ঢাকা, বুধবার 12 April 2017, ২৯ চৈত্র ১৪২৩, ১৪ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সাতক্ষীরায় ব্লাস্ট রোগে বোরো ধানের ক্ষতি ॥ চাষীদের মাথায় হাত

এম এ ফয়সাল তালা (সাতক্ষীরা): তালায় ব্লাস্ট রোগের আক্রমণে মাঠের পর মাঠ ধানের শীষ শুকিয়ে গেছে। ধান কাটার মুহূর্তে মাঠে গিয়ে ধানের এ অবস্থা দেখে মাথায় হাত উঠেছে বন্যা দুর্গত এলাকার কৃষকের। ফলে এবার বছরে একটি ফসলও ঘরে তুলতে পারছে না কপোতাক্ষ পাড়ের শতশত কৃষকরা।
আশায় বুক বেধেঁ সারা বছর পানিতে ডুবে থাকা মাঠের পানি সেচ দিয়ে ইরি-বোরো আবাদ করেছিল জলাবদ্ধ এলাকার কৃষকরা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি জমিতে ইরি বোরো চাষাবাদ হলেও, শেষ মুহূর্তে শীষ শুকিয়ে যাওয়ায় হতাশ কৃষকরা।
সরেজমিনে উপজেলার হরিচন্দ্রকাটি, তেঁতুলিয়া, খলিলনগর, ইসলামকাটি সহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ বিলে ধানের শীষ শুকিয়ে গেছে।  ফলে হারিয়ে যাচ্ছে কৃষকের মুখের হাসি।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের রহিমাবাদ গ্রামের মোঃ আমিরুল ইসলাম বলেন, বাকিতে সার বীজ নিয়ে বহুকষ্টে ৮ বিঘা  জমিতে ইরি ধানের চাষাবাদ করেছি।
সঠিক পরিচর্যা ও করেছি কিন্তু শেষ মুহূর্তে ধানের শীষ শুকিয়ে যাওয়া এ অজানা রোগের কারণে আমি সর্বস্বান্ত । কিভাবে পাওনাদারের টাকা পরিশোধ সহ সারা বছরের খাদ্য সংরক্ষণ করব তা ভেবে এখন আমিরুল ইসলাম হতাশায় ভুগছেন।
একই কথা জানান, ৩ বিঘা জমির মালিক খলিলনগর ইউনিয়নের হরিশচন্দ্রকাটী গ্রামের গফুর মোল্যা, ১ বিঘা জমির মালিক তালা খাজরা গ্রামের নজরুল ইসলাম, ৫ বিঘা জমির মালিক মোবারকপুর গ্রামের মোঃ ইকবাল হোসেন, তেতুঁলিয়ার ৫ বিঘা জমির মালিক সাত্তার মোড়ল, ৭ বিঘা জমির মালিক মোস্তাফিজ গাজী, মাগুরার আব্দুল মোল্লা, ইসলামকাটির আজিজ শেখ, খলিলনগরের আনার আলী মোড়ল সহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকগণ কান্নাজড়িত কন্ঠে তাদের বেদনার কথা প্রতিবেদককে জানান। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রায় ১৬ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে।
এবার উপজেলার তেঁতুলিয়া, মাগুরা, খলিলনগর, ইসলামকাটি, কুমিরাসহ আশপাশের উপজেলায় সর্বত্রই লক্ষ্যমাত্রার চাইতে বেশি জমিতে ইরি বোরো চাষাবাদ হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সামছুল আলম জানান, গত কয়েকদিন আগে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ব্লাস্ট নামক এক ধরনের ভাইরাস উপজেলার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ