ঢাকা, বুধবার 12 April 2017, ২৯ চৈত্র ১৪২৩, ১৪ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রাথমিক বৃত্তি পেল সাড়ে ৮২ হাজার শিক্ষার্থী

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে তার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ২০১৬-এর বৃত্তির ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তৃতা করেন -পিআইডি

স্টাফ রিপোর্টার : এ বছর সারা দেশ থেকে মোট সাড়ে ৮২ হাজার ছাত্রছাত্রী প্রাথমিক বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ হাজার ট্যালেন্টপুল এবং বাকি সাড়ে ৪৯ হাজার জন পেয়েছে সাধারণ বৃত্তি।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বৃত্তির তথ্য জানান। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বৃত্তি ঘোষণা করা হয়। ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্তরা প্রতি মাসে ৩০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ২২৫ টাকা করে পাবে। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এই বৃত্তি দেওয়া হবে। আগে সাধারণ কোটায় ৩৩ হাজার এবং মেধা কোটায় (ট্যালেন্টপুল) ২২ হাজার জনকে বৃত্তি দেওয়া হতো। এবার সাধারণ কোটায় ৪৯ হাজার ৫শ’ এবং ট্যালেন্টপুলে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে।
বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট www.dpe.gov.bd পাওয়া যাবে।
এ সময় মন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ঘোষণা দেওয়ার পরেও আর কতদিন পঞ্চম শ্রেণিতে সমাপনী পরীক্ষা নেওয়া হবে। আর অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা কবে নাগাদ প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় আসবে। ২০১৮ সালের মধ্যেই এর সুরাহা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ক্যাবিনেট কর্তৃক এটি চূড়ান্তভাবে মানে যতক্ষণ পর্যন্ত নির্দেশনা না আসে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি তো টেকওভার করতে পারছি না। আমাদের বলা হয়েছে, আপনারা প্রস্তুতিগুলো নেন। নিলেই সহসা এর জন্য যে কাজগুলো দরকার তাদের পক্ষ থেকে ছেড়ে দেওয়ার আগেও তো তাদের কিছু কিছু কাজ আছে। সেটা আমাদের বুঝিয়ে দিতে সময় লাগে, না! নতুন সংসার তো আমাদের।
সাধারণ কোটায় ৪৯ হাজার ৫শ’ শিক্ষার্থীর মধ্যে সাত হাজার ৯শ’ ৪৬টি ইউনিয়ন পরিষদ-পৌরসভার ওয়ার্ডে প্রতিটিতে ৬টি (৩ জন ছাত্র ও ৩ জন ছাত্রী) করে মোট ৪৭ হাজার ৬শ’ ৭৬টি বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট এক হাজার ৮শ’ ২৪টি বৃত্তি থেকে প্রতিটি উপজেলা/থানা থেকে আরও ৩টি (১ জন ছাত্র, ১ জন ছাত্রী ও উপজেলা মেধার ভিত্তিতে ১ জন) করে ৫০৯টি উপজেলা-থানায় মোট এক হাজার ৫শ’ ২৭টি সাধারণ বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। বাকি ২শ’ ৯৭টি সাধারণ বৃত্তি থেকে প্রতিটি জেলায় আরও ৪টি (২ জন ছাত্র ও ২ জন ছাত্রী) করে ৬৪ জেলায় ২শ’ ৫৬টি বৃত্তি বণ্টন করা হয়েছে।
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের গতবারের তুলনায় অর্থের পরিমাণ বেড়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগে সাধারণ ক্ষেত্রে মাসিক ১৫০ টাকা দেওয়া হলেও এবার থেকে ২২৫ টাকা এবং ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্তদের ২০০ টাকা করে দেওয়া হলেও তা বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হয়েছে। এসব শিক্ষার্থী ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বৃত্তি সুবিধা ভোগ করবে।
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার মাধ্যমে ৫৫ হাজার শিক্ষার্থীকে মেধার ভিত্তিতে বৃত্তি দেওয়া হতো। ২০১৫ সাল হতে আরও ২৭ হাজার ৫শ’ বাড়িয়ে ৮২ হাজার ৮শ’ জন করার সিদ্ধান্ত হয়।
ঝরে পড়া রোধ, উপস্থিতি বাড়ানো, মেধার স্বীকৃতি ও সুষম মেধা বিকাশের লক্ষ্যে সমাপনী পরীক্ষার উপর ভিত্তি করে উপজেলাভিত্তিক বৃত্তি দিয়ে আসছে সরকার। আগে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়ার জন্য আলাদা পরীক্ষা নেওয়া হতো। ২০১০ সাল থেকে সমাপনী পরীক্ষা চালুর পর এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকেই উপজেলাভিত্তিক বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে।
গত নভেম্বরে প্রাথমিক সমাপনীতে ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৭শ’ ৩৪ জন এবং ইবতেদায়িতে দুই লাখ ৫৭ হাজার ৫শ’ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। পরীক্ষা শেষে ২৯ ডিসেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ