ঢাকা, রোববার 16 April 2017, ৩ বৈশাখ ১৪২৩, ১৮ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ছড়া/কবিতা

শান্তির আগমনে
বিশ্বনাথ বিশ্বাস

নতুন নতুনে মিলে একাকার মিলে মিলে দলে দলে
হয়ে উঠে বৈশাখীর আত্মভোলা খুশীর সৌরভ
মন টেনে নেয় মনকে- এসো হে বৈশাখ
সৌন্দর্য্যে সাজাই তোমার মায়াবী ছায়ায় নদীর কিনার
সাজাই তোমার বটতলার পঁসরার পটভূমি
যেমন সাজিয়েছ আবির রাঙা শিমুল-পলাশ ভোরের
শিউলি। পুরোনো দিনের বিষাদ ক্লান্ত রোদের
শির-শির শীতল পরশ- এসো হে বৈশাখ।

চৈত্রের খাঁ-খাঁ চিরল মাটি সজীবতায় মগ্ন ফুলেল
হাওয়ায় গাছের পল্লবে পল্লবে বৈশাখী মোড়ানো
গন্ধ ছুঁয়ে যায়- দিগন্তের অলিগলিতে-
আবার কিছুক্ষণে বৈপরীত্যের বেড়াজালে দানবীয়
ঈশান কোণে পরিচিত আকাশ থাকেনা ঋতুর দ্বন্দ্বে
এই রহস্য আলো কালের বিকশিত-
এসো হে বৈশাখ আলোকিত শান্তির আগমনে।


ভাতের ভিতর লম্বা চুল
খালীদ শাহাদাৎ হোসেন

হঠাৎ সেদিন খাবার সময় লাগলো ঘরে হুলস্থুল
ভাতের হাঁড়ি তার ভিতরে যাচ্ছে দেখা লম্বা চুল,
ভিতর ভিতর ফন্দি-ফিকির কে করলোরে কারসাজি
চুল মাখানো ভাত খেতে যে অগত্যা কেউ নয় রাজি।

ঘরের সবাই আপন মানুষ যায় না কেন বশ করা
দুপুরবেলা ভাত নিয়ে কেউ করে এমন মশকরা।
খিদেয় কাতর দুঃখে পাথর চোখে দেখে সর্ষেফুল
তবুও কেউ মানতে নারাজ খেয়াল খুশির এমন ভুল।

বাইরে শুনি দাদীর গলা কি কখনো কোথায় থুই
দু’দিন ধরে পাইনা খুঁজে কালো সুতা চিকন সুঁই।
গত রাতে সুঁই হাতে যে ছিলাম হেথায় দাঁড়িয়ে
এরি মাঝে সুঁই সুতা বল কোথায় গেল হারিয়ে?

চোখে নজর ফুরিয়ে গেছে নিজেই এখন তালকানা
বুয়ার কাছে এসেছিলাম গেঁথে নিতে তসবী দানা।
ঘরে বাইরে হল্লা সমান উভয় কূল সামলাতে
মা বললেন হাঁড়ির ভাত ডাল গামলাতে।

হাঁড়ির ভিতর বদ্ধভাত যেইনা দিল ছড়িয়ে
ভাতের কাঠি নাড়তে গিয়ে উঠলো কিযে জড়িয়ে
এই তো দাদুর সুঁই সুতো নয়তো কারো মাথার চুল
থামলো তখন হুলস্থুল রক্ষা পেল উভয় কূল।


বৈশাখী মেঘ
কে.এইচ.মাহাবুব

মেঘ জমেছে আকাশ জুড়ে
ঢাকা মেঘে মেঘে,
দিনের বেলায় রাত’টা পেলাম
আসছে বাতাস বেগে!
ছোটাছুটি করছে সবাই
ফিরছে মানুষ বাড়ি,
খোকাখুকি নেই যে থেমে
ছুটছে তাড়াতাড়ি।

খুব কাছেই আছে যে জন
তাঁর দেখাও পাই না?
দুপুরবেলা টর্চ জ্বালাবো
তা-ও আবার চাই না !

ছেলে মেয়ে ভিজবে বলে
হৈ চৈ করছে তাঁরা,
মেঘ জমেছে বৃষ্টি এলো
আধার সারা পাড়া।


ভালোবাসা
এইচ এস সরোয়ারদী

কোথায় মিষ্টি ভালোবাসা
হারিয়ে গেছে সবই,
ভালোবাসার পদ্যগুলো
লেখেনা আর কবি?

ভালোবাসার কোন গান
গায়না কোকিল বনে,
আগের মতো ভালোবাসা
নেইতো কারও মনে।

ভালোবেসে গোলাপ জবা
হাসেনা আর পার্বণে,
ভালোবাসা হারিয়ে গেছে
ইন্টারনেটের কারণে।


ইলিশ
আব্দুস সালাম
 
পদ্মা-মেঘনা ইলিশ ভরা
পড়ছে ধরা ঝাকে
হেঁসেল ঘরে রান্না করে
দেখছে খোকন মাকে।
 
ইলিশ ভাজা খেতে মজা
গরম ভাতের সাথে
কাঁটা বেছে দেয় সাজিয়ে
খোকন সোনার পাতে।
 
পাশে বসে লেজটা নাড়ে
মিউ মিউ করে পুষি
মাছের কাঁটা পেয়ে পুষি
হয় যে ভীষণ খুশি।
 
ডিমের ছড়ায় নেই তো কাঁটা
পুষির গা তো হিম
মজা করে খাচ্ছে খোকন
ইলিশ মাছের ডিম।


বৈশাখ
    সা'দ সাইফ

বাঙালীর হৃদয় পটে
বৈশাখ একটি নাম
ঐতিহ্যের আকাশ জুড়ে
তারই অবস্থান।

একটি বছর,নতুন দিন
নতুন আশার ফুলঝুরি,
নতুন করে বছর সাজাই
এটাই শুধু পণকরি।


পহেলা বোশেখ
নুরুল হুদা

রমনার বটমূলে খেতে ভাত পানতা,
হাত জোড় করে বলে ছোট বোন শানতা।
রমনা যাবে বলে করে সাজা সাজি,
পানতা খাবে সাথে ইলশা ভাজি।

পরদিন সকালে বলি স্কুলে যা খেয়ে পানতা,
তাই শুনে ছোটবোন করে মুখ আমতা।
সারা বছর যারা নেয় না পানতার খোঁজ,
পহেলা বোশেখে তারা করে পানতার ভোজ।



বৈশাখী বায়না
শাহ্ আলম শেখ শান্ত

বৈশাখি এই মেলাতে
খোকাখুকুর ঠেলাতে
মদনের মাথা হলো নষ্ট
কতশত বায়না
ভাতপানি খায় না
কিনে দাও এটাওটা,বলে দেয় পষ্ট।

খুকু চায় ফিতা চুড়ি
খোকা ফের বাঁশি, ঘুড়ি
বায়নার তালিকাটা সোয়াহাত
রোজগার নেই টাকা
পকেটটা মোটে ফাঁকা
মরলে বেশ হয়,সয়না এ উৎপাত!

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ