ঢাকা, শুক্রবার 14 April 2017, ১ বৈশাখ ১৪২৩, ১৬ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বৈশাখের কবিতা

বৈশাখী পঙক্তিমালা

হাসান হাফিজ

 

টুটাফুটা চৈত্র চিরে 

মেঘ থেকে বৃষ্টিধারা হয়ে 

নতুনের আবাহনে তোমাকে নির্মাণ করি

স্বপ্নজ বৈশাখ

অন্তরের নিভৃতি প্রদেশ থেকে 

কবিই দিয়েছে ডাকÑ

উপমা প্রতীক স্নিগ্ধ চারুকল্প হয়ে

অসামান্য স্বপ্নের আবেশ স্নিগ্ধ 

অবয়ব কাঠামো তোমারÑ

সুতরাং স্থিত হও

আরো আরো মৃৃত্তিকা- সংলগ্ন হও

ক্ষণিকের জন্যে যদি হয় হোক 

শৈশবে ফিরিয়ে নাও

অনুষঙ্গ উদারতাসহ

বৈশাখ, তোমারই আছে এমন ক্ষমতা 

তুমি পারো এমনই দক্ষতা আছে 

সেজন্যেই তোমার প্রারম্ভ এত

         মহতী ও জলদগম্ভীর।   

 

ফিরে এলাম শূন্য হাতে

সোলায়মান আহসান

 

কথা ছিল তোমার সাথে সন্ধি হবে

ভালোবাসার মেহেদি রাঙা হাতে

আমার হাতে রাখা তোমার হাত

এক অমল প্রণয়ের সন্ধি

তুমি দেবে, আমি আঁচল ভরে নেবো

তুমি কথা রাখোনি।

 

সরিয়ে নিয়েছো তোমার হাত- কী এক অভিমানে?

ফিরিয়ে নিয়েছো কথা- ছাপার অক্ষরে যা লেখা!

 

তাই সেই বেদনায় শুকিয়ে গেছে নদী খাল বিল

পানিতে ভরিয়ে দেয় না মরুভূ প্রান্তর

চোখের পানিতে ভিজে এ গাল ফোঁটায় ফোঁটায় 

 

তুমি কথা রাখোনি বলে এই বৈশাখে

আকাশে ঝড়ো বাতাস নেই, মেঘ নেই

                নেই বৃষ্টির অপূর্ব নাচন

 

কথা রাখোনি বলে তোমার আঙিনায় গিয়ে

             পাইনি সম্ভাষণ- কেমন আছো?

শুকিয়ে গেছে আমাদের নদী, পারাপারহীন জনপদ

আমাদের ভালোবাসা, মাঞ্চিত্রের মত রেখাচিহ্ন হয়ে ডাকে

আমি তবে কোন দিকে যাবো?

শূন্য হাতে ফিরে এলাম নিজ বাসভূমে

তুমি কথা রাখোনি বলে।

 

 

বৈশাখ এনেছে

মোশাররফ হোসেন খান

 

বৈশাখ এনেছে ঝড়, প্রতীক্ষার বৃষ্টি

ঝড়ের প্রান্তসীমায় জাগে স্বপ্নদৃষ্টি

ঝরাপাতা ভাঙা ঘর উপড়ানো গাছ

তবুও তারই মাঝে খেলে স্বর্ণমাছ

বেড়ে যায় কৃষকের বুকের স্পন্দন

নওল বৃষ্টিতে যত ফুঁফানো ক্রন্দনÑ

দূরে যায় মুছে যায়, ফের আশালতা, 

বৃক্ষের পত্র পল্লবে জাগে বিশালতা। 

 

ঝড়ের তা-বে কাঁপে ঘর থর-থর

ধূলায় ধূসর চারদিক-তারপর

আবার প্রাণের নবতর কলরব

মৃত্তিকার বুকে ফসলের উৎসব

নতুন নবীন সব-স্বপ্নময় দৃষ্টি,

বৈশাখ এনেছে ঝড়, প্রতীক্ষার বৃষ্টি।

 

 

পিঁপড়েরা 

হাসান আলীম 

 

সারিবদ্ধ পিঁপড়েরা সম্মুখে চলছে

সীসাঢালা প্রাচীরের মতো

কাতার বেঁধে;

শীতের খাদ্য সংগ্রহ করে 

ওরা চলছে গোপন বাংকারে।

 

সম্মুখে সংগিন হাতে নেতা,

পিছে চলছে লক্ষ লক্ষ 

অকুতোভয় সিপাহীবৃন্দ,

হাতির পায়ের নিচে মারা পড়ছে অনেকে

তবুও ভ্রƒক্ষেপহীন পিঁপড়েরা 

চলছে জীবনযুদ্ধের ডাকে।

 

প্রিয়জনেরা দাঁড়িয়ে রয়েছে 

অপেক্ষার দ্বারে

তাদের মুখে ফুলেল হাসি ফোটাতেই হবে

অন্ধকার ক্ষুধা দারিদ্র্য ঘোচাতেই হবে।

 

 

হে রাজা লিয়ার

সায়ীদ আবুবকর

 

হে রাজা লিয়ার, এ-কি ভীমরতি!

ভূস্বর্গের ছিলে অধিপতি,

হঠাৎ কী ভেবে ছাড়লে ক্ষমতাÑ

জয়ী হলো স্রেফ স্নেহ ও মমতা।

 

কর্ডেলিয়ার সত্য ভাষণ 

পেলো না তোমার হৃদয়ে আসন;

পেলো ঠাঁই মধুমাখা বিষকথা 

রিগান ও গনেরিলের শঠতা। 

 

অবশেষে, হায়, পেলে তুমি টের

মানুষের কান ভুল শোনে ঢের;

মিষ্টি যা লাগে মূর্খ এ কানে,

ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে।

 

‘হে তেঁদড় মন, ভোলো বিলাসীতা,

সত্য যদিও লাগে তিতা তিতা,

সে-সত্যে হোক তোমার সুমতি;

কারণ মিথ্যা আনে দুর্গতি।’

 

এই বলে আজ করো আফসোস 

আর কও, ‘সব কপালের দোষ।’

যে-ছিলে ঈগল, হলে মুহূর্তে

ডানাভাঙা বক, পারে না উড়তে!

 

গদির জন্যে পাগল সবাই,

মানুষকে করে মানুষ জবাই;

এ মানুষই হয় হিংস্র হন্যে

হায়েনার মতো, গদির জন্যে! 

 

তোমারই হঠাৎ হলো ভীমরতি

থাকবে না আর দেশের নৃপতি;

কিসের ক্লান্তি করলো কাহিল,

ছাড়লে ক্ষমতা, হলে বুজদিল!

 

বুঝলে, যখন হারালে হে, গদি,

(বুঝতে, লিয়ার, প্রথমেই যদি!):

হোক সে কন্যা, পুত্র কি জায়া,

ক্ষমতা হারালে মাড়ায় না ছায়া;

 

ব্যস্ত সবাই সবাইকে নিয়ে;

মিথ্যে মুখের ভালবাসা দিয়ে

মজায় অনেকে; খাঁটি ভালবাসা

পায় না রসালো কাব্যের ভাষা,

 

পায় না সে সুর কোকিলের মুখে,

যেন সে মুক্তা লুকানো ঝিনুকে; 

কিন্তু রসিক রাজাদের প্রিয়

মধু দিয়ে মাখা মিথ্যা অমিয়।

 

জন্মভূমি 

ইসমাঈল হোসেন দিনাজী

 

ফুলে ও ফসলে সবুজে শ্যামলে

ভরে আছে এই দেশ,

ছায়াঘন বীথি ভালোবাসাপ্রীতি

এসবের যে নেই শেষ।

আকাশের নীল 

মায়া বর্ণিল

মমতাজড়ানো নদী,

কী অনাবিল

আলো ঝিলমিল

মোহমাখা নিরবধি।

ধানে ও গানেতে ফুলের ঘ্রাণেতে

জাগে সুর অনিমেষ।

সূর্যের হাসি

অবিনাশী

জীবনের আলো ছড়ানো,

স্নেহে মাখা 

স্বপ্নে আঁকা 

আদর-সোহাগে জড়ানো।

এ যে আমার সোনার বাংলা চিরচেনা

জন্মভূমি স্বদেশ।

 

কালবোশেখী পাগলা ঝড়ে

শরীফ আবদুল গোফরান

 

বোশেখ এসো বোশেখ এসো

নতুন সুরে ঝিঁঝির গানে

হাওয়ার তানে আমের বনে

উল্লাসিত সবার মনে।

 

বোশেখ এসো ধানশালিক আর

গাঙশালিকের ভাঙ্গা ঘরে

নতুন দিনের শপথ নিয়ে

স্বপ্ন সুখের খুশির তরে।

 

বোশেখ এসো ফুলের বনে

কুটুম পাখির মিষ্টি গানে

আলোর মিনার হেসে উঠুক 

হাওয়ার তানে সবার মনে।

 

বোশেখ তোমার শীতল বাতাস

যাক ভরে যাক নতুন সুরে

গানে গানে নতুন দিনে

সবার মুখে হৃদয় জুড়ে।

 

বোশেখ সবার মন ভাঙ্গা আজ

দিন বদলের পাগলা হাওয়ায়

অন্নহারা মানুষ যতো

কাঁদছে বসে ঘরের দাওয়ায়।

 

এসো তুমি নতুন করে

মায়ের কোলে সবার তরে

দোহাই তোমার ঘর ভেঙ্গোনা

কালবোশেখী পাগলা ঝড়ে।

 

রুবাইয়াত

কাজী রিয়াজুল ইসলাম

 

কারো মৃত্যু হলে বলি চিরবিদায় নিয়ে গেলো,

আসলে এ ঠিক কথা নয়, সে এক নতুন জগৎ পেলো।

সেখানে তার সাথী হলো ভুবন মাঝের কৃতকর্ম,

মৃতই জানে কবে কখন কোন জমিনের ফল সে খেলো।

 

ঝড়

রহমাতুল্লাহ খন্দকার

 

এ বোশেখে তোমাদের পদ্মমালা খুঁটে খুঁটে পড়িÑ

মনে হয়, পদ্মার বুকের চর চারিদিকে করে শুধু হাহাকার

এ উষ্ণ ম-লে যেন কোনো দিন হয়নি বৃষ্টি মুষলধারায়

কেউ যেন কোনো দিন জ্বালেনি প্রদীপ, চাঁদ যেন দেয়নি আলো পূর্ণিমার রাতে,

দীর্ঘশ্বাস যেন এই দীর্ঘতর রাতে। 

যেটুকু আর্দ্রতা রেখেছিল ধরে পশুর নদীর কোল, কাঠফাটা রোদ,

মাঠফাটা খরা দিয়ে গেলো তাও এসে জ্বেলে।

 

 চৈত্রের আগুনে তোমাদের মনপোড়া ছাই আর এ দৃষ্টি বিভ্রম

 উড়ে যেতে যদি বোশেখের ঝড়ে।

 

বোশেখের ইচ্ছেরা 

রওশন মতিন

 

ইচ্ছে করে শুধু

লাল পলাশের নিবিড় চোখে 

স্বপ্নের সোনালি আবির মেখে 

ধূ-ধূ মহাশূন্যের বুকে উধাও হয়ে যাই

নির্জনতার নদী এঁকে –বেঁকে 

যদি কোন সময়ের তৃণভূমি খুঁজে পাই ।

ভীষণ ইচ্ছে  করে 

বোশেখের দাবদাহে ঝলসানো প্রান্তরে 

অনাথ ঘাসের    মতো  কেবল কাঁদি কেবল কাঁদি 

বোবা মাটির শেকড় ধরে 

কেবল দহন তীক্ষ্ম দহন তীব্র রোদের 

ধারালো চাকুর গানের সুরে ,

আমি জানি ,এখন সব সুন্দর প্রজাপতিরা 

পাথরের কোলে মাথা রেখে ঘুমে আছে 

রৌদ্রে আহত শিশিরের   মতো  

কাচের দেয়ালে নখের আচড়ে 

ওরা লিখে গেছে একটি করুন গান ,

দগ্ধ অবকাশে রেখে গেছে অভিমান ।

তাই আমার আহত  ইচ্ছেগুলো 

বাউলের   মতো  উদাস একতারা হাতে হাটে

ঘূর্ণি বাতাস হয়ে ধূ-ধূ প্রান্তরে 

অনন্ত পথের ডাকে আঁকা থাকে শুধু একটি পাখির নাম 

আমিও নক্ষত্রের   মতো  পথ চলি অবিরাম অবিরাম।

 

যখন মধ্যরাত

সাইফ আলি

 

কিছু কথা মধ্যরাত রাখে ঢেকে

নিজে হয় দোষী

অথচ সে দোষ ছিলো যার

তাকে দেখি আলোতে গোসল-

 

আমিও এখন তাই মধ্যরাতে জাগি

রাতের রুমাল জুড়ে মুছে ফেলি দিনের কালিমা

অতঃপর

নিজেকে নিজেই অন্যভাবে চিনি।

 

আমার দুঃখগুলো অন্ধকারে থাকে

আমার কষ্টগুলো অন্ধকারে থাকে

দিনে দিনে বড়ো হয়

বেড়ে ওঠা বৃক্ষের মতো

সবার অলক্ষ্যে আমি যখন মধ্যরাত

মেঘ হয়ে ব্যথাবৃক্ষে করি বৃষ্টিপাত।

 

বাজাও

জোবায়ের মিলন

 

বাজাও তোমার অগ্নিবীণা বাজাও

আকাশ সীমা কাঁপিয়ে দিয়ে

বাতাস প্রাচীর ঝাঁকিয়ে দিয়ে

জল-স্থলের মলাট খানা-

ওলট-পালট 

উল্টে দিয়ে

বাজাও তোমার অগ্নিবীণা. . .বাজাও

 

বিবেক বুদ্ধি বর্গা দিয়ে

চিন্তা হিসাব ভুল মাশুলে

আজকে যারা আলোর মিছিল- বাতিঘরে

জবর-দখল পেশি ধরে

তাদের মুখোমুখি স্বরে

বাজাও তোমার অগ্নিবীণা বাজাও

বাজাও তোমার অগ্নিবীণা. . . বাজাও

 

ওই যে মুখোশ মুখওয়ালা

আড়াল থেকে কলটা নাড়ে

শুভ সকল সকালটারে

নখর থাবায় আচড় মারে

তাদের মুখোমুখি স্বরে 

বাজাও তোমার অগ্নিবীণা বাজাও

বাজাও তোমার অগ্নিবীণা. . .বাজাও

বা. .জা. .ও তোমার অগ্নিবীণা বা. .জা. .ও

 

জেগে উঠুক পৃথিবী

রিয়াজ উদ্দিন

 

পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্ত থেকে

প্রেমিক প্রেমিকাদের মিছিল উঠেছে,

'প্রেম চাই,প্রেম চাই।'

প্রেমহীন পৃথিবীর প্রতি ইঞ্চি মাটি যেন আজ

আর্তনাদের বধ্যভূমি!

এখানে,

          মানবতা নিঃশব্দে কাঁদে

          ভালবাসা মমতা খুঁজে

        আর স্বপ্নেরা অংকুরে রোধন হয়!

প্রতিটি অমাবস্যা শেষে আবারো স্বপ্ন দেখি,

এইতো ক'দিন পর-

মানবতা মিছিল করবে

হিরোশিমা নাগাসাকির চৌচির ভূমিতে,

ভালবাসা খুঁজে পাবে তার

আপন প্রেমিকের মমতা,

স্বপ্নেরা জেগে থাকবে

প্রজন্মের পর প্রজন্ম।

কিন্তু,

      স্বপ্নগুলো নিজ কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান হতে হতে

     আবার অভিমানে নিজের মতোই

     আত্মহত্যা করে হন্তারকের চৌ-রাস্তায়!

 

প্রেম ও পতাকা

সাদিক স্বপন

 

‘প্রেম’ হৃদয়ঙ্গম এক অনবদ্য ত্যাগ; ঝড় তুফান

পুলকিত শিহরণ-ছোঁয়ার বাহানা.......

 

‘পতাকা’ অন্ত্যস্থিত জাগরণ পরিচয়; বাবার ভিটেমাটি

মায়ের অনর্গল চুম্বন-কাঠ ফাঁটা রোঁদে হালকা বাতাস

 

‘প্রেম ও পতাকা’ নিশীথে মিশে যাওয়া কাব্য...

কাফনে মোড়ানো নিথর দেহ...

 

সত্যাদর্শ

জাফর পাঠান

 

এমন এক যুগের বাহনে- করেছি আরোহণ

মসৃণ পথ রেখে- অপথে যার নিত্য বিচরণ।

বলি যদি চালক ভাই- এপথেনা ওপথে যান

চালক ছুটে দ্বিগুণে, যায় যাক আরোহীর জান।

 

এমন এক যুগের সমাজে- করছি বসবাস

ডানে-বামে অনৈতিকতার ফণাধর ফিসফাস।

নীতিকথা বলতে গেলে- অট্টহাসির উপহাস

বায়বীয় অভিযোগে জুটে- কারাবাস উপবাস।

 

এমন এক যুগের সৌরবলয়ে- ঘুরছে ধরা

শুধু অমানিশার নিশুতি, দিনের আলোর খরা।

সৌরজগতের সৌর থাকলেও হারিয়েছে আলো

যত আছে গ্রহ-উপগ্রহ- হয়েছে নিরেট কালো।

 

কালোয় কালোয়- জগতে সমৃদ্ধ- অন্ধ মতাদর্শ

দলবেধে করছে বন্দি প্রমিত সত্যের সত্যাদর্শ।

 

আমিও ছুঁয়েছি মন

মালেক মল্লিক

 

জলে পা ডুবিয়ে যদি বলো-

সাগর ছুঁয়েছি,

তবে তোমার মূর্খতা পাঠ করে

 বোকা বনে যাবে বিদগ্ধ ঋষিও !

টিলাকে যদি পাহাড় ভেবে-

নির্ণয় করো উচ্চতা

আর পরিমাপ কর মেঘের সাথে নিজের দূরত্ব

তবে কেউ মেনে নেবে না তোমার 

বোকামির দায়ভার।

চোখের সম্মুখে আঙ্গুল ধরে যদি বলো

আঙ্গুলের অগ্রভাগ অদৃশ্যমান,

তা কি মানবে লোকে ?

প্রকাশ পাবে তোমার দৃষ্টিহীনতা !

মনকে প্রজাপতি করে

আবেগে ছুঁয়ে দাও যদি নীল পদ্ম

তাতেই কি হয়ে যাবে আকাশ ছোঁয়ার ইচ্ছে পূরণ ?

বুকে হাত রাখলেই যদি মন ছোঁয়া হতো-

তবে আমিও ছুঁয়েছি মন,

ঠিক যতবার তোমার জন্ম।

 

কালো জোসনা  

মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ

 

লেখা-লেখির শুভ সুত্র প্রেম আর-

ব্যর্থ প্রেমের অশুভতায়

হোকনা প্রমোদ প্রলয়।

 

অবৈধতায় ভেসে না যাক

ইনসানিয়াত

তলিয়ে না যাক ইনসাফের উজ্জল মিনার।

হারিয়ে না যাক সুচারু সংসার

কাম্য আমার সুখ সমাজ।

 

কালো পৃথিবীর অলি-গলি রাজপথ

রাজ নগর এবং সমুদয় জনপদ

শোভিত হোক সুন্দর আগামী।

 

ব্যথাবিহীন বিশ্বটা এভাবেই কাম্য

দূর হোক কালো জোসনা

দূর হোক দূর হোক।

 

তার বিচ্ছেদে

নোমান সাদিক

 

কে যেন জানালো, যাও করে এসো গভীর পরখ

ফুলের বাগানে আর আজকাল ফুটছেনা ফুল

বরং যা কিছু দেখে ভাবে ফুল চোখ মানবীয়

অভ্যস্ত পুথির শেষে চোখ ধরা পাঠকের ভুল।

 

 

ভালোবাসার বৃষ্টি ঝরাও 

মাহিন মুবাশশির

 

ভালোবাসার চাদরে না জড়িয়ে 

রেখেছো মানুষিক দূরত্ব।

এটাই যদি হয় শুরু-

তবে শেষ হবে ভুল বোঝাবুঝি দিয়ে।

প্রিয়তমা ফিরে এসো....

আমায় অফুরন্ত ভালোবাসায় তৃপ্ত করো।

চাতক পাখির মতো চেয়ে আছি একপশলা

ভালোবাসা পাওয়ায় আশায়.... 

ভালোবাসার বৃষ্টি ঝরাও আমার চোখে,

মুখে, বুকে ঠোঁটে......

 

 

মৃত্যুর প্রহর গুণে গুণে

হাসান নাজমুল

 

কলাগাছের একটি ছোট্ট ভেলা ভাসিয়ে চলছি

ঝড়ো আবহাওয়ার উত্তাল সমুদ্র বুকে,

আমি সঙ্গীহীন, সভ্যতার মানুষেরা নেই পাশে,

উত্তাল ঢেউয়ে কখন যে ডুবে যায়-

দুর্বল ভেলাটি,

এই শঙ্কায় আমিও দুর্বল ভেলার মতো

নুয়ে পড়ে বসে আছি একা,

সমুদ্রের বুকে বিশ্বের সভ্যতা নেই,

নেই সভ্যতার মিটিমিটি আলো,

এখানে একাকী বসে-

বিশ্বের সভ্যতা বড় মেকী মনে হয়,

যারা সুবিশাল কেদারায় বসে আছে

তারা দেখছে না আমার বেহাল দশা,

তাদের খেয়াল সুবৃহৎ কোন-

অট্টালিকার ভেতর বন্দী হয়ে আছে

তাদের খেয়াল ব্যাংকের ব্যালেন্সে আটকে আছে,

ঢেউয়ের তালে তালে দিন-রাত

দুলছে ভেলাটি,

আমিও দুলছি মৃত্যুর প্রহর গুণে গুণে।

 

ঠিকানা অতীত

ফজলে রাব্বী দ্বীন

 

ফেলে আসা ঠিকানাগুলো

টিকটিকির মতো ঠিক ঠিক  শব্দ করে

দিক-বিদিকে নয়নতারা

একলা বাসন মাজে

আমার মতো;

দিন কয়েকের করতোয়া

নিমের ডালে হা-ডু-ডু খেলায়।

বাজপাখিদের শক্ত ঠোঁটে

ডালিম টুঁটে আমলকি রাঁধে

খায় সুপারি শিয়াল, বেজি,

ঝিলের বাঁকে পুঁটিও পায়

সেসব তবু মুখের বুলি

কচ্ছপীদের  ভেলায় চড়ে

চিংড়ি তো নয় হাঙ্গর ভাসে

যেন এক পৃথিবী সাগর তলায়!

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ