ঢাকা, রোববার 16 April 2017, ৩ বৈশাখ ১৪২৩, ১৮ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সবচেয়ে বড় বোমায় আফগানিস্তানে নিহত ৯০

১৫ এপ্রিল, রয়টার্স: আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কথিত আস্তানা লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো সবচেয়ে বড় বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা অন্তত ৯০ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় আঞ্চলিক গবর্নর।
স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেশটির নানগারহর প্রদেশে পাহাড়ি গুহা ও টানেল নেটওয়ার্কে অবস্থিত আইএসের একটি ঘাঁটিতে অপারমাণবিক সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী এই বোমাটি ফেলা হয়, যা ‘মাদার অব অল বম্বস’ বা এমওএবি নামে পরিচিত। নানগারহরের আচিন জেলায় এই বোমাটি ফেলতে একটি এমসি-১৩০ পরিবহন বিমান ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই এক বোমাতেই পর্বত অভ্যন্তরের সুরক্ষিত ওই জঙ্গি ঘাঁটিটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
নানগারহর প্রদেশের আচিন জেলার গভর্নর ইসমাইল শিনওয়ারি বিবিসিকে নিহতের সংখ্যাটি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে আইএস দাবি করেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ফেলা ওই বোমার বিস্ফোরণে তাদের কেউ আহতও হয়নি।
ওই বিস্ফোরণে কোনো বেসামরিক নিহত হয়নি বলে জানিয়েছেন শিনওয়ারি। কিন্তু বিস্ফোরণস্থলের নিকটবর্তী এক বাসিন্দা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ওই বোমার বিস্ফোরণে কিছু বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। আফগান সরকারের প্রধান নির্বাহী আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, তার সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই হামলাটি চালানো হয় এবং এতে ‘বেসামরিকদের ক্ষতি এড়াতে ব্যাপক সতর্কর্তা গ্রহণ করা হয়’।
হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাফাই : আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আস্তানায় সবচেয়ে বড় অপারমাণবিক বোমা হামলার সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এ হামলাকে হিসাব কষে নেয়া পরিকল্পিত পদক্ষেপ বলেই বর্ণনা করেছে তারা।
একেবারে মোক্ষম সময়ে সঠিক লক্ষ্যে সঠিক অস্ত্র হামলা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মার্কিন জেনারেল জন নিকোলসন। ‘মাদার অফ অল বম্বস’ নামে পরিচিত জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট বম্ব (এমওএবি) ২০০৩ সালে প্রথম পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তবে এর আগে কোনো যুদ্ধে এটা ব্যবহার করা হয়নি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পাকিস্তান সীমান্তবর্তী নানগরহর প্রদেশে এ বোমা হামলায় আইএস এর ৩৬ জঙ্গি নিহত হয় বলে জানিয়েছেন আফগান কর্মকর্তারা। শুক্রবার এ বোমা হামলা চালানো নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। নিন্দিষ্ট একটি লক্ষ্যে হামলা করার জন্য এত শক্তিশালী বোমা ফেলার দরকার ছিল কি-না তা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।
কারণ, পরমাণু বোমার পরেই এ বোমা সবচেয়ে শক্তিশালী। এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়ে দেড় মাইল জুড়ে। সব কিছু নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, সম্পত্তিরও প্রচুর ক্ষতি হয়। মার্কিন জেনারেল জন নিকোলসন এক সংবাদ সম্মেলনে এ বোমা ব্যবহারের পক্ষে সাফাই দিয়ে বলেছেন, “সঠিক লক্ষ্যে সঠিক অস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।”
“রণক্ষেত্রে হিসাব-নিকাশ কষে সঠিক লক্ষ্যবস্তুতে এ বোমা ফেলার সঠিক সময় এটিই।” তবে বোমা হামলার নির্দেশ কে দিয়েছিল সে সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি নিকোলসন।
যুক্তরাষ্ট্রের এ বোমা নিক্ষেপের ফলে আইএস- এর গুহায় তৈরি মাটির নিচের তিনটি বাঙ্কার ধ্বংস হয়েছে। কিন্তু কোনো বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে আফগান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা ছিল ওই এলাকায় ৬শ থেকে ৮শ’ যোদ্ধা আছে। কিন্তু আসলেই কতজন যোদ্ধা হামলার কবলে পড়েছে তা স্পষ্ট নয়। আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয় হামলায় ৩৬ আইএস জঙ্গি নিহত হওয়ার কথা বললেও আইএস সংশ্লিষ্ট আমাক বার্তা সংস্থা এক বিবৃতিতে তাদের কোনও যোদ্ধা হতাহত হওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। তাদের এ বিবৃতি নিরপেক্ষ সূত্রে যাচাই করা যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ