ঢাকা, বুধবার 12 April 2017, ২৯ চৈত্র ১৪২৩, ১৪ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

তিন বছর পর ঋণ পুন:তফসিলের বিধান রহিত করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

স্টাফ রিপোর্টার : টানা তিন বছর সুবিধা দেয়ার পর এবার ঋণ পুন:তফসিলের বিধান রহিত করছে বাংলাাদেশ ব্যাংক। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই বিধান রহিত করার ফলে ধারণা করা হচেছ এতে ঋণ খেলাপির পরিমাণ কমে আসছে। একই সাথে সকল ঋণগ্রহীতা সমান সুযোগ পাবেন। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলমান বিশেষ বিবেচনায় খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে। ফলে এখন থেকে বিদ্যমান নীতিমালার আলোকেই ব্যাংকগুলোকে তাদের গ্রাহকদের (ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান) ঋণ পুনঃতফসিল করতে হবে। তবে বিশেষ সুবিধা বন্ধ করা হলেও বিদ্যমান খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল নীতিমালায় কিছুটা শিথিলতা আনার কথা ভাবছে আর্থিক খাতের অভিভাবক বাংলাদেশ ব্যাংক। যাতে ব্যাংকগুলোকে অনাপত্তি নিতে আর বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্বারস্থ হতে না হয়। 

এ বিষয়ে শিগগিরই ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে একটি সার্কুলার জারি করা হতে পারে। জানা গেছে, অতিরিক্ত কাজের চাপ কমানো ও সব গ্রাহকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে এ সুবিধার ইতি টানতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এদিকে অর্থনীতি ও ব্যাংক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশেষ বিবেচনায় খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ করার পদক্ষেপ ইতিবাচক। তবে বিদ্যমান নীতিমালায় খুব বেশি শিথিলতা আনলে সব শ্রেণীর গ্রাহকরাই সময়মতো ঋণ পরিশোধ না করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়তে পারে। এতে ভবিষ্যতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির আরও আশঙ্কা থাকবে। 

অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনাপত্তি নেয়ার সুযোগ বন্ধ করা হলে সব গ্রাহক ঋণ পুনঃতফসিলে সমান সুযোগ পাবেন। কারণ তখন বিদ্যমান নীতিমালার আলোকেই ব্যাংকগুলোকে ঋণ পুনঃতফসিল করতে হবে। জানা গেছে, ব্যাংকিং খাতে আন্তর্জাতিক চর্চা অনুসরণের জন্য ২০১২ সালের জুন মাসে ঋণ শ্রেণীকরণ, পুনঃতফসিল এবং প্রভিশনের নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। এতে ঋণ শ্রেণীকরণে যেমন কড়াকড়ি আরোপ করা হয়, তেমনি পুনঃতফসিলের সুযোগও কমিয়ে আনা হয়।

কিন্তু ২০১৩ সালের শেষ সময়ের রাজনৈতিক সহিংসতায় ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের ঋণ পুনঃতফসিলে বিশেষ সুবিধা দিতে একই বছরের ২৩ ডিসেম্বর সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে ডাউন পেমেন্ট গ্রহণের শর্ত শিথিল ও ঋণের যৌক্তিক মেয়াদ ঠিক করা এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনাপত্তি নেয়ার শর্ত দেয়া হয়। এ সুবিধা ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত চলমান রাখার নির্দেশনা ছিল। ওই সময় পর্যন্ত এর আওতায় ৭ শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে খেলাপির তকমা থেকে রেহাই দেয়া হয়। 

পরে রাজনৈতিক চাপের কারণেই ৫০০ কোটি টাকা ও এর বেশি ঋণ রয়েছে এমন বড় বড় শিল্প গ্রুপের ঋণ পুনর্গঠনে বিশেষ ছাড় দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সুযোগ নেয় দেশের অন্তত ১২টি শিল্প গ্রুপ ও প্রতিষ্ঠান। এরপরও রাজনৈতিক অস্থিরতার ক্ষতির কারণ উল্লেখপূর্বক খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদন আসতে থাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। ফলে দ্বিতীয় ধাপে আরও ২ শতাধিক আবেদন বিবেচনায় নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সব মিলে ২০১৩ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এ সুবিধার আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি সাপেক্ষে প্রায় ৪৯ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ (পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন) নিয়মিত করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও এ সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এখনও সীমিত পরিসরে বিশেষ বিবেচনায় খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোঃ আবদুর রহিম বলেন, ব্যাংকগুলোর জন্য তার গ্রাহকের ঋণ পুনঃতফসিলীকরণের একটি নীতিমালা রয়েছে। যেখানে সুনির্দিষ্টভাবে বলা আছে তারা কোন শ্রেণীর ঋণ, কোন পর্যায়ে, কী পরিমাণ ডাউন্ট পেমেন্টে (এককালীন অর্থ পরিশোধ), কত সময়ের জন্য পুনঃতফসিল করতে পারবে। কিন্তু অনেক সময় গ্রাহকের প্রকৃত অবস্থা বিবেচনায় এ সার্কুলারের বিদ্যমান সুবিধার অতিরিক্ত সুবিধা দেয়ার প্রয়োজন হয়। তখন ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি নিতে আবেদন করে। আর এ কাজটি আমাদের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ করে আসছে। নিজস্ব কাজের বাইরে এ কাজটি করতে গিয়ে ওই বিভাগকে অনেক প্রেসার নিতে হচ্ছে। এ কারণে আমরা এ সংক্রান্ত কেসগুলো আর ডিল না করার কথা ভাবছি। এজন্য বিদ্যমান পুনঃতফসিল নীতিমালায় কিছুটা পরিবর্তন আনা যায় কিনা সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে, যাতে ব্যাংকগুলো নিজেরাই কেস টু কেস নিষ্পত্তি করতে পারে। এ বিষয়ে শিগগিরই একটি সার্কুলার জারি করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ