ঢাকা, বুধবার 12 April 2017, ২৯ চৈত্র ১৪২৩, ১৪ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চিৎকার করিয়া কাঁদিতে চাহিয়া.....

জিবলু রহমান : [ ছয় ]
বছরের পর বছর পার হলেও ইন্টারপোলের রেড ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীরা গ্রেফতার হয়না। এদের অনেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নাগরিকত্ব নিয়ে প্রকাশ্য জীবন-যাপন করছে। তাদের ব্যাপারে সরকারের কাছে খোঁজখবর রয়েছে। এর আগে এসব অপরাধীকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে চেষ্টা করা হলেও আইনগত জটিলতা ও নানা দুর্বলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
২০১০ সালে পলাতক ৭৩ বাংলাদেশীকে ধরতে ইন্টারপোল ইনফ্রা রেড-২০১০ নামে একটি অভিযান শুরু করে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ছয় আসামীসহ সেসময়কার ৭৩ জন পলাতক বাংলাদেশীকে ধরা এবং তাদের দেশে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য ওই বছরের মে মাস থেকে ১৮৮টি দেশে যুগপৎ অভিযান শুরু করে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল)।
ইনফ্রা রেড-২০১০ নামে ওই অভিযানের শুরুতে নানা জটিলতা দেখা দেয়। ওই অভিযানে মূল টার্গেট ছিলেন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ছয় ফেরারি আসামী অবসরপ্রাপ্ত লেঃ কর্নেল খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এএম রাশেদ চৌধুরী, এইচবিএম নূর চৌধুরী, ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেহউদ্দিন। এদের সবার নামে এখনও ইন্টারপোলে রেড ওয়ারেন্ট জারি রয়েছে।
১৯ মার্চ ২০১৪ যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ১৭ বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা মামলার অন্যতম আসামী নাজমুল মাকসুদ মুরাদকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার পর নতুন করে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ১৯৮৯ সালের ১১ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলবর্ষণ ও বোমা নিক্ষেপের মামলার আসামী ছিল নাজমুল মাকসুদ মুরাদ।
পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোল কাউকে গ্রেফতারে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই রেড নোটিশ জারি করে থাকে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অনুরোধ রাখতে গিয়ে ওই ব্যক্তিরা রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হচ্ছে কিনা কিংবা অন্য দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছে কিনা সে ব্যাপারে সংস্থাটি গুরুত্ব দেয় না। আন্তর্জাতিক সংস্থাটির রেড নোটিশ জারি হওয়া উচিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে, কোনো সরকারের রাজনৈতিক হয়রানির হাতিয়ার হওয়ার জন্যে নয়। (সূত্রঃ দৈনিক সংগ্রাম ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬)
নানা কারণে পুলিশের ভেতরে অপরাধ বাড়ছে। নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়ার আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা। অপরাধ কমিয়ে আনতে পুলিশের মূলনীতি অনুসরণ করাই যথেষ্ট। এমনটিই মনে করেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। কিন্তু মূলনীতি থেকে সরে এসে পুলিশের কতিপয় সদস্য জড়িয়ে পড়ছেন অপরাধ প্রবণতায়। বিশেষ করে পুলিশ তার পেশার বাইরের কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ছে। অপরাধ বিজ্ঞানের ভাষায় এটাকে বলা হয়, ‘সাব-কালচার অব পুলিশ’। অর্থাৎ পেশার বাইরে অনৈতিক আচরণে লিপ্ত হওয়া। (সূত্রঃ দৈনিক যুগান্তর ৩ জুলাই ২০১৫)
সুশৃংখল বাহিনীর সদস্যদের অপরাধে জড়ানোর খবর খুবই দুঃখজনক। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুপারভিশনের অভাবেই অধস্তনরা সাধারণ কিংবা ফৌজদারি অপরাধেও জড়ানোর সুযোগ পান। পুলিশের নানাবিধ অপরাধে জড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করতে নজরদারি বাড়ানো খুবই জরুরি।
কারণগুলোর মধ্যে আরেকটি বিষয় দীর্ঘদিন ধরেই প্রতীয়মান হচ্ছে তা হল- ‘অ্যাপল থিউরি’। অপরাধ বিজ্ঞানে এ থিউরিকে সংক্রামক অপরাধও বলা হয়। অর্থাৎ যখন এক পুলিশ সদস্য অনৈতিকতায় জড়ান এবং নানাভাবে প্রভাব বিস্তারের সুযোগে তিনি রক্ষাও পেয়ে যান, তখন ওই অপরাধ করতে আশপাশে থাকা অন্য পুলিশ সদস্যরাও উৎসাহিত হন। মূলত শাস্তি না হওয়ায় এভাবে ইনহাউস অপরাধও সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। আর অপরাধ করে পুলিশের পার পেয়ে যাওয়ার বিষয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে ‘রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার।’ দেখা যায়, যিনি অপরাধ করেছেন তিনি তার নিয়ন্ত্রণকারী সিনিয়র কর্মকর্তা-কর্মকর্তাদের চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা লবিংয়ে বেশি ক্ষমতাবান। এতে করে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সিনিয়র কর্মকর্তার কিছুই করার থাকে না। এ রকম ক্ষেত্রে কার্যত চেইন অব কমান্ডও ফেল করে। পুলিশের মধ্যে বর্তমানে এ ধরনের সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে অপরাধ করেও প্রভাবশালী পুলিশ সদস্যরা নানা কৌশলে পার পেয়ে যান। এভাবে দায়মুক্তির সংস্কৃতি পুলিশ বাহিনীকে প্রকারান্তরে সেবা ও ইমেজের দিক থেকে অনেক সময় পেছনে ফেলে দেয়। 
পুলিশের নিয়োগের পর যে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় সেটা মূলত প্রভিশনাল পর্যায়ের প্রশিক্ষণ। সেখানে পুলিশের পেশাগত নিয়ম-কানুনগুলো শেখানো হলেও নৈতিকতা শিক্ষার একটা অভাব থেকেই যায়। পুলিশ তার পেশার বাইরে গিয়ে অনৈতিক আচরণে লিপ্ত হচ্ছে। যাকে অপরাধের ভাষায় বলা হয়, সাব-কালচার অব পুলিশ। এর পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে আমরা লক্ষ্য করে আসছি যে, সব সময় পুলিশের কর্মকা-ের কোনো জবাবদিহিতার ব্যবস্থা ছিল না। তাদের মধ্যে একটা দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। যার কারণে তারা নানা অপরাধ-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে পুলিশের মধ্যে মনিটরিং সেল থাকলেও তা আসলে কাগুজে মনিটরিংয়ে রূপ নিয়েছে। নেই কোনো অপরাধের কার্যকরী জবাবদিহিতার ব্যবস্থা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির উদাহরণ। সবকিছু বিবেচনায় এনে পুলিশ বাহিনীতে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, উন্নত বেতন কাঠামো, তাদের অপরাধের তদন্তে পুলিশ বাহিনীর বাইরের কাউকে দিয়ে তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই পুলিশের প্রকৃত উপযোগিতা প্রকাশ পাবে এবং জনগণের সেবা নিশ্চিত হবে।
পুলিশের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে। টাকা না পেয়ে নির্যাতন, মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়া, সাধারণ মানুষকে হয়রানি, মাদক ব্যবসা এমনকি ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগও আছে। আছে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, হত্যা, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ চোখ বেঁধে পায়ে গুলি ও থানা হাজতে নির্যাতনের ঘটনা। রাজনৈতিক প্রভাব বলয়ে থাকার কারণে কিছুসংখ্যক পুলিশ বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তাছাড়া কোনো পুলিশ সদস্য বড় ধরনের অপরাধ করলে ওই সদস্যকে প্রত্যাহার কিংবা সাময়িক বরখাস্ত করেই দায়িত্ব শেষ করে পুলিশ সদর দফতর।
বর্তমানে পুলিশ সদস্যদের বড় একটি অংশ সব সময় ক্ষমতাসীন দলের উচ্চ মহলে যোগাযোগ রেখে চলার চেষ্টা করেন। আর রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ থাকায় পুলিশের এসব সদস্য প্রায়ই বেপরোয়া আচরণ করে থাকেন। এ কারণে এই শ্রেণীর পুলিশ সদস্যের চেইন অব কমান্ড ভাঙার প্রবণতাও বেশি। দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে না পারলে এ বাহিনীকে সাধারণ মানুষের প্রকৃত সেবক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
দু’-একটি ঘটনা দিয়ে গোটা পুলিশ বাহিনীকে বিতর্কিত করা যাবে না। তবে পুলিশের কিছু সদস্য অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় এ বাহিনীর ভাবমূর্তি ও মানুষের আস্থার জায়গাটা নষ্ট হচ্ছে। রাজনৈতিক অথবা ঊর্ধ্বতন অফিসারের সঙ্গে ভালো সম্পর্কের জন্য পুলিশ অপরাধ করেও মাফ পেয়ে যাচ্ছে। ফলে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অবৈধভাবে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা অফিসারদের দুদকের আওতায় এনে বিচার করা ও তাদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা। এছাড়া এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা রকমের অন্যায়-অপরাধ, অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এত ব্যাপক এবং সেসব অভিযোগের যথাবিহিত প্রতিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশ বিভাগের অনাগ্রহ ও ইচ্ছাকৃত ব্যর্থতার দৃষ্টান্ত এত বেশি যে এখন খোদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও মনে করে, পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত খোদ পুলিশ বিভাগকে দিয়ে করানো নিষ্ফল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ লক্ষণীয়।
১৪ জুলাই ২০১৫ প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করার জন্য মন্ত্রণালয় পর্যায়ে একটি ও জেলা পর্যায়ে একটি কমিটি গঠন করেছে। মন্ত্রণালয় পর্যায়ের কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করার। এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধিকে। আর জেলা পর্যায়ের তদন্ত কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশ কনস্টেবল থেকে শুরু করে পরিদর্শক পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করার। এই কমিটির সভাপতি হবেন জেলা প্রশাসক বা তাঁর একজন প্রতিনিধি।
কিন্তু পুলিশ অধিদপ্তর এই কমিটি গঠনের তীব্র বিরোধিতা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি লিখেছে, ওসব কমিটি ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ওই দুটি কমিটি ‘পুলিশ বাহিনীর অধিকার খর্ব করবে’। পুলিশ কর্মকর্তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর (তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী) সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেও একই দাবি জানিয়েছেন। নিজেদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতিসহ যাবতীয় অপরাধ সংঘটনের সব অভিযোগ তদন্ত করার ক্ষমতা তাঁরা নিজেদের হাতেই রেখে দিতে চান। কিন্তু তাঁদের এই চাওয়া অযৌক্তিক; এর পেছনে কোনো সৎ উদ্দেশ্য নেই। বরং অসৎ উদ্দেশ্যটা পরিষ্কার: তাঁরা জবাবদিহির ঊর্ধ্বে থাকতে চান। (সূত্রঃ দৈনিক  প্রথম আলো ২৯ জুলাই ২০১৫)
আসলে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের তদন্ত করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কমিটি গঠন করাও যথেষ্ট নয়। কারণ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এমনকি খোদ সরকারও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের অনিয়ম-দুর্নীতিসহ যাবতীয় রকমের আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড বন্ধ করার ক্ষেত্রে আন্তরিক বলে মনে হয় না। অনেক সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন নেতাকে পুলিশের বাড়াবাড়ি কিংবা ব্যর্থতার সাফাই গাইতে দেখা যায়। সরকার পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে; ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের অন্যায়-অপরাধের বেলায় পুলিশকে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে বাধা দেওয়া হয়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দমন করার ক্ষেত্রে অনেক সময় সরকারি দলের পেটোয়া বাহিনীর সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করা হয় পুলিশ বাহিনীকে। এসব কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা সরকারের পক্ষে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত সততা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, কারণ সরকারের নৈতিক অবস্থানটাই দুর্বল।
তাই পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু, হত্যা মামলার আসামিসহ গুরুতর অপরাধীদের সঙ্গে অনৈতিক যোগসাজশ ও অর্থনৈতিক লেনদেন, গ্রেফতার-বাণিজ্য, নিরীহ সাধারণ মানুষকে আটক করে মামলার আসামি করার ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করাসহ অজস্র রকমের অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে অন্ততপক্ষে গুরুতর অভিযোগগুলো তদন্ত করার জন্য সম্পূর্ণ স্বাধীন একটা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ রকম প্রতিষ্ঠান আছে। দৃষ্টান্ত হিসেবে আমরা যুক্তরাজ্যের পুলিশ কমপ্লেইন্টস কমিশনের মডেল অনুসরণ করতে পারি। এটি একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন কমিশন, যার চেয়ারম্যানসহ কমিশনারদের পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়া হয় এমন ব্যক্তিদের, যাঁরা কোনো দিন পুলিশ বিভাগে চাকরি করেননি। কমিশন পরিচালিত হয় সংবিধিবদ্ধ ক্ষমতার দ্বারা, এর কর্মকাণ্ডে সরকার বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ করা বা প্রভাব খাটানোর কোনো সুযোগ নেই।
বাংলাদেশের দরিদ্র জনগণের করের টাকায় পরিচালিত পুলিশ বাহিনীকে যাবতীয় রকমের অনৈতিক, আইনবিরুদ্ধ ও ক্ষতিকর চর্চা থেকে মুক্ত করার কাজটি অত্যন্ত দুরূহ। তবে এসব ক্ষতিকর প্রবণতা কিছু মাত্রায় হ্রাস করা একেবারে অসম্ভব নয়। সে জন্য পুলিশ কমপ্লেইন্টস কমিশনের মতো একটা স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সময় পেরিয়ে যাচ্ছে।
গুমের ঘটনার দায়-দায়িত্ব নিতে হবে নোংরা রাজনীতিবিদদের। আগে রাজনীতি মানে ছিল জনগণের সেবা। আর বর্তমানে রাজনীতি হচ্ছে খাস জমি দখল, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করা। খুন, গুম, অপহরণের প্রধান কারণ হচ্ছে সরকার প্রশাসনের অদক্ষতা। বার বার গুম, অপহরণ হওয়া সত্ত্বেও সরকারের টনক নড়ছে না।  প্রভাবহীন কোন পরিবারের সদস্য যখন অপহরণ হচ্ছে তখন সরকার প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন ভূমিকা দেখি না। কিন্তু রাষ্ট্রের বিশেষ ব্যক্তি যখন গুম, অপহরণ হয় তখন সরকারের দৃষ্টি দেখতে পাই। [সমাপ্ত]
jiblu78.rahman@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ