ঢাকা, বুধবার 12 April 2017, ২৯ চৈত্র ১৪২৩, ১৪ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে নতজানু রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে -মির্জা ফখরুল

গতকাল মঙ্গলবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আমারদেশ পরিবারের উদ্যোগে পত্রিকা বন্ধের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

 

# বাংলাদেশকে এখন আর স্বাধীন রাষ্ট্র বলা যাবে না--- মাহমুদুর রহমান

# দেশে জঙ্গিবাদ ভারতীয় ‘র’-এর প্ররোচনায় হচ্ছে ---ডা.জাফরুল্লাহ চৌধুরী

# শ্লোগান নয় দেশ রক্ষায় রাজপথে নামতে হবে --- ফরহাদ মজহারর

স্টাফ রিপোর্টার: রাজপথের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই অবৈধ আওয়ামী সরকারকে পরাস্ত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে সরকার দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। এ অবস্থা আর চলতে দেয়া যাবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এবার রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমেই এই সরকারকে পরাস্ত করতে হবে। দৈনিক আমারদেশ পত্রিকা বন্ধের ৪ বছর উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক প্রতিবাদী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ প্রতিবাদী সভার আয়োজন করে আমারদেশ পরিবার নামের একটি সংগঠন।

আমারদেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ঢাবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক কবি ফরহাদ মজহার, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, শওকত মাহমুদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, জাবির শিক্ষক ড. দিলারা বেগম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, স্বেচ্ছা সেবকদলের সভাপতি শফিউল আলম বারী, যুবদল সেক্রেটারি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, কাদের গণি চৌধুরী, এম আব্দুল্লাহ, ইলিয়াস খান, জাহাঙ্গির আলম প্রধান, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, আব্দুস শহীদ, আখতার হোসেন, ডা. ফরহাদ হালিম, ডা. এডেজএম জাহিদ হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কবি আব্দুল হাই সিকদার। 

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা গত প্রায় ৮/৯ বছর ধরে বলে আসছি, আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনোই একসাথে চলতে পারে না। এরা মানুষের বাক-স্বাধীনতা ও মুক্ত গণমাধ্যমে বিশ্বাস করে না। স্বাধীনতার পরে এই দলটি দেশের সব কটি পত্রিকা বন্ধ করে মাত্র ৩টি পত্রিকা চালু রেখেছিল। এরা দেশে গণতন্ত্র হত্যা করে বাকশাল কায়েম করেছিল। ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগের যে চরিত্র ছিলো তাদের সেই চরিত্র এখনো বদলাই নি বলেও মন্তব্য করেছেন বিএনপির এই সিনিয়র নেতা। তিনি বলেন, দেশে চলমান জঙ্গিবাদ থেকে মুক্তি পেতে হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে তাঁবেদার এই সরকারকে পরাস্ত করতে হবে।

ভারতের সাথে চুক্তি প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, সরকার দাবি করে এ চুক্তির মধ্য দিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নাকি উচ্চতর পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিন্তু আসলে এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ নতজানু রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে ভারত থেকে আমাদের ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে অক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, ফারাক্কা ইস্যুকে যেভাবে জিয়াউর রহমান আন্তর্জাতিক মহল ও জাতিসংঘে তুলে ধরেছেন সেভাবে আমরা কাজ করবো। দেশের ন্যায্য দাবির কথা বিশ্ববাসীকে জানাবো। 

এ সময় তিনি আমারদেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান প্রসঙ্গে বলেন, তিনি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথানত করেন না। তিনি সাহস ও অনুপ্রেরণার প্রতীক। তিনি সরকারের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন বলেই তার উপর নির্যাতন করা হয়েছে। 

বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন চলছে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, এই সরকারের আমলে বিরোধী দলের দুই শতাধিক নেতাকর্মী খুন হয়েছে। ৫ শতাধিক নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। এমন কোনো নেতাকর্মী পাওয়া যাবে না যাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। সবাই পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এসবের মধ্যে তারা সংগ্রাম করছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের ন্যায় আবারো ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নামতে হবে। তাহলেই আমরা দেশকে রক্ষা করতে পারবো। এ সময় তিনি অবিলম্বে আমারদেশ পত্রিকা খুলে দেয়ার আহ্বান জানান। 

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ক্ষমতাসীনদের টার্গেট একটাই, যেকোনভাবে সরকারের ক্ষমতায় থাকা। গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তারা অনেক কমিটি করেছে। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের কর্মীরা এখন আর স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। এখন তাদের ‘ম্যানেজারের’ দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাই অনেক সাংবাদিক এখন চাকরি ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। অনেকে বিদেশ চলে গেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী আস্থার উন্নতির কথা বলছেন। আমরা জানতে চাই এটা কাদের আস্থার কথা বলা হচ্ছে। আস্থা উন্নতি হলে আওয়ামী লীগ ও ভারতের হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণের কোনো উন্নতি হয়নি। তিনি বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর ন্যায্য হিস্যা নিয়ে চুক্তি হবে। কিন্তু সেটি হলো না। ভারতের সাথে প্রধানমন্ত্রী যা যা করেছেন সবই জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে। 

এমাজউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা সব সময় শুধুই দুঃখের কথা বলবো এটা কারো কাছে কাম্য নয়। চুপ থাকার সময় ফুরিয়ে গেছে। জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে জেগে উঠতে হবে। তিনি বলেন, শুধু মিটিং করে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না। রাজপথে নামতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের অনেক প্রত্যাশা ছিল কিন্তু কিছুই হয়নি। ক্ষমতাসীনরা শুধু তাদের স্বার্থটাই দেখেছে। দেশের নয়। 

 দেশে জঙ্গিবাদ ভারতীয় ‘র’ এর প্ররোচনায় হচ্ছে মন্তব্য করে মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সৃষ্টি। তারা এখন বাংলাদেশে জঙ্গি খেলা চালিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনাকে ১৯ সালের নির্বাচনে জিতিয়ে দিতেই যা খুশি তাই করাচ্ছে ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনী উল্লেখ করে তিনি বলেন, মরে লাখে লাখে, শেষে দেখা যায় ওই আস্তানায় দুই জঙ্গি শিশু মরে আছে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গ টেনে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনার ভারত সফরে দেশের তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য অর্জন হয়নি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত গেলেন তবে তিস্তা নিয়ে কোনো কথা বলতে দেখিনি। ভারত যে একটা হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত হয়ে যাচ্ছে, সেখানকার সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের ব্যাপারে আমাদের প্রধানমন্ত্রী কোনো কথা বলেননি। সীমান্তে পাখির মতো গুলী করে মানুষ হত্যা বন্ধের কোনো প্রতিশ্রুতি আনতে পারেনি। এটা আনতে পারলেও দেশের জন্য বড় একটা অর্জন হতো বলেও উল্লেখ করেন মুক্তিযুদ্ধের এই সংগঠক। তিনি বলেন, ভারত তাদের স্বার্থের জন্যেই সামরিক চুক্তি করেছে। বাংলাদেশের জঙ্গি কর্মকা- চলমান রাখতেই অস্ত্র আনার চুক্তি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

পৃথিবীতে কতভাগ মানুষ মানসিক অবসাদে ভোগেন এ বিষয়ে জরিপ প্রকাশ হয়েছে জানিয়ে বিএনিপপন্থী এই বুদ্ধিজীবী বলেন, এই অবসাদ এখন পেয়ে বসেছে বিএনপিকেও। বিএনপিকে এই অবসাদ কাটিয়ে গা ঝাড়া দেয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। বিএনপি ঘুমিয়ে আছে এমন মন্তব্য করে জাফরুল্লাহ বলেন, দলের কাউন্সিল হয়ে গেছে এক বছর হলো, এখনো এক নেতার এক পদের নীতি কার্যকর হয়নি। এখনো অনেকে দুইপদে আছেন। বিএনপি নেত্রী তার দলীয় নানা সভা, বৈঠক বা আলোচনা রাতে করারও সমালোচনা করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের এখন যাত্রা শুরু হয় রাত নয়টা থেকে। তিনি তো জনগণের নেত্রী। তিনি সকালে নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ দেয়া শুরু করতে পারেননি। এটা মেনে নেয়া যায় না।

 দেশের চার থেকে ছয় কোটি মানুষ খালেদা জিয়ার উপর আস্থা রাখছে- এমন দাবি করে জাফরুল্লাহ বলেন, এমন আস্থা আমারদেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের উপরও ছিল। কিন্তু তাকে আমরা গ্রেফতরের হাত থেকে রক্ষা করতে পারিনি। তাই এই অবস্থায় খালেদা জিয়াকে মওলানা ভাসানীর দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি বলেন, ২০১৮ অথবা তার পরের বছরের শুরুতে যদি জাতীয় নির্বাচন হয় তাহলে বিএনপি কি তার জন্যে প্রস্তুত হয়েছে? সময় হয়েছে, নিজেদের ঠিক করার।

কবি ফরহাদ মজহার বলেন, আগামীতে আরও কঠোর সময় আসছে। শুধু আলোচনায় বসে শ্লোগান দিলে হবে না। সময় এসেছে রাজপথে নামার। তিনি বলেন, দেশকে ফ্যাসিবাদিদের হাতে তুলে দেয়ার জন্যই আমারদেশ পত্রিকাটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সরকার বিরোধীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা কি কি ভুল করেছেন সেগুলো খুঁজে বের করুন। নিজেরা শোধরান। চিন্তা করুন কেন দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি ও চ্যানেল ওয়ান বন্ধ হয়েছে। যখন এসবের বিরুদ্ধে আন্দোলন হচ্ছিল তখন আমরা আপনাদের দেখিনি। তিনি বলেন, এখন আদালত কিভাবে চলছে সেটি বলতে চাই না। তবে আইন বিভাগের সংস্কার প্রয়োজন। তিনি বলেন, আদালত অবমাননার অপরাধে অনেক বুদ্ধিজীবীকে অপমানিত করা হয়েছে। তখন আপনাদের আমরা পাইনি। 

তিনি বলেন, দেশের চলমান সমস্যা সমাধান করতে হলে শেখ হাসিনাকে অবশ্যই একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তার কাছে এর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু বিএনপিকে বলতে হবে, তারা ক্ষমতায় গেলে কি কি কাজ করবেন। আপনারা কি আরেকটি শেখ হাসিনা হবেন? সেটি জানাতে হবে। আপনা কি পঞ্চদশ সংশোধনী রাখবেন না বাতিল করবেন সেটিও বলতে হবে। তিনি বলেন, এসব করতে হলে কে কোন দল করে সেটি না দেখে সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। 

শওকত মাহমুদ বলেন, দেশে আজ কোনো গণতন্ত্র নেই। নেই মানুষের বাক স্বাধীনতা। এমনকি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পর্যন্ত হরণ করা হয়েছে। তার প্রমাণ হচ্ছে, এই সরকার আমারদেশ পত্রিকা বন্ধ করেছে। দিগন্ত, চ্যানেল ওয়ান ও ইসলামিক টেলিভিশন বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, দেশের মানুষের এখন একটাই দাবি, বন্ধ মিডিয়া অবিলম্বে খুলে দিতে হবে। এ সময় তিনি মাহমুদুর রহমানকে মাটি ও মানুষের শ্রদ্ধার নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন। 

রুহুল আমিন গাজী বলেন, দৈনিক আমারদেশ মানুষের কথা বলতো। গণতন্ত্রের পক্ষে বলতো। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে স্বোচ্চার ছিল। এটাই পত্রিকাটির একমাত্র অপরাধ। তিনি বলেন, জনপ্রিয় সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এমন একজন ব্যক্তি যিনি প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। সত্য কথা বলার কারণে তিনি দীর্ঘদিন কারাবরণ করেছেন। তারপরও অবৈধ সরকারের কাছে মাথানত করেন নি। তিনি বলেন, আমারদেশ পত্রিকা পড়তে হলে ঘরে বসে শ্লোগান দিলে হবে না। রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আসুন আইনের শাসন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরেকবার রাজপথে নামি। ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তুলি। 

অধ্যাপক ড. দিলারা জামান বলেন, যে গণতন্ত্রের জন্য দেশের মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছে সেটি আজ অনুপস্থিত। এখন আমরা এমন একটি সরকারের অধীনে বসবাস করছি যেখানে গণতন্ত্র মানে সঠিক সমালোচনাও করা যাবে না। তিনি বলেন, এই সরকার শুধু ক্ষমতায় থাকতেই সব কৌশল করছে। কিভাবে গণমাধ্যমকে চাপে রাখা যাবে সে কৌশল করছে। তিনি বলেন, এভাবে আর চলতে দেয়া যায় না। সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এসেছে। নিজেদের অধিকার রক্ষায় সবাইকে এক হয়ে রাজপথে নামতে হবে। 

রুহুল কবির রিজভী বলেন, যেকোনো মূল্যে ভারতের আধিপত্যবাদ থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে দেশে এখন সংকটময় অবস্থা বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ভারত আমাদের এক ফোঁটা পানিও দেয়নি আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী সবকিছু দিয়ে আসলো। দেশে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব থাকবে কি থাকবে না এটা নিয়েও সংকট দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশকে এখন আর স্বাধীন রাষ্ট্র বলা যাবে না। তাই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সাথে সাথে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকেও পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলন করতে হবে। তিনি বলেন, এভাবে মিটিং করে শ্লোগান দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বলে কোনো লাভ হবে না। রাস্তায় সংগ্রাম করতে হবে। এজন্য সবার আগে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। হিন্দুত্ববাদের প্রেতাত্মা আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম গড়ে তুলে এদের বিদায় করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ