ঢাকা, বুধবার 12 April 2017, ২৯ চৈত্র ১৪২৩, ১৪ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শনি-বলয়ের রহস্য উন্মোচন

নূরুল আনাম (মিঠু) : শনি গ্রহের চারপাশের বলয় নিয়ে রহস্য ও কৌতূহলের শেষ নেই। সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ ছাড়াও ইউরেনাস ও নেপচুনেরও বলয় রয়েছে। এবার বিজ্ঞানীরা বলয় সৃষ্টির রহস্য উন্মোচনের দাবি করছেন। তারা বলছেন, প্রায় ৪০০ কোটি বছর আগে যেসব বড় বড় বস্তু গ্রহের খুব কাছ দিয়ে যাচ্ছিল ঠিক সেই সময়েই সেগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে বলয় সৃষ্টি হয়। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে যে, শনির উজ্জ্বল বলয়ের ৯৫ শতাংশই বরফকণা দিয়ে তৈরি। অন্যদিকে ইউরেনাস ও নেপচুনের বলয় আজও অন্ধকারাচ্ছন্ন। তাই সেগুলো পাথুরে উপাদানে গঠিত বলেই মনে হয়। তবে এ ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসার সময় হয়নি। জাপানের কোবে ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে গবেষণা করছেন। তারা বলেন, ৪০০ কোটি বছর আগে ধূমকেতু ও গ্রহাণুর মতো বিপুল পরিমাণ বড় বড় বস্তু যা পরিমাণে বিপুল সংখ্যায় গ্রহগুলোকে অতিক্রম করে, সে সময়কার জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে ‘লেট হেভি বোম্বার্ডমেন্ট’ নামে পরিচিত। ওই সময় গ্রহগুলোর কক্ষপথের মধ্যেও নানাবিধ রূপান্তর ঘটে যায়। গবেষকরা গ্রহের কাছ ঘেঁষে বড় বস্তুর অতিক্রম এবং সেগুলোর ধ্বংসের সম্ভাব্যতা পরিমাপ করেছেন। দেখা গেছে, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুনের সঙ্গে ওই বস্তুগুলোর একাধিকবার সংঘর্ষ ঘটেছে। ওই সময় অনেক ক্ষেত্রেই বস্তুগুলোর শূন্য দশমিক ১ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত টুকরো গ্রহগুলোর চারপাশের কক্ষপথে সঞ্চিত হয়েছে। ওই খণ্ড-বিখণ্ড বস্তুই সম্মিলিতভাবে গ্রহগুলোর চারপাশে বলয় তৈরি করেছে। জাপানের ন্যাশনাল অস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরিতে সুপার কম্পিউটারের সাহায্যে বস্তুর টুকরোগুলোর বিবর্তন ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, কক্ষপথে বস্তুগুলো জমা হওয়ার কারণেই আজকের দিনে এই জাতের গ্রহগুলোকে ঘিরে বৃত্তাকার বলয় চোখে পড়ে। এখানে উল্লেখ্য যে, ১৬১০ খৃস্টাব্দে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও সর্বপ্রথম শনির চারপাশে বলয় পর্যবেক্ষণ করেন। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ