ঢাকা, রোববার 16 April 2017, ৩ বৈশাখ ১৪২৩, ১৮ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পিতা মাতার আদেশে স্ত্রী তালাক শরীয়ত সম্মত নয়; ফিকাহবিদদের মতামত

মো. তোফাজ্জল বিন আমীন : তালাক শব্দের আভিধানিক অর্থ বন্ধনমুক্ত করা। শরীয়তের পরিভাষায় স্ত্রীকে বিবাহ বন্ধন থেকে মুক্ত করা। তালাক দেয়ার অধিকার পুরুষের রয়েছে। তবে স্ত্রীর অধিকার হচ্ছে খুলা করার। খুলার শব্দের অর্থ হচ্ছে টেনে বের করে ফেলা। পারিবারিক জীবনের মূল ভিত্তি হচ্ছে একজন পুরুষ ও একজন নারী। এই দু’জনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক স্থাপিত হয় বিবাহ বন্ধনের মাধ্যমে। সাংসারিক দাম্পত্য জীবন পরিচালনা করতে গিয়ে স্বামী অথবা স্ত্রীর মধ্যে  বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এমতাবস্থায় বা অন্য কোনো কারণে যদি কেউ বিবাহ বিচ্ছেদ কামনা করে,তাহলে ইসলাম সে ব্যবস্থা করেছে তালাকের মাধ্যমে। ইসলামে তালাকের ব্যবস্থা রাখলেও তালাক প্রদানে উৎসাহিত করা হয়নি। এমনকি ইসলাম তালাককে জায়েজ কাজ সমূহের মধ্যে সবচেয়ে অপছন্দনীয় কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হালাল বিষয়সমূহের মধ্যে আল্লাহতায়ালার নিকট সর্বাধিক ঘৃণিত বিষয় হচ্ছে তালাক’ (আবু দাউদ)। তালাক প্রতিরোধকল্পে আল্লাহর রাসূলের আরেকটি হাদিস খুবই প্রণিধানযোগ্য। হযরত আলী (রা.) এর বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘বিবাহ করো কিন্তু তালাক দিও না। কেননা তালাকের কারণে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠে।’ আমাদের সমাজে তালাকের নানা ব্যাখ্যা অপব্যাখ্যা রয়েছে। তালাকের বিধান কী শুধু মুসলানের জন্য নাকি অন্য জাতির জন্যও প্রযোজ্য তা হয়তো আমরা অনেকেই জানি না। তালাক কেবল ইসলাম প্রবর্তিত ব্যবস্থাই নয়। ইয়াহুদী ও খ্রিস্ট ধর্মে তালাকের বিধান রয়েছে। তালাকের পদ্ধতি নিয়ম ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা এই নিবন্ধনের মূখ্য উদ্দেশ্য নয়! আজকের নিবন্ধনের মূল্য আলোচ্য বিষয় হচ্ছে, পিতা মাতার আদেশে স্ত্রী তালাক শরীয়ত সম্মত কিনা? পিতা-মাতার সম্মান ও মর্যাদার কথা লিখলে সমাপ্তি টানা যাবে না। পিতা-মাতার মর্যাদার কথা কুরআন ও হাদীসে ব্যাপক আলোচনা করা হয়েছে। একশ্রেণীর পিতা মাতা ছেলের বউ ভালো না হলে হযরত ইব্রাহীম (আ.) এর ঘটনাটি উল্লেখ করে ছেলেকে বউ তালাক দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে থাকে। হযরত ইব্রাহীম (আ.) কেন তাঁর ছেলের বউকে পরিবর্তনের কথা বলেছিলেন সে বিষয়টি অনেকে নিজের মন গড়া মতো ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেন। হযরত ইবরাহীম আ. কর্তৃক পুত্র ইসমাঈল আ.কে তাঁর স্ত্রী তালাক দেবার যে নির্দেশ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,তার পেছনে শরিয়া কারণ বর্তমান ছিলো বলে ধরে নিতে হবে। একজন নবী বিনা কারণে তাঁর পুত্রকে স্ত্রী তালাক দিতে বলবেন তা কিছুতেই কল্পনা করা যায় না। এ ব্যাপারে ফিকাহবিদগণ যে মতামত ব্যক্ত  করেছেন তা পাঠকদের জ্ঞাতার্থে তুলে ধরা হলো।
মাসলা মাসায়ালের সমস্যার সমাধান পেশ করার ক্ষেত্রে উপমহাদেশে যারা শীর্ষস্থানের অধিকারী ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম  ছিলেন আল্লামা মুহাম্মদ ইউসুফ লুধিয়ানাবী (রহ)। আপনাদের প্রশ্নের জওয়াব নামে তাঁর তিন খন্ডের বই রয়েছে। তাঁর বইয়ের দ্বিতীয় খন্ডে ১৩৬২ নং প্রশ্নের উত্তরে তিনি যা বলেছেন তা এখানে তুলে ধরা হলো। প্রশ্নটি ছিল মা যদি বুড়ো হয়ে যান, কাজ কর্ম করতে না পারেন তাহলে স্ত্রীকে দিয়ে মায়ের সেবাযত্ন করানো যাবে কি? উত্তর হিসেবে তিনি যা দিয়েছে তা হুবহুব তুলে ধরা হলো-স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় স্বামীর বাপ মা অর্থাৎ শ্বশুর-শাশুড়ির সেবাযত্ন করেন তাহলে ভালো কথা, নইলে আইনত তাকে বাধ্য করানো যাবে না। ব্যাপারটি নৈতিক আইনের নয়। স্ত্রী যদি স্বামীর বাপ-মায়ের খেদমত না-ই করতে চান সেজন্য তাকে পীড়াপীড়ি করা যাবে না। (আল্লামা ইউসুফ লুধিয়ানাবী ২য় খন্ড) ১৩৬২ পৃষ্ঠা।
তিনি আরো লিখেছেন, শাশুড়ি বউয়ের ঝগড়া প্রায়ই জটিল আকারে পৌঁছে যায়। তবে সব সময়ই দেখা যায় দোষ উভয় পক্ষেরই কমবেশী থাকে। শাশুড়ি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ব্যাপার নিয়ে বউকে তিরস্কার করেন কিংবা নাক সিটকান। বউ এতে অপমানিত বোধ করেন। ফলে তিনিও দুকথা শাশুড়িকে শুনিয়ে দেন। এভাবে লেগে যায় পরস্পরের মধ্যে ঝগড়া। যদি বাপ মা বলেন, স্ত্রীকে তালাক দাও তাহলে দেখতে হবে স্ত্রী দোষী কিনা। যদি স্ত্রী নিরপরাধ হয় তাহলে বাপ মায়ের কথায় স্ত্রীকে তালাক দেয়া জায়েজ নেই। তারা যদি বলেন স্ত্রীকে পৃথক বাসায় রাখার দরকার নেই, একথাও শোনা ঠিক হবে না। স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে থাকতে রাজি হয় সেটি ভিন্ন কথা। নইলে তার মর্যাদা অনুযায়ী আলাদা বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা  করে দেয়ার দায়িত্ব স্বামীর। এ সম্পর্কে শরঈ নির্দেশ রয়েছে। শরঈ নির্দেশ লংঘন করার অধিকার কারও নেই। শাশুড়ি বউ এর ঝগড়া তো নিত্যদিনের ঘটনা। তবে এ ঝগড়ায় কোন একপক্ষ দোষী নয়। উভয় পক্ষেরই কম বেশি দোষ থাকে। প্রত্যেকেরই উচিত খুঁটিনাটি ব্যাপারে বাড়াবাড়ি না করা। একপক্ষ বাড়াবাড়ি করে ফেললে অন্যপক্ষের উচিত ধৈর্য ধরা।”
“শরিয়াহ্ তালাককে নিকৃষ্টতম বৈধ কাজ বলে আখ্যায়িত করছে। তাই, শরিয়াহ কারণ ছাড়া তালাক প্রদান করলে আল্লাহর নিকট অবশ্যি অপরাধী হিসেবে গুণাহগার হতে হবে। এ ধরণের তালাকের অশুভ প্রতিক্রিয়া কেবল স্বামী পর্যন্তই সীমিত থাকে না। বরঞ্চ এ ধরনের তালাক পিতামাতার প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যের প্রমাণ। এ ধরনের তালাক দ্বারা স্ত্রী এবং সন্তানের অধিকারও ক্ষুণœ হয়, তারা কষ্টের মধ্যে নিপতিত হয়। রসূল (সা.) স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন, স্রষ্টার বিধান অমান্য করে সৃষ্টির হুকুম পালন করা যাবে না। বিনা কারণে তালাক দেয়াকে আল্লাহ ঘৃণা করেন। অপরের অধিকার ক্ষুণ্ন করা এবং অপরকে কষ্টে নিপতিত করাকে আল্লাহ মোটেও পছন্দ করেন না।
মোল্লা আলী ক্বারী তাঁর বিখ্যাত মিরকাত গ্রন্থের ‘ঈমান’ অধ্যায়ের ‘কবিরা গুনাহ’ পরিচ্ছেদে লিখেছেনঃ মিশকাতের যে হাদিসটিতে বলা হয়েছে, তোমরা পিতামাতার সাথে অসদাচরণ করো না এবং তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করো না এমনকি তারা যদি তোমাকে পরিজন ও সম্পদ ত্যাগ করতেও বলেন। এ হাদিসটি দ্বারা পিতা পুত্রকে স্ত্রী তালাক দেবার নির্দেশ দিলে তা মেনে নেয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে না,এই পুত্রবধূর বর্তমানে পিতামাতার যতো কষ্টই হোকনা কেনো। কারণ এই ধরনের তালাকে পুত্র কষ্টে নিপতিত হয়। এরূপ অবস্থায় তাদের আনুগত্য করা যেতে পারে না। তারা যদি পুত্রকে ভালোই বাসেন,তবে এই ভালোবাসার দাবি তো হলো,শরয়ী কারণ ছাড়া তারা পুত্রকে স্ত্রী তালাক দিতে বলবেন না। তারা পুত্রের কষ্টের কথা অনুভব করবেন। এমতাবস্থায়,তালাক দিতে বলাটা তাদের অজ্ঞতা। অতএব এ ধরনের আদেশ গ্রহণযোগ্য নয়।
শ্বশুর শাশুড়ীর খেদমত করা ওয়াজিব নয় : আমাদের সমাজে এই রীতি বা প্রথা বিদ্যমান রয়েছে যে শ্বশুর শাশুড়ীর খেদমত করা ছেলের বউয়ের দায়িত্ব। এই বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকে। তা হচ্ছে স্বামী এবং সন্তানের খাবার তৈরীই যেখানে ওয়াজিব নয়,সেখানে স্বামীর মাতা-পিতা,ভাই-বোনের জন্য খাবার তৈরী করা এবং তাদের খেদমত করাও ওয়াজিব নয়! আমাদের সমাজে এই রীতি চালু রয়েছে যে, সন্তানকে বিয়ে করানোর পর বাবা মা মনে করেন,পুত্রবধূর উপর আমাদের সন্তানের হক পরে, প্রথম আমাদের হক। সুতরাং আমাদের হক অবশ্যই আগে আদায় করবে। স্বামীর খেদমত করুক চাই না করুক। এর ফলে বউ-শাশুড়ী এবং ভাবী ননদের মাঝে ঝগড়া দানা বেঁধে উঠে। আর এই ঝগড়ার ফলে সমাজে যা কিছু হচ্ছে,তা আপনার আমার সম্মুখেই রয়েছে।
শ্বশুর-শাশুড়ীর খেদমত সৌভাগ্যের বিষয় : যদি পিতা-মাতার খেদমতের প্রয়োজন পড়ে, তাহলে সেটা সন্তানের উপর ওয়াজিব এবং সন্তান নিজে তাদের খেদমত করবে। অবশ্য পুত্রবধূ যদি সৌভাগ্য মনে করে স্বামীর পিতা-মাতার খেদমত আনন্দচিত্তে করে, তাহলে ভিন্ন কথা। কিন্তু কোন অবস্থাতেই স্বামী স্ত্রীকে স্বীয় পিতা-মাতার খেদমত করার জন্য বাধ্য করতে পারবে না,যতক্ষণ না সে নিজের পক্ষ থেকে আনন্দচিত্তে না করবে। তদ্রুপ শ্বশুর-শাশুড়ীর জন্যও জায়েয নেই পুত্রবধূকে তাদের খেদমতের জন্য বাধ্য করা। তবে পুত্রবধু স্ব-ইচ্ছায় আনন্দচিত্তে যে পরিমাণ খেদমত করবে, সে পরিমাণ তার সওয়াব বৃদ্ধি হবে ইনশাআল্লাহ। আর পুত্রবধূর উচিত তা করা। যেন ঘরে সুষ্ঠু এবং সুন্দর পরিবেশ বজায় থাকে।
স্বামী তার পিতা মাতার খেদমত নিজে করবে : যদি মাতা পিতা দুর্বল হয় এবং তাদের খেদমত করার প্রয়োজন পড়ে আর ঘরে শুধু ছেলে আর ছেলের বউ রয়েছে। এমতাবস্থায় কি করতে হবে। এমতাবস্থায় মাসআলা হচ্ছে, মাতা-পিতার খেদমত করা পুত্রবধূর উপর ওয়াজিব নয়। হ্যাঁ যদি পুত্রবধূ শ্বশুর শাশুড়ীর খেদমত করে, তাহলে এটা তার জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার এবং এর জন্য সে অনেক সওয়াব ও প্রতিদানের অংশীদার হবে। কিন্তু স্বামীর মনে করতে হবে এটা আমার কাজ। আমার পিতা-মাতার সেবা করা এটা আমার কর্তব্য। এখন চাই সে নিজে করুক চাই তাদের খেদমতের জন্য লোক রেখে দিক। আর তার স্ত্রী খেদমত করলে এটা তার উন্নত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য মনে করতে হবে।
শাশুড়ি পুত্রবধূর মধ্যে ভালোবাসার অভাব অনেক ক্ষেত্রে বিরাজমান কি গ্রাম, কি শহরে। একটা সময় তো এমন ছিল পরিবারের সবাই একই ছাতার নিচে বসবাস করতে পছন্দ করতো। এখন আর তেমনটা দেখা যায় না। আমাদের পরিবার প্রথা ভেঙ্গে টুকরা টুকরা হয়ে গেছে। কিন্তু কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া মেলা ভার। তবে একবাক্যে বলা যায় যে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা পরিবারে চর্চা না হওয়ার ফলেই আমরা বিচ্ছেদের দিকে ধাবিত হচ্ছি। একশ্রেণীর শাশুড়ি আছেন যারা ছেলের বউকে আপন করে নেওয়ার পরির্বতে ক্ষমতার বাহাদুরি দেখিয়ে পুত্রবধূকে দূরে ঠেলে দেয়ার যত কলাকৌশল আছে তা প্রয়োগ করেন। ছেলের বউয়ের দোষ অন্যের কাছে না বললে পেটের ভাত হজম হয় না। নিজের মেয়ের হাজারো দোষ সহ্য করতে পারেন। কিন্তু ছেলের বউয়ের একটি দোষও ক্ষমা করতে পারেন না। শাশুড়িরা মনে করেন আমি কষ্ট করে সংসারে উন্নয়ন করেছি। এই সংসার আমার কথামতো চলবে। শাশুড়ি যদি নিজের আমিত্বকে পরিহার করে পুত্রবধূকে নিজের মেয়ের মতো পরিচালনা করেন তাহলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। অথচ এই বিষয়টি শাশুড়িরা বেমালুম ভুলে যান। একজন উদার মনের শাশুড়ি একটি পরিবারের জন্য বড় নেয়ামত। এমন কিছু বউ আছেন যারা শাশুড়িকে খারাপ মনে করেন। শাশুড়িকে কাঁদিয়ে সংসারে অশান্তি লাগিয়ে পৃথক হওয়া অনেক সহজ। কিন্তু শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে মিলেমিশে থাকার মধ্যে যে কল্যাণ নিহিত রয়েছে তা অনেক পুত্রবধূরা অনুধাবন করেন না। ইসলাম পুত্রবধূদের অবাধ স্বাধীনতা দিয়েছেন এটা ঠিক।  তার মানে এই নয় যে শ্বশুর-শাশুড়িকে অপমান করা যাবে। আজ যিনি পুত্রবধূ তিনিও একদিন শাশুড়ি হবেন এই বিষয়টি পুত্রবধূদের মনে রাখা প্রয়োজন।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পুরুষদের বলেছেন, “তোমরা (পুরুষেরা) তাদের সাথে সদ্ভাবে জীবন যাপন করো। তারা (স্ত্রীরা) যদি তোমাদের মনের মতো না হয় তাহলে এমনও হতে পারে যে, তোমরা কোনো জিনিসকে অপছন্দ করো, কিন্তু আল্লাহ তোমাদের জন্য তার মধ্যে অফুরন্ত কল্যাণ রেখেছেন।” (সূরা নিসা: ১৯) । হযরত আবু হুরাইয়া (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (সঃ) বলেন, “কোনো ঈমানদার পুরুষের পক্ষে কোনো ঈমানদার নারীকে ঘৃণা করা ঠিক হবেনা। কেননা ঈমানদার নারীর মধ্যে কোনো একটি বিষয় খারাপ থাকলেও বহু উত্তম গুণও থাকে।” (মুসলিম)
আল্লাহ এবং তার রাসূল (স.) এর দিক নির্দেশনা মানুষকে উদার হতে শেখায়। ছোটখাট দোষত্রুটি নিয়ে অশান্তি করা উচিত নয়। ছেলের বউ তো আর অর্ডার দিয়ে তৈরি করা হয়নি যে,তার সব কাজ,সব কথাই ভালো লাগবে,পছন্দ হবে। আমাদের সবারই মনে রাখা প্রয়োজন কলিজার টুকরা নিজের সন্তানের সব আচরণ পছন্দ হয় না। আর সেখানে ছেলের বউ তো ভিন্ন পরিবেশের ও ভিন্ন পরিবারের একটি মেয়ে। তার সব আচরণ পছন্দ না হওয়াটা তো স্বাভাবিক। মহান আরশের অধিপতি যেন শাশুড়ি ও পুত্রবধূকে ইসলামের বিধি বিধান মোতাবেক জীবন পরিচালনার তওফিক দেন। মহান আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে তাঁর দ্বীনের উপর অটল থাকার খোঁজ নসীব দান করুন (আমীন)।
তথ্যসূত্র :
আপনাদের প্রশ্নের জওয়াব ২য় খন্ড - আল্লামা মুহাম্মদ ইউসুফ লুধিয়ানাবী (রহ)।
ইসলামের হালাল হারামের বিধান- আল্লামা ইউসূফ আল কারযাভী।
নারী অধিকার বিভ্রান্তি ও ইসলাম- নঈম সিদ্দিকী।
ভ্রান্তির বেড়াজালে ইসলাম - মুহাম্মদ কুতুব।
স্বামীর হক স্ত্রীর অধিকার- আল্লামা তকী উসমানী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ