ঢাকা, শুক্রবার 14 April 2017, ১ বৈশাখ ১৪২৩, ১৬ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ইসলামের দৃষ্টিতে পহেলা বৈশাখ পালন

[দুই]

এইচ.এম. রেজওয়ান শিকদার : শরিয়তের মানদণ্ড হচ্ছে- “হে মানব জাতি! তোমরা পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু আহার কর। সাবধান! তোমরা শয়তানের পদাংঙ্ক অনুসরণ করো না, নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। সে তোমাদেরকে পাপ ও খারাপ কাজের পরামর্শ দিবে।”৭(সূরা আল-বাকারা, আয়াত- ১৬৮-১৬৯ )   “আল্লাহ তা‘য়ালা নির্দিষ্টভাবে কিছু বিষয় বা বস্তুগুলোকে হারাম ঘোষণা করেছেন এবং নির্দিষ্টভাবে কিছুকে হালাল ঘোষণা  করেছেন।”  কেননা  রাসূল (সা.) বলেছেন-“হালাল স্পষ্ট এবং হারাম স্পষ্ট।’ ৮(সহীহ বুখারী, খ--১, পৃ:২০, হাদিস নং- ৫২; সহীহ মুসলিম, খ--৩, পৃ: ১২১৯, হাদিস নং- ১০৭) এ ছাড়াও আল্লাহ তা‘য়ালা  বলেন-“হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার কর এবং সৎ কাজ কর।” ৯ (সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত-৫১)

সুতরাং ইসলামী আইন শাস্ত্র উসূলে ফিকহের নিয়ম অনুযায়ী  “আসল ও ফারাহ” একই জাতীয় হলে তা ‘আসল বস্তুর প্রকৃতির উপর নির্ভর করে হালাল বা হারাম হয়। যেমন- মদ হরাম। এর দ্বারা কোন জিনিস তৈরি হলে সেটাও হারাম হবে। তাই যে কোন বিষয় বা উৎসব হালাল না হারাম তা নির্ভর করে তার উৎপত্তি, উদ্দেশ্য ও ফলাফলের উপর। কোনো কাজের উদ্দেশ্য  বা পরিণতি যদি মানুষের অনিষ্টের কারণ হয় বা সমগ্র মানব সমাজ ক্ষতির সম্মুখীন  হয় তবে ইসলামে হারাম বলেই গণ্য হবে। আর যদি এর উদ্দেশ্য হয় মানুষের কল্যাণ, তাহলে একে হারাম বলা যায় না। আমরা পবিত্র কুরআনে কৃষি-সংস্কৃতির দিবস উদযাপন প্রসঙ্গে নীতিমালা জানতে পারি। আল্লাহ্ তা‘য়ালা বলেছেন-“তিনিই লতা ও বৃক্ষ-উদ্যানসমূহ সৃষ্টি করেছেন এবং খেজুর বৃক্ষ, বিভিন্ন স্বাদ বিশিষ্ট খাদ্যশস্য, জলপাই ও ডালিম জাতীয় ফলও সৃষ্টি করেছেন। এইগুলো একে অন্যের সদৃশ এবং সাদৃশ্যহীন। যখন তা ফলবান হয় তখন তার ফল আহার করবে । আর ফসল তোলার বা কাটার  দিনে (ইয়াওমুল হাসাদ) এ গুলোর হক (উশর /যাকাত)  প্রদান  করবে এবং অপচয় করবে না। নিশ্চয় তিনি অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না।”১০(সূরা আন-আ‘য়াম, আয়াত- ১৪১) এ আয়াতে তিনটি শব্দ লক্ষণীয়, যা নিচে ধারাবাহিক  বর্ণনা করা হলো:

(ক) ফসল তোলার দিন : ফল বা ফসল তোলার দিন এর হক আদায় করতে হবে। আর তা হলো সেই ফসলের একটি নির্দিষ্ট অংশ হিসাব করে গরীব মানুষদেরকে বিলিয়ে দিতে হবে। যা আদায় করা ফরজ। একে ‘উশর’ বলা হয়।

(খ) হক আদায় করা : যেদিন নতুন ফসল কৃষকের ঘরে উঠবে সেদিন স্বভাবতই তাদের মনে আনন্দ হবে। আর যে কোন আনন্দ পূর্ণতা পায় তা অপরের মধ্যে সঞ্চারিত করার মাধ্যমে। 

(গ) অপচয় না করা : তাই এই আনন্দ করতে গিয়ে যেন আনন্দের আতিশয্যে কেউ অপচয় না করে। আমাদের দেশে ফসল কাটার দিনে আনন্দ করা হয়, বিভিন্ন ফসলের জন্য বিভিন্ন পার্বন পালন করা হয়। আলোচ্য আয়াতের প্রেক্ষিতে বুঝা গেল এগুলো পালন করা বৈধ। এ ছাড়াও হযরত মুসা (আ.) এর উপর যে শরিয়ত নাযিল হয়েছিল, সেখানেও আল্লাহ বলেন- “তুমি ফসল কাটার উৎসব পালন করবে। আর বছর শেষে ক্ষেত থেকে ফসল সংগ্রহ করার সময় ‘ফল সঞ্চয়’ উৎসব পালন করবে।”১১(তাওরাত:এঙোডাস,আয়াত- ২৩:১৬) 

ঘ. বর্তমানের হাল-চাল: বর্তমানে আমাদের দেশে যে উৎসব পালন করা হয় তা ধর্মীয় নয়। আবার গরীবের মুখে হাসি ফোটানোও নয়। এ গুলোর নিরেট উদ্দেশ্য ‘বাণিজ্যিক স্বার্থ’। পহেলা বৈশাখও তাই। কারণ এদিন ৫০০ টাকার ইলিশের দাম হয়ে যায় ১০,০০০ টাকা, যা সেই দরিদ্র কৃষকের ধরাছোঁয়ার  বাইরে থেকে যায়। ব্যবসায়ী শ্রেণি ও মিডিয়া প্রচারণার ভুলে আমাদের তারুণ্য  উন্মাদনা  অপচয়ে মত্ত হয়ে যাচ্ছে। বিদেশেও একই দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। অস্টেলিয়ায় প্রতি বছর তরমুজের উৎসবের সময় হাজার হাজার তরমুজের রস দিয়ে রাস্তা পিছিল করে সেখানে ‘স্কি খেলে। অন্যান্য দেশে আঙ্গুর, টমেটো ইত্যাদি দ্বারা অপচয়ের উৎসব পালন করা হয়। অথচ আল্লাহ্ তা‘য়ালা কঠোরভাবে নিষেধ করে বলেছেন- “হে বনী আদম ! তোমরা প্রত্যেক নমাযের সময় সুন্দর পোশাক পরিধান কর এবং তোমরা খাও ও পান কর, কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপচয়কারীকে ভালবাসেন না। হে রাসূল (সা.) ! আপনি বলে দিন, কে হারাম করেছে সাজসজ্জা  গ্রহণ করাকে; যা আল্লাহ তার বান্দাদের  জন্য সৃষ্টি করেছেন।” ১২(সূরা আরাফ,আয়াত: ৩১-৩২)  অর্থাৎ আনন্দ, ফুর্তি ও সাজগোজ করতে আল্লাহ নিষেধ করেন নি। কিন্তু পৃথিবীর এক বিরাট অংশ এখনো দারিদ্য্র সীমার নিচে বাস করছে। আর এই মানুষগুলোর হক আছে আল্লাহ প্রদত্ত সকল ফল ও ফসলে, নবান্ন উৎসবে, পহেলা বৈশাখে বা চৈত্র সংক্রান্তির পার্বণে। 

তাই যখন এই মানুষগুলোর পরিপূর্ণ হক আদায় করা হবে তখনই এই সব উৎসব পালন করা বৈধ হবে। আল্লাহর হুকুম মেনে যদি তা পালন করা হয় তবে এই আনন্দ পূর্ণতা পাবে এবং এই উৎসব ইবাদতে গণ্য হবে। কারণ, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি বা শিল্প-সাহিত্য যে কোন কিছুরই ভালমন্দ নির্ভর করে তার ব্যবহারের উপরে। যেমন, একটি ছুরি,তা দ্বারা ফল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস কাটা যায়। কিন্তু এর দ্বারা কাউকে আঘাতও  করা যায়। এতে ছুরির দোষ নয়, ব্যবহারকারীর দোষ।  শিল্পের নামে অশ্লীলতা, মিথ্যা ও অন্যায়ের  প্রসার হলে তা সকল ধর্মে ও আইনে নিষিদ্ধ।

ঠিক একইভাবে দেশের বিভিন্ন উপজাতি ও বিদেশে  তাদের নিজ নিজ সংস্কৃতি অনুযায়ী ‘নববর্ষ’ পালন করে থাকে। তাই আমরা এবার দেখব আমাদের পহেলা বৈশাখ উৎসব অন্য ধর্মের বা সংস্কৃতির সাথে মিলে যায় কি না? যেমন- বাংলা নববর্ষ ও চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে তিন পার্বত্য জেলায় (রাঙামাটি,বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) ‘বৈসাবি’ পালন করে  থাকে। অবশ্য অন্যান্য উপজাতিরা অন্য নামে উৎসব পালন করে। যেমন- ১.ত্রিপুরারা পালন করে – ‘বৈসুক’ ২.মারমারা পালন করে – ‘সাংগ্রাই’ ৩. চাকমারা পালন করে - ‘বিঝু’। এ নামগুলোর প্রত্যেকটির আদ্যক্ষর নিয়ে একত্রে “বৈসাবি” নামের উৎপত্তি হয়েছে।

এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, পহেলা বৈশাখে ‘পান্তা ইলিশ’ খাওয়ার প্রচলন ছিল না। বাংলার গরীব মানুষ অভাবের তাড়নায় তারা সকালে নাস্তা করত ‘পান্তা ভাত ও পিঁয়াজ-মরিচ’ দিয়ে। ১৩(নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্য বই, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, পৃ : ৮৪)  সম্রাট আকবর যে উদ্দেশ্যে বাংলা সন প্রবর্তন করেন তা ছিল মূলত ‘ঋতুর সাথে ফসল ফলাতে ও খাজনা দিতে’ পারে যেন গরীব কৃষক। কারণ, তারা সৌর মাসের সাথে তেমন হিসেব রাখতে পারত না। তারা ছিল অশিক্ষিত। এখন আমরা দেখি, এই দিনকে এমন ঘনঘটা করে পালন করা হয় যা অন্য উৎসব তেমন পালন করা হয় না। অপর দিকে দেখি, ভারতের জাতীয় পাখি ‘ময়ুর’ ও  জাতীয় পশু ‘হাতি’ এবং বিভিন্ন প্রাণীর মুখোশ ,প্রতিলিপি, ঢোল-তবলা ও মঙ্গোল শোভাযাত্রা’ করা। এগুলো কি নববর্ষের উপকরণ ছিল? আকাশ সংস্কৃতির ও মিডিয়ার গড্ডালিকা প্রবাহে তরুণ-তরুণীরা পাঞ্জাবি-ধুতি, লঙ্গি-গামছা ও সাদা-শাড়ি পড়ে যে সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতি করছে, তা কি বৈধ? আমি এ কথা বলছি না ‘পহেলা বৈশাখ’ বা ‘নববর্ষ’ পালন করা যাবে না। তবে, সারা বছর ‘বাঙ্গালি’ না সেজে শুধু বছরের একদিন ‘পান্তা-ইলিশ’ মাটির প্লেটে খেলেই ‘বাঙ্গালি’ হওয়া যায় না। মন ও মননে  বাঙ্গালি বোধ ও চেতনা থাকতে হবে এবং বিদেশী সংস্কৃতি পরিহার করতে হবে। অধিকাংশ মানুষের বাংলা সিনেমা,নাটক,গান ও কবিতা ভাল লাগে না। তারা পাশ্চাত্যের পপ, রক, হলিউড,ঢালিউড,বলিউড বা হিন্দি সিনেমা, গান ও সিরিয়াল নাটক দেখতে অভ্যস্ত। তাই প্রিয় পাঠক, আপনারাই চিন্তা করুন পহেলা বৈশাখ পালন করার নামে যা করা হয় তা কতটুকু ইসলামে বৈধ? অবশ্যই তা নিষিদ্ধ। আল্লাহ্ তা‘য়ালা পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়ে ঘোষণা করেছেন-“অর্থ: হে রাসূল! বলুন: আমার রব (প্রতিপালক) হারাম করেছেন যাবতীয় প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অশ্লীলতা, পাপ কাজ, অসঙ্গত বিরোধিতা, আল্লাহর সাথে এমন কিছু শরীক করা যার কোন প্রমাণ তিনি নাযিল করেন নি এবং আল্লাহর প্রতি এমন কথা আরোপ করা যা তোমরা জান না।” ১৪(সূরা আরাফ, আয়াত নং: ৩৩)  সুতরাং যারা আল্লাহর এই ঘোষণাকে অস্বীকার করবে তারা নিশ্চিত দোযখের অধিবাসী হবে। আল্লাহ্ তা‘য়ালা তাদের ব্যাপারে বলেন- “যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং সে সম্বন্ধে অহংকার করেছে, তারাই দোযখের অধিবাসী। সেখানে তারা অনন্তকাল থাকবে।” ১৫(সূরা আনয়া‘ম, আয়াত নং: ৩৯ ও ৪৯ ; সূরা আরাফ, আয়াত নং: ৩৬, ১৪৭ ও ১৮২)  অতএব যারা এ বিধান অস্বীকার করবে তারাই বড় যালেম। আল্লাহ্ বলেন-“তার চেয়ে অধিক যালেম কে? যে আল্লাহ্ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে অথবা তাঁর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে।” ১৬(সূরা আনয়া‘ম, আয়াত নং: ২১ ও ৯৩ ; সূরা আরাফ, আয়াত নং: ৩৭; সূরা ইউনুস, আয়াত-১৭; সূরা -দ, আয়াত-১৮; সূরা কাহাফ, আয়াত-১৫; সূরা আনকাবুত,আয়াত-৬৮) 

নতুন দিন তথা সূর্যকে স্বাগত জানানো জায়েজ কিনা ?  এ ধরনের কর্মকাণ্ড মূলত সূর্য-পূজারী ও প্রকৃতি-পূজারী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অনুকরণ মাত্র, যা আধুনিক মানুষের দৃষ্টিতে পুনরায় শোভনীয় হয়ে উঠেছে। তথাকথিত বুদ্ধিজীবী সমাজের অনেকেরই ধর্মের নাম শোনামাত্র গাত্রদাহ সৃষ্টি হলেও প্রকৃতি-পূজারী আদিম ধর্মের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নকল করতে তাদের অন্তরে অসাধারণ পুলক অনুভূত হয়। সূর্য ও প্রকৃতির পূজা বহু প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন জাতির লোকেরা করে এসেছে। যেমন খ্রীস্টপূর্ব ১৪ শতকে মিশরীয় “অ্যাটোনিসম” মতবাদে সূর্যের উপাসনা চলত। এমনিভাবে ইন্দো-ইউরোপীয় এবং মেসো-আমেরিকান সংস্কৃতিতে সূর্য পূজারীদেরকে পাওয়া যাবে। খ্রীস্টান সম্প্রদায় কর্তৃক পালিত যীশু খ্রীস্টের তথাকথিত জন্মদিন ২৫শে ডিসেম্বরও মূলত এসেছে রোমক সৌর-পূজারীদের পৌত্তলিক ধর্ম থেকে, যীশু খ্রীস্টের প্রকৃত জন্মতারিখ থেকে নয়। ১৯ শতাব্দীর উত্তর-আমেরিকায় কিছু সম্প্রদায় গ্রীষ্মের প্রাক্কালে পালন করত সৌর-নৃত্য এবং এই উৎসব পৌত্তলিক প্রকৃতি পূজারীরা তাদের ধর্মীয়-বিশ্বাসের পুনর্ঘোষণা দিত। মানুষের ভক্তি ও ভালবাসাকে প্রকৃতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টির সাথে আবদ্ধ করে তাদেরকে শিরক বা অংশীদারিত্বে লিপ্ত করানো “শয়তানের সুপ্রাচীন “ক্লাসিকাল ট্রিক” বলা চলে। শয়তানের এই কূটচালের বর্ণনা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা কুরআনে তুলে ধরেছেন- “আমি তাকে ও তার জাতিকে দেখেছি, তারা আল্লাহকে ছেড়ে সূর্যকে সিজদা করছে এবং শয়তান তাদের কার্যাবলীকে তাদের জন্য শোভনীয় করেছে” ১৭  (সূরা আন নামল :২৪) নববর্ষের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নারীর যে অবাধ উপস্থিতি, সৌন্দর্য প্রদর্শন এবং পুরুষের সাথে মেলামেশা – তা পরিপূর্ণভাবে ইসলামবিরোধী, তা কতিপয় মানুষের কাছে যতই লোভনীয় বা  আকর্ষণীয়ই হোক না কেন। এই অনুষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের মুসলিম সমাজের ধ্বংসের পূর্বাভাস দিচ্ছে। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রমনার বটমূলে নতুন দিনের প্রভাতে দেশেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী আয়োজন করে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের। কি জমজমাট আয়োজন, নানা গান বাজনার আসরে নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা। নানা রং ঢংয়ের ব্যানার, ফেস্টুন, কার্টুন, মুখোশ নিয়ে রাজপথে নববর্ষ উৎযাপন র‌্যালিতে অংশ নেয় নর-নারী ও যুবক-যুবতী। সম্রাট আকবর যে উদ্দেশ্যে বাংলা সন প্রবর্তন করেছিলেন তা আজ রুপকথার গল্প। সে সময় চৈত্র মাসের মধ্যে সারা বছরের হিসাব-নিকাশ ও ব্যবসায়ী লেন-দেন সমাপ্ত করতেন এবং জমির খাজনাপাতি পরিশোধ করতেন। ফলে পহেলা বৈশাখে জমিদারগণ প্রজাদেরকে তথা গরীব মানুষকে মিষ্টি খাওয়াতেন ও ভোজের আয়োজন করতেন। তখন কোন অপসংস্কৃতি ছিল না। 

বিখ্যাত মুসলিম পণ্ডিত ইমাম ইবনে তাইমিয়া এ সম্পর্কে বলেন:

“উৎসব-অনুষ্ঠান ধর্মীয় বিধান, সুস্পষ্ট পথনির্দেশ এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানেরই একটি অংশ, যা সম্পর্কে আল্লাহ বলেন: ‘তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই আমি একটি নির্দিষ্ট বিধান এবং সুস্পষ্ট পথ নির্ধারণ করেছি।’১৮ (আল-মায়িদাহ :৪৮)

আল্লাহ আরও বলেন:‘প্রতিটি জাতির জন্য আমি ধর্মীয় উপলক্ষ নির্দিষ্ট করে দিয়েছি যা তাদেরকে পালন করতে হয়।’১৯(আল-হাজ্জ্ব :৬৭) আল্লাহ আমাদের সঠিক জ্ঞান দান করুক। আমীন, ছুম্মা আমীন। [সমাপ্ত]

লেখক : শিক্ষক, ধামরাই হার্ডিঞ্জ উচ্চ- বিদ্যালয় ও কলেজ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ