ঢাকা, রোববার 16 April 2017, ৩ বৈশাখ ১৪২৩, ১৮ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নবীগঞ্জে বোরো ফসল হারিয়ে কৃষককুল অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন

নবীগঞ্জ সংবাদদাতা : আগাম কালবৈশাখির ঝড়, অকাল বন্যার পানিতে নবীগঞ্জের কৃষককুলের বোরো ফসল হারিয়ে অসহায়ত্ব ভাবে দিনতিপাত চালাচ্ছেন। অনেকে ইতিমধ্যেই পরিবার পরিজন নিয়ে পেটভরে আহার করাতো দুরের কথা ক্ষুধার্ত অবস্থায় থাকতে দেখা যাচ্ছে। এদের মধ্যে অনেকে বাজার থেকে আটা, চিড়া এনে তাদের পরিবারের হাতে তোলে দিচ্ছেন। এমন ও দেখা গেছে- কৃষককুল উচ্চ হারে সুদের টাকা পরিশোধ ও বিভিন্ন এনজিও সংস্থার কিস্তি চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে অনেকে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে বাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন এবং অনেকে দেই দিচ্ছি বলে সময় পাড় করছেন। একদিকে যেমন পরিবারের ভরন-পোষণ চালানোর চাপ। অপরদিকে ঋণ পরিশোধের ও চাপ। জানা গেছে-হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ও গ্রামের নিরীহ কৃষককুল তারা তাদের মনে বড় আশা বেঁধে এ বছর বোরো ফসল ফলিয়ে ছিলেন এবং ফলন ভালো হয়েছিল। কিন্তু আগাম কালবৈশাখীর ঝড়, অকাল বন্যা, অনাবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে তাদের স্বপ্ন ভেঙ্গে এখন তারা পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। বিভিন্ন গ্রামের নি¤œবিত্ত- মধ্যবিত্ত আয়ের লোকেরা এখন বাজার থেকে আটা, চিড়া এনে তাদের পরিবারকে দিচ্ছেন। অনেকে আবার এসব দ্রব্য ক্রয় করার মতো কোন টাকা না পেয়ে নিরবে অনাহারে ও অর্ধাহারে দিন যাপন করতে দেখা গেছে। বিশেষ করে দীঘলবাক ইউনিয়নের মাধবপুর-গালিমপুর, রাধাপুর, ফাদুল্লাহ স্বস্থিপুর বহরমপুর, রঘুদাউদপুর, দাউদপুর, কারখানা, বোয়ালজোরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম মিলে প্রায় ৩০/৪০টি গ্রামের লোকেরা তাদের একমাত্র বোরো ফসল অকাল বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তারা দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন। এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোন ধরনের সাহায্য সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করছেন বন্যায় কবলিত এলাকার লোকজন। আরো অভিযোগ রয়েছে ইতোমধ্যে যারা বিভিন্ন সংস্থা যেমন-ব্র্যাক, আশা, গ্রামীণ এবং বিভিন্ন ব্যাংক থেকে যারা ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে বোরো ফসল করেছিলেন তাদেরকে কিস্তি ও ঋণ পরিশোধ করার তাগিদ দেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ