ঢাকা, রোববার 16 April 2017, ৩ বৈশাখ ১৪২৩, ১৮ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রামে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার মধ্যদিয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রামে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর ডিসি হিল,রেলওয়ের সিআরবির শিরিষতলা,পতেংগা সমুদ্র সৈকত, অভয়মিএ ঘাট,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চুয়েট সহ বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও খাদ্য উৎসবের আয়োজন করা হয়। সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মংগলশোভাযাত্রা, বৈশাখী অনুষ্টানমালার আয়োজন করে। এবারে শ্লোগন ছিল ‘বাঙালীর বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ অর্থ প্রাচুর্য্যে নয়, প্রাণ প্রাচুর্য্যে ভরে উঠুক।’ চৈত্র সংক্রান্তী আর পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে বাংলা সেদিন রঙ্গিনভাবে সেজে ওঠে। বাঙালী সংস্কৃতির উপর আঘাৎ, মৌলবাদ ও সাম্প্রদিয়কতা জঙ্গিবাদ এর মতো অপশক্তির অন্ধকার কাটিয়ে নতুন আলোয় আলোকিত করতে হবে বাংলাকে। কেন্দ্রিয় রেলভবন (সিআরবি)’র শিরীষতলায় দৈনিক আজাদী’র সহায়তায় নববর্ষ উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’-শীর্ষক বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ ১৪২৪ এর আয়োজন করে। সকাল ৭.৩০ মিনিটে ভায়োলিনিস্ট চিটাগাং এর বেহালায় ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ গানের মূর্ছনায় পহেলা বৈশাখকে স্বাগত জানানো হয়। এরপর একে একে দলীয় পরিবেশনায় অংশ নেয় সংগীত ভবন, উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদ, বোধন আবৃত্তি স্কুল, অবকাশ ধারা শিল্পী সংস্থা, সুন্দরম শিল্পীগোষ্ঠী, খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগর, প্রমা আবৃত্তি সংগঠন, চারুতা নৃত্যকলা একাডেমি। দুপুরের নামায ও খাবারের বিরতির পর ২টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ২য় পর্বে সম্পন্ন হয়। এছাড়াও বিকালে সাহাবউদ্দিনের বলীখেলা কেন্দ্র করে আরেক আনন্দ জোয়ারে ভেসে উঠে পুরো সিআরবি চত্বর। পুরো সিআরবি চত্বর জুড়ে জমায়েত হওয়া দর্শকরা সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

 চট্টগ্রামের ডিসি হিলে বর্স বরণের বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা সম্পন্ন হয়েছে। এতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নেন।কঠোর পুলিশ ও র‌্যাব প্রহরার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সব অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। পহেলা বৈশাখে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ বাতাসা ও মিনারেল ওয়াটার উপহার দিয়েছে সাধারণ মানুষকে। বিভিন্ন অভিজাত হোটেল রেস্তোরায় বিশেষ খাদ্য উৎসবের আয়োজন করা হয়।

 চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে দিনব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে বর্ণিল আয়োজনে সংশি¬ষ্ট সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পহেলা বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ উদযাপন করা হয়।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) বর্ণিল আয়োজনে উৎসব হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটায় চুয়েট গোলচত্বরে বৈশাখী শোভাযাত্রার মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চুয়েটের ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম। শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিপুলসংখ্যক শিশুকিশো অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি চুয়েট আবাসিক গোলচত্বর থেকে শুরু হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে চুয়েট বৈশাখী মঞ্চে বর্ষবিদায়ের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ‘প্রাণের বন্ধনে বৈশাখ’ শীর্ষক দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল পান্তা-ইলিশ, বাউল উৎসব, ঘুড়ি উৎসব, শিশু-কিশোরদের অনুষ্ঠান, লটারি ড্র, বৈশাখের আলোচনা, সাংস্কৃতিক ও লোকসঙ্গীতের অনুষ্ঠান।

১৪ এপ্রিল ঐতিহ্যবাহী পোর্ট কলোনি সবুজ সংঘের উদ্যোগে বাঙলা ১৪২৪ সনের পহেলা বৈশাখ সংঘ প্রাঙ্গনে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করা হয়। বর্ষবরণের এই উৎসবে সংঘ সভাপতি খুদরত-ই-খুদা (মিল্লাত)’র সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুন্নবীর সঞ্চালনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র‌্যাফেল ড্র আয়োজন করা হয়। বর্ণিল এ অনুষ্ঠানে যুগ যুগ বছর ধরে বহমান বাঙালী সংস্কৃতির বিভিন্ন ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। সংঘ পরিবারের সদস্যদের মিলনমেলায় বাঙালীর প্রাণের উৎসব নববর্ষের এ আয়োজন অত্যন্ত আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়।

এদিকে শনিবার সকাল সাতটা থেকে দেশের সবচেয়ে বড় ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার খ্যাত খাতুনগঞ্জ-চাক্তাইয়ে হালখাতা উৎসব শুরু হয়। এখানকার প্রায় এক হাজার দোকান-প্রতিষ্ঠানে হয় হালখাতা উৎসব। ব্যবসায়ীরা জানান, খাতুনগঞ্জ-চাক্তাইয়ে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় চার হাজার দোকান, আড়তসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে এক চতুর্থাংশ অর্থাৎ এক হাজার প্রতিষ্ঠানে চলছে হালখাতা উৎসব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ