ উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আবুল হোসেন জানিয়েছেন তাদের সমস্যা যত শীঘ্র সম্ভব তিনি নিরসন করবেন। এ ব্যাপারে দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, ৩৩নং পোল্ডারের পাঁচটি ইউনিয়নে গত বছর যে পরিমাণ জমিতে তরমুজ চাষ করা হয়েছিল তার চেয়ে এবার দ্বিগুণ জমিতে তরমুজ চাষ করেছে। এবার দাকোপে এক হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করেছে কৃষকরা। রাস্তাঘাট সংস্কারের জন্য তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ