ঢাকা, বুধবার 12 April 2017, ২৯ চৈত্র ১৪২৩, ১৪ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় স্ত্রী দু’টি সন্তান নিয়ে বিচারের আশায় পথে পথে ঘুরছে

খুলনা অফিস : স্ত্রীর দায়ের করা পৃথক যৌতুক ও নারী নির্যাতন মামলার ওয়ারেন্টি আসামী হয়েও খুলনার তেরখাদা থানায় বহাল তবিয়তে চাকরি করছে কনস্টেবল আফজাল হোসেন (ব্যাচ নং-৯৫৭)। পাশাপাশি সে দ্বিতীয় বিয়ে করে সংসারও করছে। আর পুলিশ স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করে বিপাকে পড়েছে দুই সন্তানের জননী হাজেরা খাতুন। মামলার কারণে উক্ত কনস্টেবল সাময়িক বরখাস্ত হলেও আদালতে আপোষ মীমাংসায় সে চাকরি ফিরে পেয়ে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ভরণ পোষণ না দেয়ার পাশাপাশি অব্যাহত হুমকির মুখে প্রথম স্ত্রী দু’টি সন্তান নিয়ে বিচারের আশায় পথে পথে ঘুরছে। আদালতে দায়েরকৃত মামলা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ১১ আগস্ট ১ লাখ টাকা দেনমোহরে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার রামনগর গ্রামের মৃত ফারুক হোসেনের মেয়ে হাজেরা খাতুনের সঙ্গে বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলা চরকুলিয়া গ্রামের শেখ মো. এসকেন্দারের ছেলে মো. আফজাল হোসেনের  বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবন মো. ফাহিম শেখ ও মো. মাহিম শেখ নামে দু’টি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। এরই মাঝে আফজাল হোসেন স্ত্রী হাজেরা খাতুনের পিতার কাছে ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে পিতার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে না পারায় আফজাল স্ত্রীকে গালিগালাজসহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। এ নিয়ে বিগত ২০১৩ সালের ২৪ মে হাজেরা খাতুন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত খুলনায় কনস্টেবল আফজালের বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা দায়ের করে। উক্ত মামলা চলাকালীন ২০১৬ সালের ১ মার্চ আর্ম পুলিশ ব্যাটেলিয়নে কর্মরত থাকাকালীন আফজাল হোসেন সাময়িক বরখাস্ত হয়। পরে আদালতে মুচলেকা দিয়ে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মীমাংসার মাধ্যমে সে চাকরি ফিরে পায়। সূত্র জানায়, চাকরি ফিরে পেয়ে কনস্টেবল আফজাল কিছুদিন শান্ত থাকলেও এ পর্যায়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গত ২৮ মার্চ দুপুরে যৌতুকলোভী পুলিশ কনস্টেবল আফজাল নগরীর ট্যাংক রোডস্থ ভাড়া বাসায় গিয়ে স্ত্রীকে টাকার দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে টাকা আনার জন্য দু’টি সন্তানসহ স্ত্রীকে বাসা থেকে বের করে দেয়। এরই মাঝে স্ত্রী হাজেরা খাতুন জানতে পারেন তার স্বামী নার্গিস নাহার মিতা নামে এক মহিলার সাথে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে তাকে বিয়ে করে সংসার করছে। ঘটনার পরদিন ২৯ মার্চ তিনি বিজ্ঞ মুখ্য মহানগর হাকিম (ক) অঞ্চল খুলনা আদালতে স্বামী ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে আবারও একটি মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি এ ঘটনায় তিনি খুলনার পুলিশ সুপারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য পুলিশ সুপার সহকারী পুলিশ সুপার (এ) সার্কেল খুলনার নিকট দায়িত্ব প্রদান করলেও আফজালের অনুপস্থিতির কারণে আজও তার কোন নিষ্পত্তি হয়নি। আদালত সূত্রে জানা গেছে, খুলনা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত যৌতুক নিরোধ আইনের ৪ ধারায়, ফৌজদারী কার্যবিধির ৭৫ ধারা মতে আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেছে। অথচ আসামী বর্তমানে তেরখাদা থানায় বহাল তবিয়তে চাকরি করছে। স্ত্রী হাজেরা খাতুন জানান, আফজাল ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী হয়েও তেরখাদা থানায় চাকরিতে বহাল থেকে ছুটি নিয়ে কৌশলে পালিয়ে রয়েছে। পুলিশ কনেস্টবল আফজাল হোসেনের সাথে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ‘আমি ব্যস্ত আছি পরে কথা বলেন’ বলে ফোনটি কেটে দেন।  এ ব্যাপারে তেরখাদা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, কনস্টেবল আফজাল গত ৩ তারিখ থেকে ছুটিতে রয়েছে। আর তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য ও মামলার কথা শুনেছেন বলে জানালেও ওয়ারেন্টের বিষয়টি তিনি জানেন না বলে দাবি করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ