ঢাকা, রোববার 16 April 2017, ৩ বৈশাখ ১৪২৩, ১৮ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রাজশাহীতে মেডিকেল ছাত্রী রাউধার অপমৃত্যু-হত্যা মামলা সিআইডিতে 

 

রাজশাহী অফিস : রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের বিদেশী ছাত্রী রাউধা আথিফের (২১) মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সাথে রাউধার মৃত্যুর পর দায়ের করা অপমৃত্যুর মামলাটিও তদন্ত করবে সিআইডি। রাজশাহী সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান শুক্রবার সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

ড. নাজমুল করিম খান জানান, পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে চাঞ্চল্যকর এ দু’টি মামলা তদন্ত করবে সিআইডি। সিআইডি’র রাজশাহীর পরিদর্শক আসমাউল হককে মামলা দু’টি তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, শুক্রবার সকালেই সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা দু’টি মামলারই কাগজপত্র আগের তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বুঝে নিয়েছেন। মামলা দু’টি হলেও ঘটনা এক। তাই সিআইডি’র একজন কর্মকর্তাই দুই মামলার তদন্ত করবেন। পরে তদন্তে যা পাওয়া যাবে, এর উপর ভিত্তি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেবেন। গত ২৯ মার্চ রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে নিজের কক্ষে রাউধা আথিফের লাশ পাওয়া যায়। এরপর ৩১ মার্চ তার পরিবারের সম্মতিতে ময়নাতদন্ত শেষে নগরীর হেতেম খাঁ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এমবিবিএস ১৩তম ব্যাচের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন রাউধা আথিফ। বিদেশী কোটায় ভর্তির পর গত বছরের ১৪ জানুয়ারি ছাত্রী হোস্টেলের দ্বিতীয় তলার ২০৯ নং কক্ষে উঠেছিলেন তিনি। এ ঘটনায় ওই দিনই কলেজ কর্তৃপক্ষ বাদি হয়ে নগরীর শাহ মখদুম থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে। রাউধার লাশ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাকে রাজশাহীতে দাফন করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এরপর মালদ্বীপের দুই পুলিশ কর্মকর্তা রাজশাহীতে গিয়ে ঘটনা তদন্ত করেন। দেশে ফিরে গিয়ে তারা জানান, রাউধাকে হত্যার কোনো প্রমাণ পাননি। এদিকে, রাউধার মৃত্যুর ঘটনায় কলেজের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সে কমিটিও তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, রাউধা আত্মহত্যা করেছেন। তবে গত ১০ এপ্রিল তার বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফ রাজশাহীর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, রাউধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মামলায় রাউধার বান্ধবী সিরাত পারভীন মাহমুদকে (২১) একমাত্র আসামী করা হয়েছে। সিরাতের বাড়ি ভারতের কাশ্মীরে। তবে সিরাতের বিরুদ্ধে মামলা হলেও তাকে শনিবার পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি। তাকে গ্রেফতার করা হবে কী না সে ব্যাপারেও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পুলিশ।

পুলিশ জানায়, রাউধার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলাটি তদন্ত করছিলেন শাহ মখদুম থানার পরিদর্শক আনোয়ার আলী তুহীন। আর অপমৃত্যুর মামলাটি তদন্ত করছিলেন মহানগর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক রাশিদুল ইসলাম। বর্তমানে তা সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। এদিকে, রামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে অন্য কোথাও কোনো আঘাত বা নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ