ঢাকা, সোমবার 17 April 2017, ৪ বৈশাখ ১৪২৩, ১৯ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাড়তি ভাড়া ও পরিবহন সংকটে পণবন্দী যাত্রীরা

 

স্টাফ রিপোর্টার : সিটিং-গেটলক সার্ভিস বন্ধ করা হলেও ভাড়া কমায়নি পরিবহন মালিকরা। লোকাল বাসের মতো যত্রতত্র থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করালেও ভাড়া আদায় করছেন সিটিং সার্ভিসের মতোই। বাংলাদেশ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা অনুসরণ না করেই ইচ্ছে মতো ভাড়া আদায় করেছে পরিবহন শ্রমিকরা। চলাচলকারী বাসের মধ্যেও ভাড়ার কোন তালিকা ছিল না। একারণে ভাড়া আদায় নিয়ে প্রথমদিনেই পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে বচসা হয়েছে যাত্রীদের। 

বিআরটিএর ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযানের খবরে আগের তুলনায় গাড়ির সংখ্যাও ছিল কম। ফলে বেশি ভাড়া এবং পরিবহন সংকটে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে কর্মজীবীদের। গাড়ি সংকটে নিরুপায় কর্মজীবীদের বাদুর ঝোলার মতো ঝুলে যাতায়াত করতে হয়েছে। নারী ও স্কুল কলেজগামী শিশুদেরও পোহাতে হয়েছে দুর্ভোগ। তাদের অভিযোগ গণপরিবহণের সেবার মান না বাড়িয়ে হঠাৎ করে সিটিং সার্ভিস বন্ধ করে দেয়ায় দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে তাদের। 

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, আগারগাঁও, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার মোড়, শাহবাগ ও রমনা এলাকায় বাসে থাকা এবং অপেক্ষমাণ যাত্রীদের অভিযোগ, সিটিং সার্ভিস বন্ধ হলেও বাসগুলো ভাড়া কমায়নি বরং লোকাল বাসের মতো যেখানে সেখানে যাত্রী তুলছে। আর সর্বনিম্ন সাত টাকা ভাড়া থাকলেও বাসের কর্মচারীরা অনেক ক্ষেত্রেই এর চেয়ে বেশি নেয় বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

সরকারের ঘোষণায় রাজধানীতে গতকাল রোববার থেকে সিটিং সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে ফিটনেসবিহীন ও গাড়ির বাম্পার অপসারণ করতে অভিযানে নামে বিআরটিএ। দুটি বিষয় সামনে রেখে নগরীতে নামে পাঁচটি ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাদের সহায়তা করে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে বেশিরভাগ অভিযোগই ছিল বাড়তি ভাড়া আদায় ও সিটিং সার্ভিস-গেটলক সংক্রান্ত। 

সিটিং ও গেটলক সার্ভিস বন্ধ করা হলেও গণপরিবহন পরিবহন ব্যবস্থার সেবার মান না বাড়ানোয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে যাত্রীদের মধ্যে। তাদের মতে সিটিং সার্ভিস বন্ধ করায় দুরপাল্লার যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়বে। লেঅকাল বাস থেমে থেমে চলে ফলে যারা মিরপুর থেকে মতিঝিল বা গাজীপুর থেকে ফার্মগেট আসবে তাদের গন্তব্যে পৌছতে আগের চেয়ে বেশি সময় লাগবে। আর যানজটে পড়লেতো ভোগান্তির সীমা থাকবে না। 

কাওরানবাজারে কথা হয় বাসযাত্রী ইকবাল আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, সব ধরণের বাস সার্ভিস থাকা উচিত। যে যেমন সুবিধা দেবে, সেটা বিবেচনা করে যাত্রীরা চড়বে। বাসের ধরণ হওয়া উচিত পয়েন্ট টু পয়েন্ট, স্টপেজ ভিত্তিক। কিন্তু যে ধরনের হোক না কেন, সিটির অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া উচিত নয়, সিটিং সার্ভিস অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বস্তিদায়ক। গণপরিবহনকে মানসম্মত করতে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

বাংলামোটর মোড়ে কর্মজীবী নারী আরিফা ফেরদৌস বলেন, কর্মজীবীদের জন্য অফিস সময়ে সরাসরি বাস সার্ভিস দরকার। যানজটের এই শহরে অফিসে সময়ে সব স্টপেজে বাস থেমে থেমে গেলে কতটা সময় নষ্ট হবে, সেটা বিবেচনা জরুরি। তিনি বলেন, আমার পরিচিত অনেক নারী আছেন যারা গাজীপুর থেকে বাসে চড়েও অফিস করেন। এখন সব স্টপেজে থেমে থেমে বাস চললে কী অবস্থা হবে?

লোকালেও বাড়তি ভাড়া

যাত্রাবাড়ী-মিরপুর রুটে চলাচল করা ১৫ নম্বর বাস যাত্রাবাড়ী থেকে সকালে সিটিং সার্ভিস হিসেবে যাতায়াত করত। ফার্মগেট পর্যন্ত যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নেয়া হতো ১৫ টাকা। পথিমধ্যে যেখানেই নামুক যাত্রীদের সর্বনিম্ন এই ১৫ টাকা ভাড়া গুনতে হতো। সিটিং সার্ভিস বন্ধ করায় রোববার এ পরিবহনটিও লোকালে চলাচল করেছে। তবে কমেনি ভাড়ার পরিমাণ। ফার্মগেট পর্যন্ত যাত্রীদের কাছ থেকে ১৫ টাকা আদায় করা হচ্ছে। যারা মতিঝিল বা তারও কম দূরত্বে যাচ্ছেন তাদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে ১০ টাকা। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মতিঝিলগামী একজন ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, সিটিং সার্ভিসের নামে চিটিংবাজি হচ্ছে। প্রত্যেক যাত্রীর কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। অথচ নির্ধারিত সিটের বাইরে প্রায় ২০-২৫ জন যাত্রী বেশি নিয়ে তারা গন্তব্যে রওনা দিচ্ছে।

একই ধরণের বক্তব্য মিরপুরগামী একজন বেসরকারি চাকরিজীবীরও। তিনি বলেন, সবকিছুতে একটা সিস্টেম থাকা দরকার। এখানে কোনো সিস্টেম নেই। পরিবহন ব্যবস্থায় যাই হোক, যাত্রীরাই ভুক্তভোগী হন। মাঝেমধ্যে মনে হয়, বিআরটিএ পরিবহন মালিকদের নয়, বরং পরিবহন মালিকরাই বিআরটিএ চালায়।

তবে মিরপুর-১২ থেকে মতিঝিলগামী হাজী পরিবহণের এক যাত্রী সকালে বলেন, আমি প্রতিনিয়তই এই বাসে যাতায়াত করি। ফার্মগেট পর্যন্ত আমাকে ১৫ টাকা দিতে হতো। যেখান থেকেই ওঠেন, সোনারগাঁ পর্যন্ত একই টাকা। আজ দেখলাম ১০ টাকা নিচ্ছে। জায়গায় জায়গায় লোক ওঠাচ্ছে। সিটিং সার্ভিস চলছে না।

যাত্রাবাড়ী মোড়ে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত অবস্থান করে দেখা যায়, সকালের দিকে যখন যাত্রীর চাপ কম ছিল সে সময় কয়েকটি ১৫ নম্বর পরিবহন যাত্রী সিটিং নিয়ে চলাচল করে। তবে সকাল সাড়ে ৯টার পর যাত্রীদের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবহনটির সিটিং চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

আর লোকাল চলাচল শুরুর পর থেকেই পরিবহনটি যাত্রী গাদাগাদি করে নেয়া শুরু করে। যাত্রী ভর্তি না হওয়া পর্যন্ত যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে গাড়ি ছাড়া হচ্ছে না। ভেতরের সব জায়গা পূর্ণ হওয়ার পর গেটে কয়েকজন বাদুরের মতো ঝোলাঝুলি করার পর ছাড়া হচ্ছে ১৫ নম্বর পরিবহন।

যাত্রাবাড়ী থেকে থেকে শিকড়, কোমল, শ্রাবণ, লাব্বাইকসহ প্রতিটি পরিবহনে বাদুরের মতো ঝুলিয়ে যাত্রী নেয়া হচ্ছে। অথচ মালিকদের দাবির প্রেক্ষিতে সরকারের ভাড়া বাড়ানোর অন্যতম শর্ত ছিল লোকাল বাসে ৮০ শতাংশ আসন পূর্ণ হলেই চলাচল করবে। সরকারের এ শর্তকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে রাজধানীতে চলাচল করছে প্রতিটি পরিবহন। 

সরকার নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী, মিনিবাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ টাকা। আর বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ৭ টাকা। চালকসহ যে বাসের সর্বোচ্চ ৩১টি সিট থাকবে তা মিনিবাস হিসেবে গণ্য হবে। আর ৩১টির বেশি সিট থাকলে তা বাস হিসেবে বিবেচিত হবে। সর্বনিম্ন ভাড়ার পাশাপাশি সরকার প্রতি কিলোমিটারের ভাড়াও এক টাকা ৪২ পয়সা নির্ধারণ করে দিয়েছে।

সে হিসেবে যাত্রাবাড়ী থেকে মতিঝিল ও গুলিস্তানের ভাড়া হওয়ার কথা সর্বোচ্চ সাড়ে ৫ টাকা। কারণ যাত্রাবাড়ী থেকে মতিঝিল ও গুলিস্তানের দূরত্ব তিন কিলোমিটারের মতো। কিন্তু গুলিস্তান ও মতিঝিল রুটে চলাচল করা পরিবহনগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া বাবদ আদায় করছে ১০ টাকা। তবে কিছুটা ব্যতিক্রম গাবতলী রুটে চলাচল করা ৮ নম্বর। এ পরিবহনটি আগের মতোই মতিঝিল পর্যন্ত ৫ টাকা ভাড়া নিচ্ছে।

বাড়তি ভাড়া ও বাদুরঝোলা করে যাত্রী ওঠানোর বিষয়ে ১৫ নম্বর পরিবহনের ওই শ্রমিকের কাছে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এখন সিটিং বন্ধ। লোকাল চালাইতে বলছে। তাই আমরা লোকাল চালাচ্ছি। আর লোকাল পরিবহন এভাবেই চলাচল করে। প্রতিটি স্টপেজে ৫-৭ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকবে। যার ভালো লাগে সে যাবে। যার ভালো লাগবে না সে যাবে না। লোকাল পরিবহনে ওঠার শখ হয়েছে, এখন দেখুক লোকাল পরিবহনে কত মজা।

শ্রাবণ পরিবহনের শ্রমিক মো. আসাদুল বলেন, আমরা লোকাল ভাড়াই নিচ্ছি। যাত্রাবাড়ী থেকে গুলিস্তানের ভাড়া ১০ টাকা। আজ যাত্রীদের কাছ থেকে ১০ টাকায় ভাড়া নেয়া হচ্ছে। শুধু আমরা না সবাই গুলিস্তান পর্যন্ত ১০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে। গেটে যাত্রী ঝুলিয়ে নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা তো কাউকে জোর করে তুলছি না। যাত্রীরা ইচ্ছা করেই উঠছে। যাত্রীরা এভাবে ঝুলে গেলে আমাদের কী করার আছে।

মালিক সমিতির ঘোষণা অনুযায়ী, রোববার থেকে সিটিং সার্ভিস বন্ধ করে লোকাল হিসেবে বাস প্রতিটি স্টপেজে দাঁড়াবে এবং লোকাল হিসেবে ভাড়া নেবে। এদিন থেকে ঢাকায় কোনো বাস সিটিং সার্ভিস হিসেবে চলবে না এবং সে অনুযায়ী ভাড়াও আদায় করা যাবে না। এক্ষেত্রে বিআরটিএ দেয়া ভাড়ার চার্ট অনুযায়ী তা আদায় করতে হবে। কিন্তু কোনো পরিবহনই এ নিয়ম মানছে না।

সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর কল্যাণপুরে দেখা যায়-ওয়েলকাম, লাব্বাইক, স্বজন, ইন্টারসিটি, নিউভিশন, তানজিল, মিরপুর মিশন, বসুমতি, পরিস্থান, এভারেস্ট, দিশারী, বিকল্প, আশীর্বাদসহ অধিকাংশ বাসই নিয়মের তোয়াক্কা না করে সিটিং সার্ভিস হিসেবে আগের মতো চলাচল করছে। লোকাল হিসেবে যাত্রী তুললেও ভাড়া আদায় করা হচ্ছে সিটিং সার্ভিসের।

সিটিং সার্ভিস বন্ধ করে সব বাস লোকাল হিসেবে চলাচলের বিষয়টি জানেন না অনেক যাত্রী। অনেকে জানলেও বাসের ভেতর কোনো ভাড়ার তালিকা না থাকায় আগের মতোই ভাড়া মেটাতে বাধ্য হচ্ছেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত

এদিকে বিআরটিএ পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারণে রাজধানীতে সকাল থেকেই গণপরিবহনের সংখ্যা একটু কম। কাকরাইলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) এর সামনে থাকা বিআরটিএ-এর ভ্রাম্যমাণ আদালত-২ বেশ কিছু সিটিং সার্ভিস ও গেটলক বাস আটক করে। বাসগুলোকে আটক করে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলা হয়। তাদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর জরিমানা ও মামলা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত-২ এর ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম একথা জানান।

ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম জানান, সকাল ৮টা থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরু হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মামলা হয়েছে ৩০টি। মামলার বেশিরভাগই সিটিং সার্ভিস ও গেটলক সংক্রান্ত। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৩৯ ও ৪০ ধারা অনুযায়ী অতিরিক্ত ভাড়া গ্রহণ করায় মামলা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি মোটরযান অধ্যাদেশ অনুযায়ীও গাড়ির ফিটনেস, ব্লবুক, ড্রাইভিং লাইসেন্স ঠিক না থাকায় এবং বাম্পার ও অ্যাঙ্গেল থাকার কারণে মামলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মোটরযান অধ্যাদেশ অনুযায়ী ঢাকায় কোনও সিটিং সার্ভিস অথবা গেটলক বা বিরতিহীন বলতে কিছু থাকবে না। ভাড়া আদায় হবে বিআরটিএ-এর নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী।

অভিযানে কী কী অনিয়ম পাচ্ছেন জানতে চাইলে আগারগাঁওয়ে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনিব রহমান বলেন, সকাল সাড়ে দশটা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত মোট ৩২টি মামলা করেছেন। এর মধ্যে ২৩টি বাসের বিরুদ্ধে। বাসগুলোর বিরুদ্ধে বেশি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ যেমন করেছেন যাত্রীরা, তেমনি অনেক বাসে ভাড়ার তালিকা ছিল না। কয়েকটি বাসের ওপরে ক্যারিয়ার পাওয়া গেছে। আর বাম্পার না খোলায় সাতটা লেগুনাকে জরিমানা করা হয়। এসব ঘটনায় ৬৯ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তবে কোনো বাসেরই গেট বন্ধ বা সিটিং পাওয়া যায়নি।

বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঢাকায় একযোগে আসাদগেট, আগারগাঁও, বিমানবন্দর রোড, যাত্রাবাড়ী ও আইইবির সামনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে। 

ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, আমরা পাঁচটি দলে বিভক্ত হয়ে অভিযানে ছিলাম। আমি নিজে দুটি জায়গায় ছিলাম। এটা ঠিক, কিছু বাসে ভাড়ার তালিকা ছিল না। কিছু বাসের বিরুদ্ধে বাড়তি ভাড়া নেয়ারও অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিনের অনিয়ম তো এক দিনে বন্ধ হবে না। তবে আমরা প্রতিদিনই অভিযানে থাকব। এভাবে চললে আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে।

গত ৪ এপ্রিল ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতি সাংবাদিক সম্মেলনে সিটিং সার্ভিস বাতিল করার ঘোষণা দেয়। 

ওইদিন সংগঠনটি জানিয়েছিল, ১৫ এপ্রিলের পর যাত্রীদের কাছ থেকে কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া যাবে না। ভাড়ার তালিকা বাসের ভেতর দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখতে হবে। ছাদের ওপরে ক্যারিয়ার, সাইড অ্যাঙ্গেল ও ভেতরের অতিরিক্ত আসন খুলে ফেলতে হবে। প্রতিটি বাস ও মিনিবাসে নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা আসন সংরক্ষণ করতে হবে। এক মাসের মধ্যে রংচটা, রংবিহীন, জরাজীর্ণ বাস মেরামত করে রাস্তায় নামাতে হবে। তবে অনেকেই এখনো সেগুলো মানছেন না। 

মোটরযান আইন অনুসারে, সিটিং সার্ভিস বলে কিছু নেই। চালকের আসনসহ মিনিবাসে ৩১টি আসন থাকবে। আর বিআরটিএ পরিবহন খাতের ২০টি বিষয়ে ব্যয়ের খাত বিশ্লেষণ করে বাস-মিনিবাসের ভাড়া নির্ধারণ করে। সর্বশেষ ব্যয় বিশ্লেষণে, প্রতিটি বাস-মিনিবাসের ৮০ শতাংশ আসন পূর্ণ হয়ে চলাচল করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ