ঢাকা, বুধবার 12 April 2017, ২৯ চৈত্র ১৪২৩, ১৪ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাংলা বর্ষবরণের নিরাপত্তায় রাজধানীতে ১১ হাজার পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার : পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগরীকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলার পরিকল্পনার কথা বলেছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেছেন, বর্ষবরণের দিন রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোট ১১ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। রমনা বটমূল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঢুকতে হলে সবাইকে তল্লাশির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। উত্ত্যক্তকারীদের ঠেকাতে রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ দল কাজ করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে পহেলা বৈশাখের নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঢোকা ও বের হওয়ার প্রবেশপথগুলোতে থাকবে নিরাপত্তা বেষ্টনী। “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রমনা এলকায় আর্চওয়ে বসানো হবে। প্রত্যেকের দেহ তল্লাশি করা হবে। রমনা ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢুকতে হলে দেহ তল্লাশির মধ্যে দিয়েই প্রবেশ করতে হবে। ”বর্ষবরণের দিন রমনা পার্ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা হকারমুক্ত রাখাসহ বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন ঢাকার পুলিশ প্রধান। 

মোটরসাইকেলে চালক ছাড়া কেউ বসতে পারবে না। তবে পেছনে স্ত্রী বা সন্তান থাকলে তা বিবেচনা করা হবে। বিকাল ৫টার পর উন্মুক্ত কোনো স্থানে সমাবেশ করা যাবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সন্ধ্যা ৬টার পর সমাবেশ বা কনসার্ট করা যাবে না। ভুভুজেলা বিপণন ও বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ব্যাগ বহন না করতেও অনুরোধ। মঙ্গল শোভাযাত্রায় ‘বাইরে থেকে কেউ’ ঢুকতে পারবে না। সন্ধ্যা ৬টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ‘বহিরাগত কেউ’ ঢুকতে পারবেন না। ওই অঞ্চলে যান চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হবে। রমনা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সোহরাওয়ারর্দী উদ্যান এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য ২৬টি ‘ডাইভারশন পয়েন্ট’ থাকবে। 

২০১৫ সালের ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় বাংলা নববর্ষের উৎসবের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকে ভিড়ের মধ্যে একদল যুবক নারীদের ওপর চড়াও হয়। ওই ঘটনার পর প্রথমে পুলিশ বিষয়টি এড়াতে চাইলেও বিভিন্ন ছাত্র ও নাগরিক সংগঠনের দাবির মুখে এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলা করে এবং তদন্তের উদ্যোগ নেয়। এরপর ১৭ মে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও থেকে আট নিপীড়কের ছবি পাওয়ার কথা জানান পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হক। তবে শেষ পর্যন্ত একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ওই মামলায় পুলিশ প্রমাণ না পাওয়ার কথা বলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিলেও পরে তা আদালতের নির্দেশে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। 

ওই ঘটনা থেকে ‘শিক্ষা নিয়েছেন’ জানিয়ে পুলিশ কমিশনার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “২০১৬ সালে ওই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ বছরও ঘটবে না। এবছর ইভটিজিং প্রতিরোধে আলাদা দল মাঠে থাকবে। ”

আছাদুজ্জামান মিয়া জানান, বর্ষবরণের দিন রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউনিফর্মে ১১ হাজার পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ইউনিফর্ম ছাড়া পুলিশ সদস্য এবং পুলিশের বিশেষ ইউনিট ‘সোয়াট’ ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা কাজ করবেন। 

রাজধানীতে বর্ষবরণের সব ‘বড় অনুষ্ঠান’ ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসি) নজরদারিতে থাকবে জানিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, “এজন্য তিনটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ইঞ্চি সিসি ক্যামেরার নজরে থাকবে। ”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ