ঢাকা, বুধবার 12 April 2017, ২৯ চৈত্র ১৪২৩, ১৪ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভারতকে নগদ দিলেও বাংলাদেশের পাওনা বাকি -বাংলাদেশ ন্যাপ

ভারত সফর শেষে প্রধানমন্ত্রীর সাংবাদিক সম্মেলনের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যই প্রমাণ করেছেন ভারত সফর সফলতা আশাব্যঞ্জক নয়।
তারা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পাদিত সমঝোতা ও চুক্তিতে বাংলাদেশের ‘প্রাপ্তি’র অপ্রাপ্তির তুলনায় খুবই ক্ষুদ্র। চুক্তিতে ভারতকে ক্রমাগতভাবে নগদ সুবিধা দেয়া হলেও বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশির ভাগ ইস্যুকে পেন্ডিং করে রেখে শুধু প্রতিশ্রুতির ভাঙা রেকর্ড বাজিয়ে প্রবোধ দেয়া হয়েছে।
নেতৃদ্বয় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে দুই দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনার সুনির্দিষ্ট ফলাফলের ক্ষেত্রে ন্যূনতম প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে। বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় আরো বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার নিট ফলাফলে তিস্তাসহ দুই দেশের মধ্যকার অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যাপ্রাপ্তি, বাণিজ্য ঘাটতি দূর, টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ বন্ধ, সুন্দরবন বিধ্বংসী রামপাল প্রকল্প বাতিল, সীমান্তে মানুষ হত্যা নিঃশর্তভাবে বন্ধ করা ইত্যাদি বিষয়গুলোতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের ঘোষণা না থাকায় বাংলাদেশের জনগণ প্রচ-ভাবে হতাশ হয়েছে।
 তারা আরো বলেন, আশাবাদের আবর্তে আটকে আছে তিস্তা চুক্তি। আর অনিশ্চিত রয়ে গেছে গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প। কোনো কথাই হয়নি আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প বিষয়ে। রয়েছে প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্মারক নিয়ে অস্পষ্টতা।
প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্মারক নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে বলে মন্তব্য করে নেতৃদ্বয় বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাওয়ার আগে প্রতিরক্ষা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক নিয়ে দেশে সবচেয়ে বেশি আলোচনা-বিতর্ক হয়েছিল। কিন্তু প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বাক্ষরিত তিনটি সমঝোতা স্মারকের মধ্যে প্রধানটি সম্পর্কে ¯্রফে এটুকু জানানো হয়েছে যে, এটা ‘বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রূপরেখা’ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক।
এ ছাড়া কৌশলগত স্থাপনায় ভারতকে জড়িত করা প্রসঙ্গে তারা বলেন, তিনটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার নিয়ে আর একটি হয়েছে স্যাটেলাইট প্রকল্প নিয়ে। এটা সর্বজনবিদিত ব্যাপার, যেকোনো দেশের জন্য তার পারমাণবিক স্থাপনা এবং স্যাটেলাইট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিষয়। পৃথিবীব্যাপী চর্চা হলো এ রকম স্পর্শকাতর কৌশলগত বিষয় নিজেদের মধ্যে রাখা, কিন্তু আমরা তা করলাম। এটা আমাদের রাষ্ট্রীয় স্বার্থের জন্য কোনোভাবেই ভালো হবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ