ঢাকা, বুধবার 12 April 2017, ২৯ চৈত্র ১৪২৩, ১৪ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শাহজাদপুরের রাউতারা-নিমাইচরা বাঁধ ভেঙে গেলে ডুবে যাবে ৬৩ হাজার হেক্টর জমির ধান

এমএ জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ): উত্তরাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত চলনবিল অঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমির ফসল বন্যার হাত থেকে রক্ষায় নির্মিত রাওতারা –নিমাউচরা  রিংবাঁধ।  দেশের  সুনামগঞ্জ, সিলেট, কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী জেলায় আগাম বন্যায় ফসলী ধানক্ষেত ডুবে যাওয়ায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছে শাহজাদপুরসহ চলনবিল অঞ্চলের কৃষক। ইতিমধ্যেই করতোয়া, বড়াল নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড এ স্থানটিতে প্রায় এক  কোটি টাকা ব্যয়ে লো-হাইট বাঁধ নির্মাণ করলেও প্রতিবছর বন্যার শুরুর দিকেই ভেঙে যায় বাঁধটি ফলে পানি উন্নয়নবোর্ডের নি¤œমানের বাঁধ নির্মাণ কার্যক্রম এলাকাবাসীকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। তবে বিভিন্ন স্থানে আগাম বন্যা হওয়ায় চলনবিল অঞ্চলেও এই আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।
যদি এই মুহূর্তে আগাম বন্যা হয় কিম্বা  বাঘাবাড়ী বড়াল নদীর রাউতারা বাঁধের এই অংশটুকু ভেঙে গেলে বাঁধ অভ্যন্তরের সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর, বগুড়া ও রাজশাহী জেলার অন্তত ৬৩ হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান পানিতে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। চলনবিল অঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমির ফসল বন্যার হাত থেকে রক্ষায় আশির দশকে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঘাবাড়ী-নিমাইচড়া-তাড়াশ বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বাঁধটি নির্মাণের ১০ বছরের মাথায় এর ত্রুটি ধরা পড়ে। ভুল পরিকল্পনায় তৈরি এ বাঁধের কারণে বর্ষা মৌসুমে চলনবিল অঞ্চলের সাতটি থানার পানিপ্রবাহ বাধার সম্মুখীন হওয়ায় অস্বাভাবিক বন্যা এবং জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে। এ অবস্থায় পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। কিন্তু বর্তমানে বাঁধ অভ্যন্তরের ৬৩ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে বোরো ধান। ধান কেবল কাচা অবস্থায়ই রয়েছে। পুরোদমে ধান পাকতে প্রায় ১ মাস সময় লাগবে। এর আগে ঘরে ধান তুলতে পারবেননা কেউ। লাখ লাখ বিঘা জমির ধানের কথা বিবেচনা করে বোরো ধান কেটে ঘরে না তোলা পর্যন্ত যেন বন্যার পানি প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতিবছর শাজহাদপুর উপজেলার রাওতারা স্লুইসগেট সংলগ্ন স্থানে লো-হাইট বাঁধ নির্মাণ করে থাকে। কৃষকরা তাঁদের জমির ফসল কেটে নেওয়ার পর বাঁধ উপচে পানি ভেতরে প্রবেশ করে। এতে ফসল রক্ষার পাশাপাশি চলনবিলের বৈশিষ্ট্য অক্ষুন্ন থাকছে। এ বছরও পানি উন্নয়ন বোর্ড এ স্থানটিতে কোটি টাকা ব্যয়ে লো-হাইট বাঁধ নির্মাণ শুরু করেছে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে সঠিক সময়ে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে না বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে।
এ ব্যাপারে পোতাজিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বেপারী জানান, প্রতিবছর বন্যার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফসল নিয়ে চলনবিল অঞ্চলের কৃষকরা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। এই উদ্বিগ্নতা দূর করতে বর্তমান সরকার এই স্থানে সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ