ঢাকা, রোববার 16 April 2017, ৩ বৈশাখ ১৪২৩, ১৮ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সরকার রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে -মীর্জা ফখরুল

নেত্রকোনা সংবাদদাতা : বিএনপি’র মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারি দলের নেতাকর্মীদের লুটপাটের কারণেই সময়মত সঠিকভাবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ না করায় বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে বাঁধ ভেঙ্গে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের একমাত্র বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা আজ সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা সারা বছর কি খেয়ে বাঁচবে, কি করে সংসার চালাবে, আর কিভাবেই ব্যাংক কিংবা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে নেয়া ঋণ পরিশোধ করবে, তা ভেবে দিশেহারা হয়ে পড়ছে। তারপরও সরকার কিংবা মন্ত্রী এমপিরা ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে না। কৃষকদের বাঁচাতে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি অসহায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের রক্ষায় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পর্যাপ্ত ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি ব্যাংক ঋণ মওকুফ, ভাসান পানিতে মাছ ধরার অধিকার এবং আগামী বোরো ফসল না উঠা পর্যন্ত কৃষকদেরকে সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা প্রদানের জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানান। তিনি গতকাল শনিবার আগাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী উপজেলা পরিদর্শনে যাবার পথে বেলা ১১টার দিকে নেত্রকোনার ছোট বাজারস্থ জেলা বিএনপি অফিসে মতবিনিময় সভায় দলীয় নেতা-কর্মীর উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন। 

জেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক এমপি আশরাফ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক ড্যাব নেতা ডাঃ আনোয়ারুল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মত বিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, কেন্দ্রীয় নেতা মফিদুল হক তৃপ্তি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক এমপি গোলাম রব্বানী, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু, জেলা বিএনপির সাবেক সম্পাদক আবু তাহের তালুকদার, এডভোকেট মাহফুজুল হক, বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য এডভোকেট ড. আরিফা জেসমিন নাহীন, এটি এম আব্দুল বারী ড্যানী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মনিরুজ্জামান দুদ, কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ভূইয়া দুলালসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরো বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে তিনি বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনে এসেছেন। তিনি বলেন, দেশে এখন গণতন্ত্র নাই, কথা বলার স্বাধীনতা নাই। সরকারের অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বললেই নেমে আসে অত্যাচার নির্যাতন। বর্তমান সরকার মামলাবাজ সরকার। সরকার বিরোধী দলকে নিমূর্লের লক্ষ্যে দলীয় নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়েরের পাশাপাশি অপহরণ, গুম, খুন অব্যাহত রেখেছে। আমাদের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬টি মিথ্যা মামলা চালানো হচ্ছে। সরকার রাষ্ট্রীয় অর্থ ও প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালালেও বিএনপিকে শান্তিপূর্ণ সভা সমাবেশ করতে দিচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন পরিচালনার সময় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে সকল দলের অংশ গ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হলেই কেবল বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিবে। অন্যথায় আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। তিনি সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীলতার মাধ্যমে দলকে তৃণমূল পর্যায়ে আরো বেশি সুসংগঠিত করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করার উদাত্ত আহবান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ