ঢাকা, বুধবার 12 April 2017, ২৯ চৈত্র ১৪২৩, ১৪ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পথভ্রষ্ট যুবকদের ফিরিয়ে আনতে হবে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

* জঙ্গিরা হাইলি মোটিভেটেড - আইজিপি 

* আটক কিংবা কিলিং করে জঙ্গি নির্মূল সম্ভব নয় - ডিজি র‌্যাব

স্টাফ রিপোর্টার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকে যেসব যুবক পথভ্রষ্ট হয়েছে, তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাদের পবিত্র কুরআনের ও হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যা দিতে হবে। র‌্যাব প্রকাশিত ‘কতিপয় বিষয়ে জঙ্গিবাদীদের অপব্যাখ্যা এবং পবিত্র কুরআনের সংশ্লিষ্ট আয়াত ও হাদিসের’ ব্যাখ্যা নামের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো ধর্মে মানুষ হত্যার বিধান নেই। ইসলাম শান্তি ও মানবতার ধর্ম। এখানে জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই। র‌্যাব প্রকাশিত বইটিকে ‘অত্যন্ত যুগোপযোগী’ এবং ‘প্রয়োজনীয়’ বলে আখ্যায়িত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বলেন, জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযান এবং গ্রেফতারে পুলিশের সাফল্য আছে। তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদীদের তাদের পথ থেকে ফিরিয়ে আনা (ডির‌্যাডিক্যালাইজ) কাজটি আমরা সফলভাবে করতে পারিনি। এ কাজটি পুলিশ করবে না অন্য কোনো সংস্থা করবে, এ বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।’ তিনি বলেন, জঙ্গিদের মধ্যে নারী জঙ্গিদের এ পথে ঝোঁকটা অনেক বেশি (হাইলি মোটিভেটেড)। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা তাদের দোষ স্বীকার করে জানান, মূলত স্বামীদের হাত ধরেই তারা জঙ্গিবাদের দিকে ঝোঁকেন। তিনি আরও বলেন, মাদরাসায় পড়লে কেউ জঙ্গি হবে, সেই ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। জঙ্গিবাদের সঙ্গে যুক্ত অভিযোগে যারা গ্রেফতার হয়েছে, তাদের ৩০ শতাংশ মাদরাসার শিক্ষার্থী। বাকিরা সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত।

আইজিপি বলেন, আলেম-ওলামারা অনেক বোঝানোর পর তারা ভুল বুঝতে পারার কথা জানায়। কিন্তু তাদের যখন জেলে পাঠানো হচ্ছে, সেখানে আগের মতো আচরণ শুরু করে। তিনি বলেন, কারাগারে জঙ্গিদের সঠিক ইসলাম সম্পর্কে বোঝানো হয় কিনা, ইসলামের পক্ষে জঙ্গিবাদের বিপক্ষে মোটিভেশন দেয়া হয় কি না তা আমার জানা নেই।

শহীদুল হক বলেন, জঙ্গিবাদের মোকাবেলায় আলেম ওলামাদের ভূমিকা যদিও বেশি তবে শুধু আলেম ওলামা নয় প্রত্যেক নাগরিককে সচেতন হতে হবে। প্রত্যেকটি মহল্লায় কথা বলতে হবে। তিনি বলেন, যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করে তারা কাফের নয়। কিন্তু জঙ্গিরা কি করছে? তারা মানুষ মারছে। মুসলমান মারছে। মসজিদে, ঈদগাহে হামলা করছে।

জঙ্গিরা হাইলি মটিভেটেড, তারা মনে করে, তারা মানুষ মারতে গিয়ে যদি নিজেরা মারা যায়, তাহলে সরাসরি জান্নাতে চলে যাবে। তাদের নাকি আর হাশরের ময়দানেও দাঁড়াতে হবে না। তাদের মধ্যে যে কমিউনিকেশন, তারা একে অপরকে বলে, একে অপরের পরিবার নিয়ে দেখা সাক্ষাৎ করবে জান্নাতে।

আইজিপি বলেন, বাড়ির মালিকরা যখন বাড়ি ভাড়া দেবেন, বিস্তারিত খোঁজ খবর নিবেন। জঙ্গিরা ফার্নিচার কম ব্যবহার করেন, মেলামেশা কম করেন। কি কাজ করেন তা প্রকাশ করতে চায় না। এসব যখন দেখবেন, সন্দেহ হবে জানাবেন, পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিবে। তিনি আরও বলেন, ইসলামের নামে জঙ্গিরা ইসলামে বিরুদ্ধে কাজ করছে। ইসলাম কখনো মানুষ হত্যায় বিশ্বাস করে না। ইসলামের নাম করে ব্লগার হত্যা করা অবশ্যই ফৌজদারি অপরাধ। আবার ব্লগাররা লেখনির নামে ইসলাম বিদ্বেষী লেখালেখি করবেন তাও ফৌজদারি অপরাধ। কোনো ব্লগারের লেখায় ইসলাম বিদ্বেষী প্রভাব থাকলে মামলা করেন। নিজেরা মামলা না করলে পুলিশকে অবহিত করেন।

র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে জঙ্গিবাদ নিরসন করা সম্ভব নয়। এর জন্য এ পথ থেকে তাদের সরিয়ে আনার চেষ্টার প্রক্রিয়া নিতে হবে (ডির‌্যাডিক্যালইজ)।

র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, ‘শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে জঙ্গি নির্মূল করা সম্ভব নয়। শুধু আটক অথবা কিলিং করেও জঙ্গি নির্মূল সম্ভব নয়। জঙ্গি নির্মূল করতে হলে প্রয়োজন রিহ্যাবিটেশন, ডিমোটিভেশন, কাউন্টার নেরেটিভ ইত্যাদি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে সকল জঙ্গি আস্তানাগুলোতে অভিযান চালানো হয়েছে, সেখানে আমরা তাদের অনেক কাগজপত্র পেয়েছি। বই আকারে কিছু খাতা পেয়েছি। যেখানে খন্ড খন্ড হাদিস লেখা রয়েছে। পবিত্র কুরআনে ১৬৪টি স্থানে জিহাদের কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু জঙ্গি আস্তানা থেকে উদ্ধার নথিপত্রে কিছু বাছাই করা হাদিসের অপব্যাখা লেখা রয়েছে। কুরআনের আলোকে ওই হাদিসের সঠিক ব্যাখা এই বইয়ে লেখা রয়েছে।’ দেশের সকল নাগরিককে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন বেনজির আহমেদ।

প্রকাশিত বই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘বইটি র‌্যাবের ও বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে এবং খুব শিগগিরই ইংরেজিতে অনুবাদ করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। যাতে করে সারাবিশ্বের সকলে বইটি পড়তে পারেন; হাদীস সম্পর্কে জানতে পারেন।’ র‌্যাব প্রকাশিত বইটি ৭০ পৃষ্ঠার।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব কামাল উদ্দিন আহমেদ, সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সংসদ সদস্য টিপু মুন্সি ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভী এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক শামীম মো. আফজাল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ