ঢাকা, রোববার 16 April 2017, ৩ বৈশাখ ১৪২৩, ১৮ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে কারো হস্তক্ষেপ মেনে নেয়া হবে না -খালেদা জিয়া

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে কারো হস্তক্ষেপ মেনে নেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের অবস্থা দেখে অনেকে এগিয়ে আসতে চায়, অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করার জন্য এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের নামে দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে দেশকে দুর্বল করার জন্য। নববর্ষ যেন বাংলাদেশের মানুষের মনের সত্যিকারের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে আল্লাহর কাছে সে প্রার্থনাও করেন বলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। 

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় অফিসের সামনে নববর্ষবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। নতুন বাংলা বছর ১৪২৪ বরণ করতে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। জাসাসের অনুষ্ঠানে হাজার হাজার নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেয়। বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান সমাবেশে রূপ নেয়। 

বিকাল সাড়ে ৪টায় খালেদা জিয়া অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। গাড়ি থেকে নেমে সমবেতদের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। তবলা, হারমোনিয়াম, ডুগডুগি ও বাঁশিসহ নানা বাদ্য যন্ত্রের মূর্চ্ছনায় শুরু হয় পহেলা বৈশাখে অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে জাসাস শিল্পীরা ভাটিয়ালী, দেশাত্মবোধক ও বাউল গান পরিবেশন করেন।

সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, আজ শুভ নববর্ষ। আশা করি এই বছর সকলের জন্য সুন্দর হবে। নববর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সকল নেতাকর্মীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। এবং এই এলাকার জনগণ ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। নববর্ষ যাতে সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের মানুষের মনের যে প্রত্যাশা সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বেগম জিয়া বলেন, আজকে প্রয়োজন ঐক্যের, প্রয়োজন শান্তির, প্রয়োজন কল্যাণের। আসুন বাংলা নতুন বছরে আমরা আজকে শপথ করি, দেশের মানুষের দুঃখ-দুদর্শা দূর করবো এবং জনগণের কল্যাণ করবো।

দেশের মানুষ কষ্টে আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগের যে বৃষ্টি ও বাইরে থেকে পানি এসে আমাদের হাওর অঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। সেজন্য গরিব কৃষকদের পাশে গিয়ে আমাদের দাঁড়াতে হবে। তাদের সাহায্য করতে হবে তারা যেন এই দুযোর্গ কাটিয়ে উঠতে পারে।

খালেদা জিয়া বলেন, নববর্ষ যেন বাংলাদেশের মানুষের মনের সত্যিকারের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে। আমরা কী চাই ? আমরা চাই গণতন্ত্র, আমরা চাই উন্নয়ন, আমরা চাই শান্তি, আমরা চাই জনগণের কল্যাণ, প্রতিটি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা, শিক্ষা সুযোগ প্রদান ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা।

গণতন্ত্র ও জনগণের কল্যাণে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বিএনপি সব সময় জনগণের কল্যাণ ও জাতীয় ঐক্যের বিশ্বাস করে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব। আমরা দেশ থেকে বিদায় করবো সন্ত্রাস, গুম-খুন-হত্যা ও জঙ্গি হামলা বিদায় করবো। বিদায় করবো নানা রকম ষড়যন্ত্র। এসব বিদায় করে দেশে প্রতিষ্ঠা করবো শান্তি ও সুশাসন।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে কারো হস্তক্ষেপ জনগণ মেনে নেবে না এই সতর্ক বাণী উচ্চারণ করে খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশের অবস্থা দেখে অনেকে এগিয়ে আসতে চায়, অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করার জন্য এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের নামে দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে দেশকে দুর্বল করার জন্য।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে যখন ৮ কোটি লোক ছিলো নিজেরা ঐক্যবদ্ধভাবে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিল। আজকে ১৬/১৭ কোটি লোক ঐক্যবদ্ধ, তাদের কারোর সাহায্যের প্রয়োজন নাই। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আমরা সকলকে বন্ধু হিসেবে দেখতে চাই, কিন্তু কেউ যদি আমাদের বন্ধু হয়ে প্রভু হতে চায়, সেটা আমরা কখনো মেনে নেবো না, মানবো না। কারো প্রভুত্ব বাংলাদেশের মানুষ স্বীকার করবে না।

 শেখ হাসিনাকে স্বঘোষিত প্রধানমন্ত্রী আখ্যা দিয়ে তার ভারত সফরের প্রতি ইংগিত করে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, স্বঘোষিত প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, তিনি বেড়িয়ে এসেছেন কিন্তু নিজের দেশের মানুষের স্বার্থের কথা, নিজের দেশের মানুষের অধিকারের কথা বলতে পারেননি, কিছু করতে পারেননি। বরং আজকে তিনি নিজের দেশের মানুষের জন্য কিছু না করে দেশের মানুষের স্বার্থের কথা কিছু চিন্তা না করে নিজের দেশের সব কিছু অন্যের কাছে দিয়ে এসেছেন, তার বিনিময়ে কিছুই আনতে পারেননি।

এই সফরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, আমরা বলতে চাই, যদি তিনি সাহস করে শুধু একটা কথা বলতেই পারতেন, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা দেন, তাহলে আমি সমঝোতা করবো, তা না হলে করবো না। এটা বললে আমরা সবাই তার পাশে থেকে সাহস ও সমর্থন জানাতাম।

অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রুহুল কবির রিজভী বক্তব্য রাখেন। জাসাস সভাপতি অধ্যাপক মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক চিত্র নায়ক হেলাল খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড .খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তরিকুল ইসলাম, মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান, উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরী ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, নিতাই রায় চৌধুরী, আমানউল্লাহ আমান, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গাজী মাজহারুল আনোয়ার, আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ সিনিয়র নেতাদের ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, নুরে-আরা সাফা, আজিজুল বারী হেলাল, আমিনুল হক, হেলেন জেরিন খান, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, তাইফুল ইসলাম টিপু, নিপুন রায় চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম নিরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম বাদরু, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, রাজীব আহসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ