ঢাকা, রোববার 16 April 2017, ৩ বৈশাখ ১৪২৩, ১৮ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় পৌনে তিন হাজার একর জমির ধান ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত

 

খুলনা অফিস : খুলনায় এ বছর ধানে মহামারি আকারে ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। জেলার কয়রা ও দাকোপ উপজেলা বাদে বাকি উপজেলাগুলোতে এর প্রভাব বেশী। এ অঞ্চলের প্রায় পৌণে তিন হাজার হেক্টর জমির ধানে এ রোগ দেখা দিয়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা। মৌখিক পরামর্শ ছাড়া তারা কর্তৃপক্ষ থেকে অন্যকোন সহযোগিতা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে।

খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, খুলনা মেট্রো এলাকাসহ ৯ উপজেলায় এ বছর ৫২ হাজার তিনশ’ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ব্লাস্ট আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ২হাজার ৭৭ একর জমির ধানে। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে দুই লাখ ১০ হাজার ৭২১ মেট্রিক টন চাল। এ রোগ দমনে সরকারি কোন সহযোগিতা পাচ্ছে না কৃষকরা। 

অধিদপ্তর বলছে, ধানের জাত ভেদের কারণে এ রোগ আক্রমণ করেছে। সব ধানের জাত ব্লাস্ট আক্রান্ত হচ্ছে না। একই জমিতে বিভিন্ন জাতের ধানের মধ্যে ব্রি-৬১, ব্রি-২৮ ধানে এ রোগ আক্রমণ করেছে। যে সমস্ত জমি সারা বছর ধরে মাছ চাষের পাশাপাশি এ মওসুমে ধান চাষ করে সেখানে এ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। এদিকে এ রোগের কারণে কৃষকদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা। অনেকেই ঋণসহ বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহ করে বোরোর চাষ করেছেন। ব্লাস্টের প্রভাবে অনেক ক্ষেতের ধান একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। শূন্য হাতে ঘরে ফিরতে হবে বলে অনেক কৃষকের অভিমত। ওদিকে ঘাড়ের ওপর ঋণের বোঝা।

বটিয়াঘাটা উপজেলার গঙ্গারামপুর ইউনিয়নের মনিরুল, রুহুল আমিন, আনিস বিশ্বাসসহ কয়েকজন কৃষক জানিয়েছেন, এবছর ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। এ রোগে ক্ষেতের প্রায় চার আনা ধানই নষ্ট হয়ে গেছে। সব ধান চিটা হয়ে গেছে। খরচ ওঠা নিয়ে তারা সংশয় প্রকাশ করেছে।

ডুমুরিয়া উপজেলার রংপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল জব্বার বলেন, ১২ বিঘা জমিতে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। রোগের কারণে সব শেষ। না খেয়ে মাঠেই পড়ে থাকতে হবে। দেনা শোধ করা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।

তবে এ রোগ নিয়ে কৃষি বিভাগের তৎপরতাও শুধু পরামর্শের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কৃষি বিভাগ রোগ দমনের জন্য কৃষকদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠক ও সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর’র উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল লতিফ জানান, ব্লাস্ট রোগ দমনের জন্য আমরা সর্বদা তৎপর আছি। এ পর্যন্ত কৃষি বিভাগের পরামর্শে ৫২৫ হেক্টর জমির ধানের রোগ অনেকটা দমন হয়েছে। বাকি জমির ধান রক্ষার জন্য রোগ দমনের চেষ্টা চলছে।

এ ব্যাপারে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্লান্ট প্যাথলোজিষ্ট প্রফেসর মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, বীজ, বাতাস ও পোকার আক্রমণে এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে ধান। রোগাক্রান্ত মাঠের বীজতলা অথবা ক্ষেতে এ রোগ দেখা দিয়ে জমিতে পর্যাপ্ত পানি সংরক্ষণ করতে হবে, আক্রান্ত জমিতে হেক্টর প্রতি ৮০০মিলিলিটার (বিঘাপ্রতি একশ’ মিলিলিটার) হিনোসান অথবা হেক্টর প্রতি ২ দশমিক কেজি (বিঘা প্রতি ৩০০গ্রাম) বেনলেট বা টপসিন এম স্প্রে করতে কৃষককে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ