ঢাকা, রোববার 16 April 2017, ৩ বৈশাখ ১৪২৩, ১৮ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া যুদ্ধের দামামা ॥ শঙ্কায় বিশ্ব

১৫ এপ্রিল, রয়টার্স : যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ার করে তার ‘সামরিক হিস্টিরিয়ার’ সমাপ্তি টানতে বলেছে উত্তর কোরিয়া নইলে প্রত্যাঘাতের মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেছে।
গতকাল শনিবার উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সাংয়ের ১০৫তম জন্মবার্ষিকী ‘সূর্যের দিন’ পালনের উপলক্ষে রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে সামরিক প্যারেড পরিদর্শন করছেন দেশটির নেতা কিম জং উন। এই প্যারেড অনুষ্ঠানে উনকে অনেক উৎফুল্ল দেখা গেছে।
এই দিনটি উপলেক্ষ্যে উত্তর কোরিয়া নতুন কোনো অস্ত্রের পরীক্ষা চালাতে পারে, এমন সম্ভাবনায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দেশটির নতুন অস্ত্রের পরীক্ষার জবাব যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে দিবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে ‘ধৈর্যচ্যুতি’ ঘটেছে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইতোমধ্যে কোরীয় উপদ্বীপের পথে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী বহর। জাপানি যুদ্ধজাহাজও এই বহরের সঙ্গে যোগ দিবে এমন ঘোষণাও এসেছে।
সম্প্রতি সিরিয়ায় বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার করে চালানো এক হামলার প্রতিক্রিয়ায় দেশটির একটি বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। এরপর থেকেই উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এরই মধ্যে আফগানিস্তানেও আইএস জঙ্গিদের ওপর ‘মাদার অব অল বোম্বস’ নামের অপারমাণবিক সবচেয়ে বড় বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন তিনি।
 কোরিয়ান (উত্তর) পিপলস আর্মির জেনারেল স্টাফের এক মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ বলেছে, “ডিপিআরকে-র প্রতি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে শত্রুতামূলক নীতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের যেসব দস্যুতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে সেগুলোর পাল্টা ও সমুচিত জবাব দিবে ডিপিআরকে-র সেনাবাহিনী ও জনগণ।
“যুক্তরাষ্ট্র ও তার নৌবাহিনীকে চরম প্রত্যাঘাতের মাধ্যমে এমন নিন্দয় জবাব দেওয়া হবে যে হানাদাররা বাঁচারই সুযোগ পাবে না।”
 কেসিএনএ বলেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘গুরুতর সামরিক হিস্টিরিয়া একটি বিপজ্জনক পর্যায়ে’ পৌঁছে গেছে ‘যাকে আর অগ্রাহ্য করা যাচ্ছে না।” ডিপিআরকে বা ডেমোক্র্যাটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়া উত্তর কোরিয়ার দাপ্তরিক নাম।
এর আগে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী যখন কোরিয়া অভিমুখে যাত্রা করেছে, তখন আক্রমণ মোকাবিলায় পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। কোরিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী হান সং রিয়ল মার্কিন বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন।
হান সং রিয়ল অভিযোগ করেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট আগ্রাসী টুইটবার্তার মাধ্যমে সমস্যা তৈরি করছেন। মার্কিন প্রশাসন অসৎ উদ্দেশ্যে উপদ্বীপের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করছে।’
উত্তর কোরিয়ার সামরিক নীতি সম্পর্কে তিনি জানান, দু’বছর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার সময় উত্তর কোরিয়া তার সামরিক নীতিতে পরিবর্তন এনেছে। এখন যে কোনও ধরনের পদক্ষেপ উত্তর কোরিয়া একাই নেবে।
হান আরও বলেন, আমাদের শক্তিশালী পারমাণবিক বোমা রয়েছে। আর মার্কিন হামলার মুখেও আমরা নিশ্চিতভাবেই সে অস্ত্র হাতে নিয়ে বসে থাকবো না। মার্কিন বাহিনী যেভাবে আক্রমণ করবে, আমরা তার সমুচিত জবাব দেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
তিনি জানান, উত্তর কোরিয়া মানসম্পন্ন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে সরে আসবে না।
উল্লেখ্য, কোরিয়া উপদ্বীপ অভিমুখে রয়েছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ভিনসন স্ট্রাইক গ্রুপ। ওদিকে ষষ্ঠ পারমাণবিক পরীক্ষার প্রস্তুত উত্তর কোরিয়া। শনিবার উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সুং-এর ১০৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের সময়ে ৬ষ্ঠ পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালানো হতে পারে। এ নিয়ে উত্তর কোরিয়া-মার্কিন সম্পর্কে উত্তেজনা বিরাজ করছে। উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে ‘ধৈর্যচ্যুতি’ ঘটেছে বলে ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সিরিয়ায় বিষাক্ত সারিন গ্যাস হামলার পর পরই উত্তর কোরিয়ার একটি উপদ্বীপের দিকে নৌবহর পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। যার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকেও পাল্টা হুমকি দিতে ছাড়েননি উ কোরীয় প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। পিয়ংইয়ং অভিযোগ করে বলেছে, এ পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোরিয়া উপদ্বীপকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে।
সম্প্রতি ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ারও ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সিরিয়া সরকারের ওপর তিনি এরই মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছেন। আফগানিস্তানেও আইএস জঙ্গিদের ওপর অপারমাণবিক সবচেয়ে বড় বোমা বিস্ফোরণ এরই মধ্যে ঘটিয়েছেন তিনি। উত্তর কোরিয়াকে থামানো না গেলে তারা যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক অস্ত্র হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করে ফেলতে পারে বলে উদ্বিগ্ন ওয়াশিংটন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়াকে যুদ্ধাবস্থা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে চীন। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, ‘আমরা সব পক্ষকেই মৌখিক-প্রায়োগিক সব ধরনের উস্কানি দেওয়া কিংবা হুমকি দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়।’
যুদ্ধাবস্থা সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে ওয়াং বলেছেন, ‘যুদ্ধ শুরু হলে সব পক্ষই তাতে হারবে, কোনও পক্ষই জয়ী হবে না। যে কোনও মুহূর্তে সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কায় আছে আরেক পক্ষ। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষেরই অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ