ঢাকা, বুধবার 12 April 2017, ২৯ চৈত্র ১৪২৩, ১৪ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এক সাথে কাজ করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া

গতকাল মঙ্গলবার নিজস্ব মিলনায়তনে ঢাকা চেম্বার এবং কুচিং চাইনিজ জেনারেল চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ২ বছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার বাণিজ্য ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে এক সঙ্গে কাজ করতে চায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। এ বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে দু’দেশকে এক সাথে কাজ করতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা চেম্বার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ডিসিসিআই ও মালয়েশিয়ার কুচিং চাইনীজ জেনারেল চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র প্রতিনিধি দলের মধ্যকার বাণিজ্য আলোচনায় সংস্থাটির সভাপতি আবুল কাসেম খান এসব কথা বলেন। আলোচনা সভায় ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম, ডিসিসিআই সহ-সভাপতি হোসেন এ সিকদার, পরিচালক হোসেন খালেদ, ইঞ্জিনিয়ার আকবর হাকিম, ইমরান আহমেদ এবং মহাসচিব এএইচএম রেজাউল কবির এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও আলোচনা সভায় মালয়েশিয়া সরকারের কৃষি আধুনিকায়ন বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ওয়াই বি এনসিক ম্যালকম মুসেন, প্রতিনিধিদলের নেতা ড. ক্রিস্টোফার গুই সু লিং এবং ৪০ সদস্যের প্রতিনিধিদল যোগদান করেন। আর এই লক্ষ্যে বিদ্যমান শুল্ক নীতিমালা সংষ্কার ও যুগোপযোগী করা এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের উপর গুরুত্বারোপ করে সংগঠনটি।
আবুল কাসেম খান বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যেখানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার রপ্তানির পরিমাণ যথাক্রমে ১৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ৯৫৬ দশমিক ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
তিনি বলেন, আগামী ২ বছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের উন্নীত করার লক্ষ্যে বিদ্যমান শুল্ক নীতিমালা সংষ্কার ও যুগোপযোগী করা এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে তিনি মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের জ্বালানি, ওষুধ, জাহাজ নির্মাণ, ইলেকট্রনিক্স, তথ্য-প্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রভৃতি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
আবুল কাশেম বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া দুটি ভাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক বিদ্যমান থাকলেও তা কাক্সিক্ষত পর্যায়ে উন্নীত হয়নি। সামনের দিনগুলোতে দুদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, মানব সম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধি, শিক্ষা, পর্যটন প্রভৃতি খাতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া একযোগে কাজ করতে পারে।
সভায় মালয়েশিয়া সরকারের কৃষি আধুনিকায়ন বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ওয়াই বি এনসিক ম্যালকম মুসেন বলেন, বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যেটি খুবই আশাব্যঞ্জক। বাংলাদেশে উৎপাদিত পাট ও পাটজাত পণ্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে মালয়েশিয়ায়। কৃষিজাত পণ্য, মশলা, আসবাবপত্র, নির্মাণ সামগ্রী এবং ডেইরি প্রভৃতি পণ্য মালয়েশিয়ায় রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে।
প্রতিনিধিদলের নেতা ড. ক্রিস্টোফার গুই সু লিং বলেন, মালয়েশিয়ায় পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং পণ্যের গুণগতমান নিশ্চিতকরণের বিষয়ে বাংলাদেশী উদ্যোক্তাদের মনোযোগী হতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ