ঢাকা, বুধবার 12 April 2017, ২৯ চৈত্র ১৪২৩, ১৪ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পাঁচ লাখ শিক্ষক কর্মচারীকে বৈশাখী ভাতা দেয়া হচ্ছে না

চট্টগ্রাম অফিস : বেসরকারি স্কুল কলেজ ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য সরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের অনুরূপ নববর্ষ ভাতা তথা বৈশাখী ভাতা প্রদানের দাবিতে গতকাল দেশব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে জাতীয় শিক্ষক কর্মচারী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচি ও সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করতে গিয়ে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী বলেছেন, শিক্ষকরা হচ্ছে মানুষ ও জাতি গড়ার কারিগর তাদের প্রতি অবহেলা ও বৈষম্য সৃষ্টি করে কখনো শিক্ষা অগ্রসর হতে পারেনা। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ও সমাজিক অগ্রগতি তথা প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০২১ সফলতা নির্ভর করছে শিক্ষার অগ্রগতির উপর আর শিক্ষার সিংহভাগ দায়িত্ব পালনকারী বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় বৈশাখী ভাতা না দিয়ে পে-স্কেলের ৫% ইনক্রিমেন্ট না দিয়ে বা তাদের বঞ্চিত করে দেশ জাতির উন্নয়ন হবে না। তিনি জাতীয় শিক্ষক কর্মচারী ফ্রন্টের সকল দাবির সাথে একমত পোষণ করে বলেন, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী সরকারি শিক্ষকদের একটি স্বার্থান্বেষী গ্রুপ দ্বারা পরিচালিত, যারা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির সাথে হাত মিলিয়ে সর্বত্র অপকর্ম করে যাচ্ছে। অতএব, যতদিন এই শিক্ষামন্ত্রী থাকবে ততদিন শিক্ষার দায়িত্ব পালনকারী এই বৃহৎ পেশাজীবী অংশের কোন অধিকার বাস্তবায়ন হবে না। তিনি শিক্ষকদের বৈশাখী ভাতা ও ৫% ইনক্রিমেন্টসহ ন্যার্য্য দাবি গুলোর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি-বাকশিস সভাপতি অধ্যক্ষ দবির উদ্দীন খান।
সমাবেশে প্রধান বক্তা বাকশিস এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আবু তাহের চৌধুরী বলেছেন, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বৈশাখীভাতা দেয়া হচ্ছে না সেটা তিনি জানেন না বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার তীব্র সমালোচনা করে প্রশ্ন রাখেন আবুল মাল আবদুল মুহিত কোন দেশের অর্থমন্ত্রী? রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী ৫ লক্ষ শিক্ষক কর্মচারীকে বৈশাখী ভাতা দেয়া হচ্ছে না এবং ৮ম পে-স্কেলে ৫% ইনক্রিমেন্টও দেয়া হয়নি এই সংবাদ যদি তিনি না জানেন তাহলে অবিলম্বে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। তিনি বলেন এপ্রিল মাসেই বৈশাখী ভাতা প্রদান করে শিক্ষকদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে নববর্ষ পালনের সুযোগ দিন। অন্যথায় বৈশাখী ভাতা, ৫% ইনক্রিমেন্ট পদোন্নতি পূর্ণাঙ্গ বাড়িভাড়া, পূর্ণাঙ্গ পেনশন ও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাভাতাসহ অন্যান্য দাবিতে আগামী জুলাই মাসে ৮ বিভাগে মহা সমাবেশ করে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।সমাবেশে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহেদুল কবির সংহতি প্রকাশ করেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ফাউজুল কবির, অধ্যক্ষ সমীর কান্তি দাশ, উপাধ্যক্ষ মকসুদুর রহমান চৌধুরী, অধ্যাপক সুকুমার দত্ত, অধ্যক্ষ আবু জাফর সিদ্দিকী, অধ্যাপক হুমায়ূন কবির চৌধুরী, অধ্যক্ষ এস.এম. মিছবাহউর রহমান, অধ্যাপক শিব প্রসাদ, উপাধ্যক্ষ তৌহিদুল আলম, অধ্যক্ষ হাসিনা মমতাজ জোনাকী, অধ্যাপক সুজিত কুমার দাশ, উপাধ্যক্ষ সৈয়দ উদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক জহিরুল আলম, অধ্যাপক বিকিরণ বড়ুয়া, অধ্যাপক আব্দুল আহাদ, অধ্যাপক শাহাদাত হোসাইন, অধ্যাপক অজিত কুমার মিত্র, অধ্যাপক শাহ আলম, অধ্যাপক ইসহাক উদ্দিন চৌধুরী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ফেডারেশন নেতা মোঃ সাইফুর রহমান ও আক্কাস মিয়া ও মোফাজ্জ্বল হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ